৫:২২ পূর্বাহ্ণ - বুধবার, ২১ নভেম্বর , ২০১৮
Breaking News
Download http://bigtheme.net/joomla Free Templates Joomla! 3
Home / জরুরী সংবাদ / নির্মাতারা ভালো করছেন: সজল

নির্মাতারা ভালো করছেন: সজল

 
 বিনোদন ডেস্ক, ১৬ জানুয়ারি,২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): আবদুন নুর সজল। মডেলিং দিয়েই বিনোদনজগতে পা রাখেন। এরপর ছোটপর্দায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। প্রথমে আলোচনায় আসেন উপস্থাপনা দিয়ে। তবে জনপ্রিয়তার তুঙ্গ স্পর্শ করেন টিভি নাটক করে। খ- নাটকে হয়ে উঠেন অদ্বিতীয়। এখন বড়পর্দায়ও কাজ করছেন। অভিনয়জীবনে পার করেছেন দেড় যুগ। রাজধানী ঢাকার উত্তরায় নাটকের শুটিংয়ের ফাঁকে সময় দেন ঢাকাটাইমসকে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সৈয়দ ঋয়াদ

আরও একটি নতুন বছর এলো। একই রকম ব্যস্ততা থাকবে?

ব্যস্ততা তো আছেই, ওটা নাইবা বলি। গত বছরে শেষ কাজ করেছি দিপু হাজরার এক ঘণ্টার ‘ফেইক লাভ’ নাটকে আর বছর শুরু করেছি চয়নিকা চৌধুরীর একটি নাটক দিয়ে। আশা করছি বছর ভালোভাবেই যাবে।

প্রতিদিন কাজ, একঘেয়েমি লাগে না?

কাজটাকে ভালোবাসি। কাজের প্রতিটি মুহূর্ত এনজয় করি। বোরিং লাগে না, তবে কখনো কখনো ক্লান্ত হই। কারণ আমাদের শুটিং আওয়ারটা তো অনেক লম্বা। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কাজ করতে হয়। কখনো সেটা ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত হয়ে যায়। যখন দেখি ডিরেক্টর, লাইট, ক্যামেরা, মেকআপ, প্রোডাকশনসহ বিশ-পঁচিশ জনের একটা গ্রুপ খুব ডেডিকেশন নিয়ে কাজটা করছে, তখন ফিলিংসটা অন্যরকম হয়ে যায়। বরং তখন মনে হয় ওদের কষ্টের তুলনায় আমাদের কষ্টটা একটু হলেও কম। আমারা তো ব্রেক পাই এটা ভাবলেই ক্লান্তি থাকে না।

টিভি নাটকে বৈচিত্র্য হারিয়ে যাচ্ছেÑ এই অভিযোগ তো শোনা যায় প্রায়ই। কী বলবেন?

কথাটা একেবারে মিথ্যাও নয়। এটা সত্যি যে, আগের মতো গল্পের বৈচিত্র্য কম হচ্ছে। একদম হচ্ছে না সেটাও বলব না। ভালো-মন্দের মিশেল সব যুগেই ছিল। তবে অভিযোগের বিষয়টাও সত্য। কিন্তু এখন নাটকে একটা পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। এই ক্ষেত্রে বাজেট অনেক বড় একটা প্রতিবন্ধক। যেখানে বাজেট সীমিত সেখানে একজন ডিরেক্টরের অনেক রকমের স্বপ্ন থাকলেও সেগুলো পূরণ করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। সব মিলিয়ে সিচুয়েশনটা এমন দাঁড়ায় যে, অনেক কম্প্রোমাইজ এবং অনেক সেক্রিফাইজ করে কাজ করতে হচ্ছে সবাইকে।

