১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ - রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর , ২০১৮
Breaking News
Download http://bigtheme.net/joomla Free Templates Joomla! 3
Home / সারা দেশের খবর / বিভাগের খবর / চট্টগ্রাম / মাত্র ১৫ বছর বয়সী সফুরকে আপন বোনের ধর্ষণের আসামী বানালো পুলিশ

মাত্র ১৫ বছর বয়সী সফুরকে আপন বোনের ধর্ষণের আসামী বানালো পুলিশ

ctg Sofur  05.12.15চট্টগ্রাম, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৫ (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): মাত্র ১৫ বছর বয়সে ধর্ষণের আসামী হলো সফুর। তাও নিজের বোনকে ধর্ষণের অপরাধে। ধর্ষিতা মেয়েটি ইতোমধ্যে ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা! ঘটনাটি প্রতিটি সচেতন মানুষের কাছে অবিশ্বাস্য হলেও পুলিশের কাছে স্বাভাবিকই মনে হয়েছে। তাই সফুরকে আপন বোনের ধর্ষক হিসেবে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। এরপর ৫ মাস ২৫ দিন জেল খাটতে হলো সফুরকে।

যেহেতু ছেলেটির পরিববার দরিদ্র, তার কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায়? পুলিশের কাছে পানির মতো সোজা। ঠিক সেভাবেই নাটক সাজানো হলো। ইলেকট্রিক শক দিয়ে বোনকে ধর্ষণের স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে তার মাকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হলো। না মা’কে মারতে দেবে না সফুর। সাদা কাগজে স্বাক্ষর দিয়ে ধর্ষক হয়ে গেল। কিন্তু অন্তরের রক্তক্ষরণ যে একদিন প্রতিবাদের স্ফুলিঙ্গ হয়ে দেখা দেবে ভাবতে পারেনি পুলিশ। জামিনে ছাড়া পেয়ে আজ শনিবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সব খুলে বলল গফুর। আর মায়ের আঁচলে মুখ লুকিয়ে কাঁদতে লাগল উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে। ভাগ্যিস বয়স তার এখনো ১৫। না হলে এই অপমান, এই নির্যাতন…আর লজ্জার প্রতিক্রিয়ায় থুথু দিয়ে পুরো সমাজকে ডুবিয়ে দিলে কিছু করার থাকত না। হয়ত আমাদের মাথার উপর থুথু’র স্তরণ রয়েছে, যা চোখে দেখা যায় না। একদিন হয়ত সেটাও দেখা যাবে। কারণ, সফুর কাঁদলে আমাদের সমাজ কাঁদে না।

পুলিশ অপরাধী ধরার ক্ষেত্রে কতটা পটু সেটা হয়ত সচেতন মানুষ মাত্রই জানেন। তবে নাট্যকার হিসেবে পুলিশের আর্বিভাব অনেককে ভাবাচ্ছে। কিন্তু পুলিশি নাটকের উপসংহার বার বার পরিবর্তন করে দিচ্ছে সমাজের অতি নিচু(?) অবস্থানে থাকা কতিপয় বিবেবকবান মানুষ। তাই তাদের প্রতি পুলিশের বড় ক্ষোভ।

গুলশানে গাড়ী চাপা দিয়ে চারজনকে আহত করা সাবেক সংসদ সদস্য ডা. এইচবিএম ইকবালের ভাতিজা ফারিজ রহমানকে বাঁচাতে (সেভ) পুলিশের তৎপরতা দেশবাসীকে অবাক করেছিল। তবে কেউ কেউ হয়ত শিশুর প্রতি পুলিশের দরদ দেখে মুগ্ধও হয়েছিলেন।

সিলেটে গত ৮ জুলাই চোর সাজিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয় শিশু সামিউল আলম রাজনকে। আদরের সন্তানকে পিটিয়ে হত্যা করলে পিতার কেমন লাগে সে অনুভূতি হয়ত পুলিশের হয়নি। তাই রাজনের বাবা শেখ আজিজুল ইসলাম নগরীর জালালাবাদ থানায় হত্যা মামলা করতে গেলে উপ-পরিদর্শক এসআই আমিনুল ইসলাম তাকে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন।

রাজনের বাবা বিভিন্ন গণ্যমাধ্যমকে বলেন, ‘ওই সময়ই আমার উপস্থিতিতে রাজন হত্যার মূল হোতা কামরুল তার ভাই ও নিজেকে বাঁচানোর জন্য এসআই আমিনুলের সঙ্গে ইশারা ইঙ্গিতে কথা বলে যাচ্ছিল। থানার ভেতর বসেই কামরুলকে উদ্দেশ্য করে এসআই আমিনুলকে বলতে শোনা যায়, `তিন তো দিলা বাকি তিন দিবা কবে।’

এবারও নাটকের উপসংহার টানতে পারেনি পুলিশ। ভুক্তভোগীর অন্তরের রক্তক্ষরণ প্রতিবাদের স্ফুলিঙ্গ হয়ে দেখা দিল। বেরিয়ে আসল আসল ঘটনা।

