৬:২৫ পূর্বাহ্ণ - সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর , ২০১৮
Breaking News
Download http://bigtheme.net/joomla Free Templates Joomla! 3
Home / ক্রিকেট ও আমাদের রাজনীতির হালহকিকত

ক্রিকেট ও আমাদের রাজনীতির হালহকিকত

স্পোর্টস ডেস্ক, ২১ মার্চ ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম):  ক্রিকেটের প্রতি আমাদের যে ধরনের আবেগ-ভালোবাসা ও উচ্ছ্বাস রয়েছে, সারাদেশের সর্বশ্রেণির মানুষ তাদের অজান্তেই তাদের বিভিন্নভাবে উৎসাহ দিচ্ছে। গল্প, আড্ডায় ও সর্বমহলে আলোচনায় মেতে উঠছে। মনে হয় আমরা যতটা না তাদের প্রতি ভালোবাসা দেখাতে পারছি তার চেয়েও বেশি পরিমাণে তাদের প্রতি ভালোবাসা ও আবেগ রয়েছে। ফলে ক্রিকেট আমাদের জীবনে স্পর্শকাতর বিষয়, জীবন ও রক্তের সাথে মিশে যাওয়া একটি বিষয়। এমন ভক্তও পাওয়া যাবে, কেউ যদি ক্রিকেটের বিরুদ্ধে কথা বলেন তাহলে প্রতিপক্ষের সাথে মারামারি লেগে যাবে। চৌদ্দগোষ্ঠী ধুয়ে ফেলবে। ভালোবেসে মানুষে তাদের টাইগার, বাংলার বাঘ বিভিন্ন উপাধিতে ভূষিত করছে। নিঃসন্দেহে ভালোবেসে করছে এসব। এ ভালোবাসা হয়ত তাদের অনেকেই দেখছে না কিংবা দেখছে। এটি অবশ্যই এটি পজেটিভ। কিন্তু মনে রাখতে হবে, একটি দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি, বিনোদন এগুলোর মধ্যে একটি শাখা হলো ক্রিকেট। কিন্তু অপরিহার্য কিছু না। কেননা চোখ খুললেই দেখতে পাবেন পৃথিবীর অনেক দেশই আছে যারা খেলাধুলার প্রতি এত বেশি উৎসুক নয়। ফলে, খেলাধুলা অপরিহার্য কিছু নয়। সামান্য সময়ের বিনোদন।

রাষ্ট্রের অনেকগুলি শাখার মধ্যে শুধুমাত্র ক্রিকেটের প্রতি সামান্য সময়ের বিনোদনের প্রতি যদি আমাদের এত আবেগ হয় তাহলে প্লেটোর কথা অনুযায়ী মানুষ যদি রাজনৈতিক জীবই হয়ে থাকে তবে সমাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রাজনীতির জন্য মানুষের এত আবেগ আর উচ্ছ্বাস নেই কেন?

কেন মানুষ রাজনীতিবিদদেরকে ভালোবেসে গ্রহণ করতে পারছে না। নিজের সর্বোচ্চ আবেগটা দিতে পারছে না। যেভাবে ক্রিকেটাররা সর্বশ্রেণির উচ্ছাস পাচ্ছে সেভাবে রাজনীতিবিদরা পাচ্ছে না কেন? অথচ রাজনীতি হচ্ছে সমাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এর জন্য দায়ী কে? নিঃসন্দেহে বলা যায় আমাদের রাজনীতিবিদ ও রাজনীতির চর্চা। খেয়াল করে দেখুন, মাশরাফি, সাকিব, তামিম, মুশফিক যদি ঢাকার বাইরে কোথাও যায় তবে যে পরিমাণ মানুষ তাকে স্বাগত জানাবে ও ভালোবাসা দেবে মনে হয় না বর্তমানে আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের এভাবে জানাবে। প্রথম শ্রেণির একজন ক্রিকেটার যেভাবে সাধারণ মানুষের ভালোবাসা পাচ্ছে সেভাবে একজন বর্তমান সময়ের রাজনীতিবিদ পাচ্ছে না। অন্যান্য দলের কথা তো বাদই দিলাম স্বয়ং তৃণমূল থেকে উঠে আসা আওয়ামী লীগের নেতারা এটা পারবে বলে মনে হয় না। কারণ, রাজনৈতিক দলগুলো অনেকটা জনবিচ্ছিন্ন। ফলে রাজনীতি আমাদের মধ্যে ওই ধরনের আবেগ কাজ করছে না। সাধারণ মানুষের আপন হতে পারছে না। যদিও এখন তৃণমূলের কিছু রাজনীতিবিদ সর্বকালে থাকবে সে হিসেবে আওয়ামীলীগের এর মধ্যেই অনেক তৃণমূলের নেতা রয়েছে। এছাড়া বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জনবিচ্ছিন্ন বিপুল পরিমাণ রাজনীতিবিদ।