নাটক তো সেই উত্তরাকেন্দ্রিকই।

উত্তরাকেন্দ্রিক বা পুবাইলকেন্দ্রিক বলে তো কথা নয়। আমাদের দেশের একটা প্রবাদ আছে, ‘যত গুড় তত মিষ্টি।’ একজন ডিরেক্টরের কাছে একেকটি প্রজেক্ট তার নিজের সন্তানের মতো। কেউ নিশ্চয়ই নিজের সন্তানের খারাপ চায় না। আর ডিরেক্টর ততটুকুই এফোর্ট দিতে পারে তাকে যতটুকু সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হয়। আমার কাছে মনে হচ্ছে সুযোগের স্বল্পতার জন্যই উত্তরাকেন্দ্রিক নাটক তৈরি হচ্ছে। তবে উত্তরাকেন্দ্রিক নাটক মানেই যে মানহীন নাটক হচ্ছে তা কিন্তু নয়। আগেই বলেছি উত্তরাকেন্দ্রিক হচ্ছে কারণ সুযোগের স্বল্পতার জন্য।

পরিবর্তন কি হচ্ছে?

গত দুটি ঈদের দিকে তাকালে বিষয়গুলো আরও ভালো বোঝা যাবে। যে হারে ভালো কাজ হওয়ার কথা সে ভাবে হচ্ছে না। তবে এই যে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা আছে তা সত্ত্বেও আমাদের ডিরেক্টররা ভালো কাজ করছেন, এটা কিন্তু মামুলি ব্যাপার নয়। গত বছরের বেশ কিছু নাটক ভালো উদাহরণ হতে পারে। অনেক নাটক দর্শকমহলে সাড়াও ফেলেছে।

দেশের টেলিভিশন নাটকের দর্শকের গ্রাফ নি¤œমুখীÑ এই প্রসঙ্গে কী বলবেন।

আমি ঠিক দর্শক গ্রাফের অন্য একটি দিকের কথা বলব। এখন যে নাটকগুলো টেলিভিশনে দেখার সুযোগ হচ্ছে না সেগুলো ইউটিউবে দেখে ফেলছে। ইউটিউবে ভিউয়ারস দেখলে সেটা অনুমান করা যায়। আমরা যখন ছোট তখন দেখতাম অনেক বাসার ছাদে এন্টেনার সঙ্গে বাটির মতো কিছু একটা লাগানো থাকতো। এই বাটি দিয়ে পাশের দেশের দু-একটা চ্যানেল যদি পরিষ্কার দেখা যায় সে জন্যই চেষ্টা করা হতো। তার মানে কি তখন আমাদের নাটক খারাপ ছিল? তা কিন্তু নয়। দর্শকদের দেখার ইচ্ছেটা ছিল। এই সময়ে এসে দর্শকের দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাই এখানে দর্শকরা কিভাবে দেখবে এটা তারাই নির্ধারণ করবে, আপনি বা আমি না।

তার মানে প্রতিযোগিতা বেড়েছে, ইউটিউবমুখী হচ্ছে দর্শক।

আপনার হাতে যখন শতাধিক চ্যানেল দেখার স্কোপ তৈরি হয়েছে তখন দর্শক একটি চ্যানেল দেখবে বা সেখানেই আটকে থাকবে এটা আশা করা কিন্তু কঠিন। আমি এর সঙ্গে একমত না। ভালো-মন্দের মিশেল সব সময়ই ছিল, এখনো কিছু ভালো হচ্ছে কিছু কাজ খারাপও হচ্ছে। বিকল্প একটা মাধ্যম হয়েছে। দর্শক নিজের ইচ্ছেমতো অবসরে সেটা দেখে নিতে পারছে. এ জন্যই ইউটিউবে ক্রাউড(দর্শক) বাড়ছে।

কিন্তু কিছু চ্যানেল তো দর্শক ধরে রাখতে পারছে। সেটা কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

আমি কোনো কিছুর জন্য এক পক্ষকে দোষারোপ করব না। আমার কাছে মনে হয় সব কিছু মিলেই তো একটা ইন্ডাস্ট্রি, একটা চ্যানেল, স্পন্সর গ্রুপ, ডিরেক্টর, আর্টিস্ট, এজেন্সি, প্রোডাকশন হাউস। সবার মিলিত প্রচেষ্টায় হয়তো একটি জায়গা তৈরি করবে। প্রসঙ্গত আবার সেই প্রবাদটি চলে আসে। অন্য যেই চ্যানেলটি আপনাকে আমাকে টানছে, সেটার পেছনে যে বাজেট এবং পরিকল্পনা তা আমাদের এখানে নেই। তাহলে আপনি সেটা আশা করবেন কি করে। তাদের শিকি ভাগ বাজেটও এখানে হয় না। আমরা যেটা নিয়ে আলোচনা করছি সামনে হয়তো সেটাও মিটে যাবে।

একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে আসি। প্রায় দেড় যুগ হয়ে গেল কাজ করছেন। সময়টা তো লম্বা।

আসলে কোনো যাত্রাই মসৃণ হয় না। আমরা যেভাবে পরিবারে বড় হয়ে উঠি, কর্মক্ষেত্রটা কিন্তু সেরকম না। এখানে আপনাকে জায়গা করে নিতে হবে। এই আঠারো বছরে যে জিনিসটা পেয়েছি সেটা হলো দর্শকের ভালোবাসা। এটার জন্য আমি সৃষ্টিকর্তার কাছে অনেক বেশি কৃতজ্ঞ। যেভাবে অসংখ্য দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছি সেটাই তো সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি, যারা আমাকে সজল বানিয়েছে বা আমি যাদের জন্য সজল হয়েছি। আসলে তাদের জন্যই কাজ করতে পারছি।

একজন শিল্পীর কাছে সেটা নিশ্চয়ই সবচেয়ে দামি।

এরই মধ্যে একটা ঘটনা ঘটেছে। আমাকে একজন ফেসবুকে টেক্সট করছেন। আমি আদারস ফোল্ডারে থাকার কারণে সেটা দেখতে পারিনি। কিছুদিন আগে তার মা মারা গেছেন। তিনি ছিলেন ক্যানসারের পেসেন্ট। উনি জীবনের শেষ সময়ে হসপিটালাইজড ছিলেন। শেষ সময়ে হাসপাতালে শুয়ে নাটক দেখতেন। হয় না অনেকের অভিনয় ভালো লাগে। তার কাছে আমার অভিনয় ভালো লাগতো। তিনি ওই সময় আমার নাটকগুলো দেখতেন। ওই সময় চেষ্টা করা হয়েছিল আমি একবার যেন ওনার সামনে যাই। এটা বিগ ডিল। তারা হয়তো আমার নম্বর পায়নি। এটা আমার কাছে বড় অর্জন।

শুনেছি নতুন বছরে সিনেমায়ও চমক দিতে যাচ্ছেন?

হা-হা-হা (হাসি) তাহলে নিশ্চয়ই সব জেনে ফেলেছেন। আমি ফিল্ম করেছি এখন পর্যন্ত তিনটা। সব মিলে গেলেই তবে কাজ করা হয়ে উঠে। আমি সবকিছু খুলে বলছি না। তবে একটা অদ্ভুত গল্প করছি এটা শিউর। এর বেশি কিন্তু এই মুহূর্তে বলব না।

এমন কোনো চরিত্র আছে যেটা করতে চান, কিন্তু করা হয়নি?

এমন অসংখ্য চরিত্র মাথায় এসে ভিড় করে। এই ধরনের অতৃপ্তির সংখ্যা গণনা করে শেষ করা যাবে না। আমরা আসলে স্বপ্ন বিলাসী মানুষ। প্রতিদিন যে চরিত্রগুলোতে কাজ করি বাস্তবে আমরা আসলে কি তাই? আসলে তো তা নয়। বাস্তবে আমরা হয়তো তার উল্টোটা। কোনো একটা ভালো সিনেমা দেখলে কিংবা ভালো একটি বই পড়লে ওই চরিত্রগুলো মাথায় ঘুরপাক খায়। এই ধরণের চরিত্র নিয়ে অতৃপ্তিতো আছেই।

সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

অন্যরা য়া পড়ছে...

Loading...



চেক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওমরাহ পালন

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার রাতে এখানে পবিত্র …

জনগণ ছেড়ে বিদেশিদের কাছে কেন : ঐক্যফ্রন্টকে ওবায়দুল কাদের

গাজীপুর, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): শুক্রবার বিকেলে গাজীপুরের চন্দ্রায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক চার লেনে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

My title page contents