এদিকে, সফুর কাঁদলেও সমাজপতি শাহ আলম সমাজসেবায় মনোনিবেশ করেই চলেছেন। সমাজের উপকারী মানুষ বলে কথা! পুলিশ উপকারী মানুষের পাশে দাঁড়াবে নাতো কে দাঁড়াবে। আর শাহ আলমের আশে পাশের লোকজন মামলা তুলে নিতে সফুরের পরিবারকে বেশ বুদ্ধি পরামর্শ দিচ্ছে। কারণ, তারাই তো সমাজের অধিকর্তা, তাদের নিয়েই সমাজ।

‘ওরা আমাকে মারধর করেছে, ইলেকট্রিক শক দিয়েছে তারপরও আমার কাছ থেকে স্বাক্ষর নিতে পারেনি। পরে আমার মাকে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে আমার কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছে।’

দুই হাতে মুখ লুকিয়ে কাঁদতে কাঁদতে এসব কথা বলছিল রাঙ্গুনিয়ার কিশোর তাসফিক উদ্দিন সফুর। আপন বোনকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়ে শনিবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেছে সফুর। পাশে বসা মা, বাবা আর সাংবাদিকদের সারিতে বসা ধর্ষিতা বোনটিও কাঁদতে থাকলে সেখানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

সফুরের মা নুর নাহার বেগম বলেন, ‘আমার মেয়ে শাহ আলমের বাসায় বিভিন্ন সময় যেত। এর কোনো এক সময় শাহ আলম তাকে ধর্ষণ করে। পরে শাহ আলমের পরিবার থেকেই খবর পেয়ে আমি ৯ মে শাহ আলমের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করি। কিন্তু রাঙ্গুনিয়া থানার এসআই মুজিবুর, ওসি হুমায়ুন কবির ও চেয়ারম্যান মো. আলী শাহের চক্রান্তে ওই অভিযোগ তারা নেয়নি। উল্টো আমাকে এবং আমার মেয়েকে থানায় আটকে আমার ছেলেকে মারধর করে স্বাক্ষর নিয়েছে। পরে তাকে নিজের বোনকে ধর্ষণের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পুলিশ আদালতে প্রেরণ করে। আমরা গরিব বলে কি কোনো বিচার পাব না?’

এর আগে শুক্রবার গাজীপুর কিশোর সংশোধনাগার থেকে জামিনে ছাড়া পায় সফুর। গত রোববার চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুন্যাল-২ এর বিচারক মো. সেলিম মিয়া তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছিলেন।

মূল ঘটনা : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার শিলক ইউনিয়নের দরিদ্র রিকশাচালক বাবার ১৩ বছর ৩ মাস বয়সী শিশু কন্যাকে অত্যন্ত আদর করতেন স্থানীয় সমাজপতি শাহ আলম। তিনি মেয়েটিকে ‘নাতনি’ সম্বোধন করতেন। আর বাবার বয়সী শাহ আলমকে পিতার মতোই মনে করতেন মেয়েটির মা। শিশুটি  দাদার ঘরে গিয়ে একসাথে টিভি দেখাসহ সব সময় কাছাকাছি থাকতো। শাহ আলম তিন মাস ধরে এই শিশুকে ফুসলিয়ে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কের জের ধরে শিশুটি এক পর্যায়ে ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। শিশুটি তখন মাকে ঘটনাটি জানালে মা বিষয়টি শাহ আলমকে জানান। তিনি তখন ঘটনাটি গোপন রাখার হুমকি দিয়ে গর্ভপাত করাতে বলেন। শাহ আলম স্থানীয় মরিয়ম নগর ইউনিয়নের একটি ক্লিনিকে নিয়ে শিশুটির গর্ভপাত করাতে ধর্ষিতার মায়ের হাতে কিছু টাকাও গুঁজে দেন। শাহ আলমের ভয়ে ও চাপে ধর্ষিতার মা ওই ক্লিনিকেই শিশুটির গর্ভপাত করান। কিন্তু এরই মধ্যে পুরো ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হয়ে গেলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। শাহ আলমকে ‘লম্পট’ আখ্যায়িত করে রাস্তায় নেমে তার শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন ও মানবন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করতে থাকেন সমাজের তথা কথিত নিচু শ্রেনীর কতিপয় বিবেকবান মানুষ।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৭ মে রাতে রাঙ্গুনীয়া থানায় শাহ আলমের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন সফুরের মান নুর নাহার। সাধারণ মানুষের বিক্ষোভের মুখে ৮ মে রাতে রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। কিন্তু মধ্যরাতেই পাল্টে যায় সবকিছু। পুলিশ মূল অভিযুক্ত শাহ আলমকে গভীর রাতে ছেড়ে দেয়। পরদিন ৯ মে ধর্ষিত শিশুটির বড় ভাই (১৫) এবং শিশুটিকে আটক করে নিয়ে যায় শিলক তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ। স্থানীয় এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, শিলক তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে কিশোর সফুরকে নির্মম নির্যাতন চালিয়ে তার ছোটবোনকে নিজেই ধর্ষণ করেছে এবং  গর্ভপাতে জন্য সে-ই দায়ী এই মর্মে লিখিত স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়। একই রকম স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করা হয় ধর্ষিত শিশুটিকেও। পরদিন ১০ মে পুলিশ তাকে বোনের ধর্ষণকারী সাজিয়ে রাঙ্গুনীয়া থানায় দায়ের করা ১২ নম্বর মামলায় চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতের হাজির করলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।

