৭:২৫ পূর্বাহ্ণ - রবিবার, ১৯ আগস্ট , ২০১৮
Breaking News
Download http://bigtheme.net/joomla Free Templates Joomla! 3
Home / রাজনীতি / অন্যান্য দলের খবর / কোন ‘বাগের’ সাথে আমার কোন সম্পর্ক নাই, আমি কোরআন সুন্নাহর মতবাদ প্রচার করি : কুতুববাগী পীর কেবলা (ভিডিও)

কোন ‘বাগের’ সাথে আমার কোন সম্পর্ক নাই, আমি কোরআন সুন্নাহর মতবাদ প্রচার করি : কুতুববাগী পীর কেবলা (ভিডিও)

ঢাকা, ১১ জানুয়ারী ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): আজ ১১ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর কুতুববাগ দরবার শরীফের সদর দপ্তরে আগামী ২৫ ও ২৬ শে জানুয়ারি কুতুববাগ দরবার শরীফের বার্ষিক মহাপবিত্র ওরছ ও বিশ্বজাকের ইজতেমা ২০১৮ উপলক্ষে এক সাংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে দরবার শরীফের পীর ও মোর্শেদ আলহাজ মাওলানা হযরত সৈয়দ জাকির শাহ নকশবন্দি মোজাদ্দেদি কুতুববাগী মহাপবিত্র ওরছ ও বিশ্বজাকের ইজতেমার বিষয়ে বিস্তারিত সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করেন।

তিনি বলেন, প্রতি বছর কুতুববাগ দরবার শরীফের আমার মহান দরদী পীর কেবলাজান ইহকাল ও পরকালের বান্ধব বিশ্বখ্যাত অলিকুল শিরোমনি মোফাসসিরে কোরআন আলহাজ হযরত মাওলানা কুতুবুদ্দীন আহমদ খান মাতুয়াইলী (রঃ)-এর বেছালত উপলক্ষে বার্ষিক মহাপবিত্র ওরছ ও বিশ্বজাকের ইজতেমা অনুষ্ঠিত করে থাকি। আশেক-জাকের খাদেম-খাদেমাসহ দেশ-বিদেশের অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মানুষ অলি-আল্লাহদের রূহানী আত্মার এই মহামিলন মেলায় যোগ দিয়ে থাকেন এবং তারা ইহকাল ও পরকালের অশেষ নেকি হাসিল করেন। এক লোকমা তাবারক গ্রহণ করে অসংখ্য মানুষ নানা রোগ-ব্যাধি থেকে শেফা লাভ করেন।

ওরছ শরীফ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওরছ আরবী শব্দ। এই শব্দের আভিধানিক অর্থ ‘শাদী’। আর শাদী ফার্সী শব্দ। এ জন্যই আরবীতে বর-কনেকে ‘আরুস’ বা ওরছ বলা হয়। তাই বুযুর্গানেদ্বীনের ওফাত দিবসকে ওরছ বলা হয়ে থাকে। কারণ, বুযুর্গব্যক্তিরা ইন্তেকালপ্রাপ্ত হলে তাঁর রবের সাথে দেখা হয়, মিলন হয়। মিশকাত শরীফে কবরে আজাবের প্রমাণ শীর্ষক অধ্যায়ে বর্ণিত আছে, যখন মুনকার-নাকির কবরবাসীর পরীক্ষা নেয় এবং যখন সে পরীক্ষায় কৃৃতকার্য হয়, তখন তাকে বলেন- আপনি সেই দুলহানির মত শুয়ে ঘুমিয়ে পড়ুন, যে ঘুম থেকে আপনার প্রিয়জন ছাড়া আর কেউ জাগাতে পারে না। মুনকার নাকির রাসুল (সঃ)-কে দেখিয়ে জিজ্ঞাসা করবেন, ওনার সম্পর্কে আপনার কী ধারণা? নেককার ব্যক্তি উত্তরে বলবেন, তিনিই তো সৃষ্টিজগতের শ্রেষ্ঠ দুলহা। কবরে ওইদিন রাসুল (সঃ)-এর সাথে উম্মতের সাক্ষাতের দিন, নিশ্চয়ই সে কারণে এ দিনকে ওরছের দিন বলা হয়। বাস্তবিক অর্থে পীরে কামেল মোকাম্মেল অলিআল্লাহর ওফাত দিবসে প্রতি বছর কোরআন-হাদিস মতে ইসলামী মাহফিল কোরআন তিলওয়াত ও দান সদকা ইত্যাদি বিষয়ের জন্য ছওয়াব হাসিল করা ও ইন্তেকালপ্রাপ্ত ব্যক্তির রূহে ছওয়াব পৌছানোকে ওরছ বলা হয়। তাফসীরে কবীর ও তাফসীরে দুর্রে মনসুরে উল্লেখ আছেÑ রাসুল (সঃ) প্রতি বছর শহীদদের কবরে তাশরীফ নিতেন এবং শহীদানদের সালাম দিতেন। চার খলিফাগণও অনুরূপ করতেন।

