৩:৩৯ অপরাহ্ণ - শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর , ২০১৮
Breaking News
Download http://bigtheme.net/joomla Free Templates Joomla! 3
Home / সারা দেশের খবর / ইসলামে বৃদ্ধ বাবা-মা’র প্রতি কর্তব্য

ইসলামে বৃদ্ধ বাবা-মা’র প্রতি কর্তব্য

পান্থপথের সিগনাল। এক বৃদ্ধ মা বসে আছেন ভিক্ষার ঝুলি হাতে। বয়সের ভাড়ে ন্যুব্জ হয়ে পড়েছে দেহ। শরীরে জীর্ণশীর্ণ কাপড়। চোখে মুখে অসহায় ও বিষাদের ছাপ। পথচারী আসলেই ধীর গতিতে দু’হাত তুলে ভিক্ষা চাইছেন। কেউ দু’এক পয়সা দিলেও কেউ নিজ পথেই চলে যায়। এভাবেই চলে এ বৃদ্ধ মায়ের জীবন সংসার।
রাজধানীসহ সারাদেশে এমন বৃদ্ধ মা বাবাদের দৃশ্য অসংখ্য ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। তাদের জীবনের আড়ালে লুকিয়ে আছে কোনো বেদনা-বিধুর করুণ কাহিনী কিংবা মির্মম কোনো ইতিহাস। পত্র পত্রিকা কিংবা টেলিভিশন চ্যানেলের রিপোর্টারদের অনুসন্ধানী চোখে উঠে এসেছে এমন হাজারো ঘটনা। তাদের উচ্চবিলাসী সন্তানদের কেউ থাকেন ফ্লাট বাসায় কেউ বিদেশে। তবে তাদের সংখ্যা কম হলেও অধিকাংশ বৃদ্ধ মা বাবার ছেলেরা দিনমজুর কিংবা রিক্সা, বাস, ট্রাক, চালিয়ে জীবন যাপন করে। তাদের উপার্জনে নিজেদের জীবনের চাকা চললেও চলে না বাবা মা জীবন। তাইতো তারা ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে ঘুরে বেড়ান পথে পথে মানুষের দ্বারে দ্বারে। যে বাবা মা নিজেদের শরীরের ঘাম ঝড়িয়ে তাদের লালন পালন করেছেন আজ তারাই এ জগত সংসারের ভিক্ষুক। তাদের  দেখা শোনায় সন্তানদের অবহেলা। অবহেলিত তারা জীবনের শেষ বয়সে।
বাবা-মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা কমবেশি সবার ভেতরই আছে। আমরা সবাই বাবা-মা’কে ভালোবেসে সুখ পাই। মনের গহিনে আনন্দ অনুভব করি। মমতাময়ী মায়ের আঁচলই আমাদের একমাত্র নিরাপদ আশ্রয়। বাবা-মা আমাদের নিজের জীবনের রক্তবিন্দু দিয়ে তিল তিল করে বড় করে তুলেছেন। শিক্ষা-দীক্ষার মাধ্যমে আমাদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। মা ১০ মাস কষ্ট সহ্য করে আমাদের গর্ভে ধারণ করে চিরঋণী করেছেন, সেই ঋণ শোধ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
তাই তো কবি বলেছেন, ‘মায়ের একধার দুধের দাম/কাটিয়া গায়ের চাম/পাপস বানাইলেও ঋণ শোধ হবে না/এমন দরদী ভবে কেউ হবে না আমার মা’। সন্তানের প্রতি বাবা-মায়ের যে ভালোবাসা, তা পৃথিবীর একমাত্র নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। সন্তানের জন্য বাবা-মা নিজের জীবন উৎসর্গ করতেও কুণ্ঠাবোধ করেন না। কিন্তু তিক্ত সত্য হলো, কালপরিক্রমায় আমরা হয়ে উঠি অতি নির্মম। প্রকাশ পায় বাবা-মায়ের প্রতি চরম অবহেলা ও অবজ্ঞা। স্বামী-স্ত্রী ও আদরের ছেলে-মেয়ে নিয়ে গড়ে ওঠে সুখের সংসার। আর বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ঠাঁই হয় বৃদ্ধাশ্রমে কিংবা ফুটপাতে।