মূল ধর্ষককে ছেড়ে  দেওয়ার নাটকে পুলিশ সফুরের বয়সও পাল্টে দিয়েছে। স্থানীয় শিলক ইউনিয়ন পরিষদের দেওয়া জন্মনিবন্ধনে ওই কিশোরের জন্মসন ২০০১ সাল অনুযায়ী ১৫ বছর হলেও মামলায় ১৮ বছর বলে উল্লেখ করা হয়। যেটিতে স্বাক্ষর করেন খোদ থানার ওসি হুমায়ূন কবির ও পরিদর্শক (তদন্ত) চন্দন কুমার চক্রবর্তী। এছাড়া ঘটনাস্থলকে ভিকটিমের ঘর বলে উল্লেখ করা হয়।

ধর্ষিত ওই শিশুটি সাংবাদিকদের বলে, ‘আমি দাদার (শাহ আলম) বাড়িতে প্রতিদিন টিভি দেখতে যেতাম। যখন যেতাম তখন ওর রুমে কেউ না থাকলে আমার সাথে ‘দুষ্টুমি’ করতো। বলতো আমার সাথে এগুলো করো। কিছু হবে না। আমি তোমাকে বিয়ে দেব।’ সে আরো বলে, ‘এঘটনাটি আমার মাকে জানালে দাদা মাকে কিছু টাকা দিয়ে আমার বাচ্চা নষ্ট করে নেয়। বলেছে, কাউকে এগুলো জানালে জানে মেরে ফেলবে। এরপর পুলিশ আমার ভাইকে আর আমাকে ধরে নিয়ে দুই দিন রেখে বলেছে আমার ভাই আমাকে ধর্ষণ করে গর্ভবতী করেছে। আমার ভাইকে পুলিশ নির্যাতন করেছে।’

ধর্ষিতার মা ও মামলার বাদী বলেন, ‘আমার মেয়ে যখন শাহ আলমের বিরুদ্ধে তাকে ধর্ষণের কথা আমাকে জানায়। আমি এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে থানায় ৭ মে মামলা করতে যাই। শাহ আলমকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেলেও তার সাথে আমার বৈঠক করায় পুলিশ। তখন শাহ আলম ও মুজিব স্যার, বাপ্পী স্যার ও তাহমিনা ম্যাডাম আমাকে মামলা তুলে নিতে বলেন। এরপরও আমি মামলা তুলে না নিলে শাহ আলমকে ছেড়ে দিয়ে তারা আমার ছেলে ও মেয়েকে শিলক পুলিশ অফিসে নিয়ে আসে।

নিজের ছেলের বিরুদ্ধে মেয়েকে ধর্ষণের মামলার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে তিনি আরো বলেন, ‘আমাকে পুলিশ ও শাহ আলম বলেছে, তুমি যদি সুখে থাকতে চাও, আমাদেরও সুখে রাখো। তোমার টাকা পয়সা নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না। যা দরকার তা আমি দিবো। এখন তোমার ছেলের নামে একটি অভিযোগ দাও। তোমার ছেলে সাতদিনের মধ্যে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে গেলে মামলাটা এমনিতেই চলে যাবে। আর তোমার মেয়ের বিয়ের জন্য খরচাপাতিতো পাবেই। তোমরা নতুন জীবন পাবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি এরপরও রাজি হয়নি তাদের কথায়। ৯ মে সকালে আমি তাদের (পুলিশ) সাথে যেতে না চাইলে স্থানীয় মেম্বার মোকারম হোসেন বলেন, তুমি ওদের সাথে গিয়ে যা বলে তা করে এসো। কিছু হবে না, তোমার আর তোমার ছেলের ভালো হবে। সেতো সাত দিনের মধ্যে ছাড়া পেয়ে বাড়ি চলে আসবে। এরপর তারা আমাকে একটি সিএনজি ট্যাক্সিতে করে শহরে নিয়ে কাগজে জোর করে সাইন নিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। এরপর ১১ মে আমার ছেলে মেয়ে দু’জনকে চাইলে মেয়েকে ফেরত দিলেও ছেলেকে ফেরত দেয়নি। বলেছে তাকে জেলখানায় নিয়ে গেছে।’ সৌজন্যে প্রিয়.কম

অন্যরা য়া পড়ছে...

Loading...



চেক

বিকল্পের সন্ধানে কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপনে দেরি হচ্ছে : ওবায়দুল কাদের

ঢাকা, ১৩ মে ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে কোটা …

স্যাটেলাইট মহাকাশে ঘোরায় বিএনপির মাথাও ঘুরছে : মোহাম্মদ নাসিম

ফেনী, ১৩ মে ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণ হওয়ায় বিএনপির মাথাও ঘুরছে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

My title page contents