তাহলে এ থেকে উত্তরণের উপায় কী? খুবই সহজ, মওলানা ভাসানী, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সোহরাওয়ার্দীরা আমাদের তা শিখিয়ে গেছেন। গত এক মাস আগে ফেনীর দাগনভূঞায় প্রতিবেদন করতে গিয়ে দেখা হয় বঙ্গবন্ধুর এক ভক্তের সাথে। তিনি ভাষা শহীদ সালামের বাল্যবন্ধু মকবুল আহমেদ। তিনি তার ভাষায় বলছেন, শোনেন মিয়া, আজীবন শেখ সাবের রাজনীতি করছি। বিনিময়ে কোনো চাওয়া পাওয়া ছিল না। একটা কাহিনি শোনাই আপনারে- শেখ সাব একদিন তার নিজের গায়ের শার্টটা তার এক বন্ধুকে দিয়ে চলে আসলেন। মা বললেন, তোর শার্ট কোথায়, শেখ সাব বললেন, কলেজের বন্ধুকে দিয়ে আসছি। আহা, এমন সোনার মানুষ জীবনে আর আসবে না। এমন রাজনীতি কী এখন আছে? বলেন না?

তখন আমার মাথায় যেন এক অলৌকিক মানুষের প্রতিচ্ছবি খেলা করছিল। দেখুন, জনাব মকবুল এখনো কিন্তু বয়স্ক ভাতার কার্ডটিও পেলো না অথচ ঠিকই একজন রাষ্ট্রপ্রধানের প্রতি তার রাজনৈতিক গুরুর প্রতি তাঁর কেমন ভালোবাসা ও আবেগ। এটি কোনোভাবেই কী কৃত্রিম? কী বলেন আপনারা? এভাবে করেই বঙ্গবন্ধুর মতো অনেক নেতাই সাধারণ মানুষের ভালোবাসা আর অকুণ্ঠ সমর্থন অর্জন করেছিলেন। পাগলের মতো ভালোবেসেছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. কামাল হোসেন বলেন-‘আমি স্বচক্ষে দেখেছি, উনাকে (বঙ্গবন্ধু) দুই-দুইবার সারা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রিত্ব দিতে চেয়েছিল পশ্চিম পাকিস্তানিরা। বঙ্গবন্ধু হেসে বলেছিলেন, ‘পাগল নাকি, আমি সারাজীবন রাজনীতি করেছি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য নয়, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য।’ এমন শত শত উদাহারণ রয়েছে আমাদের সামনে আমাদের রাজনীতিবিদরাই আমাদের জন্য রেখে গেছেন। কিন্তু বারবারই আমরা ভুলে যাচ্ছি এসব কথা। এসব কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তিনি তার পরবর্তী প্রজন্মের এটি শিক্ষা দিয়ে গেছেন কিভাবে রাজনীতি করতে হবে, সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও আস্থা অর্জন করতে হবে। তারা যেভাবে সর্বস্তরের মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থন নিয়ে রাজনীতি করেছিলেন, যেভাবে সাধারণ মানুষ তাদের কাছে এসে আশ্রয় খুঁজে পাইতেন ঠিক সেভাবে আমাদের রাজনীতিবিদদের কাজ করতে হবে। অর্জন করতে হবে সকল শ্রেণির মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থন। এভাবেই হয়ত আমরা নিজেদের মধ্যে খুঁজে পাব একজন মওলানা ভাসানী, একজন শেখ মুজিব, একজন সোহরাওয়ার্দী। যারা সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও আস্থা অর্জন করতে পেরেছেন, যা সামান্য সময়ের একজন বিনোদন তারকার চেয়ে শত কোটি পরিমাণে বেশি।

তাহলে কী হবে? অচিরেই পাল্টে যাবে আমাদের রাজনীতির মানচিত্র, আর রাজনীতির সঠিক চর্চা হলে তো রাষ্ট্রের সর্বক্ষেত্রে দ্রুত পরিবর্তন আসবে। আমরা এগিয়ে যাবো অনেক দূর, ভাবনারও অতীত।

অন্যরা য়া পড়ছে...

Loading...



চেক

বিকল্পের সন্ধানে কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপনে দেরি হচ্ছে : ওবায়দুল কাদের

ঢাকা, ১৩ মে ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে কোটা …

স্যাটেলাইট মহাকাশে ঘোরায় বিএনপির মাথাও ঘুরছে : মোহাম্মদ নাসিম

ফেনী, ১৩ মে ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণ হওয়ায় বিএনপির মাথাও ঘুরছে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

My title page contents