পরিবার-পরিজন, ছেলে-মেয়ে থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এক চরম অসহায় জীবনযাপন করেন তারা। আমরা একবারও ভাবি না যে আমাদের সন্তান আমাদের কাছে যেমন আমরাও আমাদের বাবা-মায়ের কাছে তেমন। আমরা আমাদের সন্তানকে যেমন আদর-সোহাগ করি, মায়া-মমতা দিয়ে পরম যতেœ লালন-পালন করি; আমাদের বাবা-মাও আমাদের মায়া-মমতা দিয়ে, আদর-স্নেহ দিয়েই বড় করেছেন। বাবা-মা নিজে না খেয়ে আমাদের খাইয়েছেন। নিজের সুখ-শান্তি বিসর্জন দিয়ে আমাদের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন। আমাদের সুখের দিকে তাকিয়ে তারা আরামের ঘুম হারাম করেছেন। আমাদের মুখে দু’মুঠো খাবার তুলে দেয়ার জন্য সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাথার ঘাম পায়ে ফেলেছেন। আমাদের লালন-পালনকে কষ্ট মনে করে কোনো শিশু আশ্রমে আমাদের পাঠিয়ে দেননি।
ইসলাম বাবা-মায়ের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। তাদের সেবা-যতœ করা, তাদের সঙ্গে সদাচরণ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাদের মান্য করা ইসলামের দৃষ্টিতে ফরজ। বাবা-মা’কে কষ্ট দেয়া, তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা, তাদের কথা অমান্য করা নিঃসন্দেহে অনেক বড় গুনাহ। আল কোরআনে বলা হয়েছে : ‘তোমার প্রতিপালক আদেশ দিয়েছেন তিনি ছাড়া অন্য কারও ইবাদত না করতে ও বাবা-মায়ের প্রতি সদ্ব্যবহার করতে (সূরা বনি ইসরাইল-২৩)।
হাদিস শরীফে এসেছে, একবার জনৈক সাহাবি নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে এসে জিহাদে যাওয়ার তীব্র আকাঙক্ষা প্রকাশ করলেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার বাবা-মা কেউ কি জীবিত আছে? সাহাবি হ্যাঁ সূচক জবাব দিলেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, বাড়িতে গিয়ে তাদের সেবা কর (বুখারি শরীফ, হাদিস নং-২৮৪২)।
বাবা-মা যখন বার্ধক্যে উপনীত হন তখন তাদের প্রতি দায়-দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়, তাদের সেবা-শুশ্রষা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বার্ধক্যের কারণে বাবা-মায়ের মেজাজ কিছুটা খিটখিটে ধরনের হয়ে যেতে পারে, সামান্য বিষয় নিয়ে তুলকালাম কা- ঘটাতে পারেন। তাই তাদের অস্বাভাবিক আচরণকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করার নির্দেশ রয়েছে ইসলামে। আল কোরআনে বলা হয়েছে, তাদের একজন বা উভয়েই জীবদ্দশায বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদের ‘উফ’ বল না। তাদের ধমক দিও না, তাদের সঙ্গে সম্মানসূচক কথা বল (সূরা বনি ইসরাইল-২৩)।
সন্তানের জন্য বাবা-মা উভয়েই কষ্ট করেন। তথাপি বাবার তুলনায় মায়ের হক অনেক বেশি। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, এক ব্যক্তি নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে এসে জিজ্ঞেস করলেন, কোন ব্যক্তি আমার সর্বাধিক সদাচরণ পাওয়ার অধিকারী? তিনি বললেন, তোমার মা। লোকটি বলল তারপর কে? তিনি বললেন, তোমার মা। লোকটি বলল তারপর কে? তিনি বললেন, তোমার মা। লোকটি বলল তারপর কে তিনি বললেন, তোমার বাবা (মুসলিম)।
সর্বোপরি মনে রাখা প্রয়োজন, কালের বিবর্তনে আমরাও এক সময় বার্ধক্যে উপনীত হব। আমাদের সঙ্গে বৃদ্ধাবস্থায় সেই আচরণ করা হবে, যে আচরণ আমরা আমাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে করব। অন্তত এই দিকটি বিবেচনায় রেখে আমদের উচিত বাবা-মায়ের সঙ্গে সদাচরণ করা।

                                                                    কি হবে কবরের সেই তিন প্রশ্ন?

আবুল কালাম আজাদ ভূইয়াঃ কোরআনে আছে, ‘প্রতিটি মানুষকেই মৃত্যুস্বাদ আস্বাদন করতে হবে’। মুখোমুখি হতে হবে তিনটি প্রশ্নের। যা ‘সওয়াল জওয়াব’ নামে পরিচিত। কবরে শায়িত করার পর তাকে সর্বপ্রথম জিজ্ঞাসা করা হবে (১) মান রাব্বুকা (তোমার প্রতিপালক কে?) (মুমিন হলে) উওর : রাব্বি আল্লাহ্ (আমার প্রতিপালক আল্লাহ) (২) মান দীনুকা (তোমার ধর্ম কী ছিল) (মুমিন হলে) উত্তর : দীনি আল ইসলাম (আমার দীন ইসলাম) (৩) মহানবী স. কে দেখিয়ে বলা হবে ‘মান হাযার রাজুল? (এ ব্যক্তিটি কে?) (মুমিন হলে) উত্তর : হাযা রাসুলুল্লাহ্ (তিনি আল্লাহর রাসুল)।
এ তিনটি প্রশ্ন বোখারি শরিফের হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। নবী করিম সা: বলেন, বান্দাকে যখন কবরে রেখে তার সঙ্গীরা বিদায় নিয়ে চলে যায়, সে তাদের পায়ের জুতা বা স্যান্ডেলের আওয়াজও শুনতে পায়। ওই সময়েই দু’জন ফেরেশতা এসে তাকে বসিয়ে দেন। জিজ্ঞেস করেন, ‘এ লোকটি অর্থাৎ মুহাম্মদ সা. সম্পর্কে তোমার ধারণা কী? মুমিন ব্যক্তি বলে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি তিনি আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। তাকে বলা হয়, তাকিয়ে দেখো, ওই যে জাহান্নামে তোমার আসনটা, সেটার পরিবর্তে আল্লাহ তোমাকে জান্নাতের আসন বরাদ্দ করে দিয়েছেন। উভয় আসনই সে দেখতে পাবে।
মুনাফিক বা কাফেরকে প্রশ্ন করা হবে তুমি কি বলতে পারো এ লোকটা সম্পর্কে? সে বলবে, আমি তো কিছু জানি না। লোকেরা যা বলত, আমিও তাই বলতাম। তখন তাকে বলা হবে, তুমি তো জানতে চাওনি, অনুসরণও করনি। আর ওই মুহূর্তেই বিশাল এক লৌহ হাতুড়ি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হবে। আঘাতের ফলে সে বিকট স্বরে আর্তচিৎকার করে উঠবে, যা তার আশপাশে জিন, ইনসান এ দুই সৃষ্টি ছাড়া আর সবাই শুনতে পাবে। (বুখারি শরিফ)।
অন্যান্য হাদিসে এসেছে, প্রথম প্রশ্ন হবে তোমার রব কে? দ্বিতীয় প্রশ্ন হবে তোমার ধর্ম কি? তৃতীয় প্রশ্ন থাকবে রাসূলুল্লাহ সা: সম্পর্কে। এ ব্যাপারে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে।

 

অন্যরা য়া পড়ছে...

Loading...



চেক

স্যাটেলাইট মহাকাশে ঘোরায় বিএনপির মাথাও ঘুরছে : মোহাম্মদ নাসিম

ফেনী, ১৩ মে ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণ হওয়ায় বিএনপির মাথাও ঘুরছে …

আজ থেকে শুরু হচ্ছে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন

ঢাকা, ১৩ মে ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): আজ থেকে শুরু হচ্ছে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

My title page contents