‘বিশ্বজাকের ইজতেমা’ সম্পর্কে তিনি বলেন, আপনারা জানেন ইজতেমা আরবী শব্দ, আর এ শব্দের অর্থ- সমবেত হওয়া বা একত্রিত হওয়া। আমরা বিশ্বের জিকিরকারী মুমিনদের সমবেত করতে চাই। এখানে তরিকাপন্থী জাকেরগণ সমবেত হয়ে থাকেন। আমরা মুমিনদের কলবে জিকির জারি রাখতে চাই। সূফীবাদের সেই শিক্ষা দেওয়া হয়ে থাকে, যে শিক্ষা আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে অন্তরে সর্বদা আল্লাহর জিকির জারি রাখে। বিশ্বজাকের ইজতেমার শিক্ষা হচ্ছে আত্মশুদ্ধি লাভ করা। সকল জাতি ধর্ম থেকে বিশ্বশান্তি- ইলমে তাসাউফ ও বিশ্বমানবাতার বিশ্বজাকের ইজতেমা। এখানে সকলের জন্য আত্মশুদ্ধির ব্যবস্থা করা হয়। আধ্যাত্মিক মহা সাধনার মাধ্যমে মানুষের আত্মিক উন্নতি ঘটানো হয়। এখানে মানুষের আত্মার রোগের চিকিৎসা করা হয়। মানুষের ভিতরের আত্ম-অহংকার, হিংসা-বিদ্বেষ, কৃপণতা, অলসতা, অভদ্রতা, মূর্খতা ও হুজ্জতি ইত্যাদিকে মহা ¯্রষ্টার নামে জিকির ও সাধনার মাধ্যমে পরিবর্তন করে পর্যায়ক্রমে আত্মশুদ্ধির ব্যবস্থা করে নিষ্ঠা, বিনয়, আদব, আজিজী, সভ্য, ভদ্র, দানশীল, কর্মঠ, জ্ঞানী ও আমলধারী মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা হয়। নিয়মিত সাধনার ফলে মানুষের আত্মা একটি বিশেষ বিশেষ শক্তিপ্রাপ্ত হয় এবং মহা ¯্রষ্টার সান্নিধ্য লাভে সচেষ্ট হয়। ফলে সে নিজে শান্তিপ্রিয় হয়ে যায়। অপরকে শান্তিপ্রিয় বানাতে চায়। এভাবে সে পরম শান্তিলাভ করে। সৃষ্টির শুরু থেকে এ শান্তিলাভের জন্য সকল ধর্মেই আধ্যাত্মিক সাধনার কথা বলা হয়েছে। সকল ধর্মের সাধকরাই মহা ¯্রষ্টার সান্নিধ্যলাভে সচেষ্ট হয়েছেন। মহান ¯্রষ্টার সান্নিধ্য লাভের শিক্ষাই বিশ্বজাকের ইজতেমার শিক্ষা।

তিনি জানান, দু’দিনব্যাপী এই মহতী সম্মেলনে ওয়াজ নসিহত, শরিয়ত, তরিকত, হাকিকত ও ইলমে মারেফত সম্পর্কে প্রখ্যাত ওলামায়ে কেরামগণ আলোচনা করবেন। কোরআনখানি, মিলাদ-মাহফিলসহ জিকির-আসকার ধ্যান-মোরাবাকা-মোশাহাদার মধ্য দিয়ে ২৫ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার ফজর হতে পবিত্র ফাতেহাশরীফের মধ্যদিয়ে শুরু হয়ে বিরতিহীন ভাবে এটি চলতে থাকবে এবং রাতের তৃতীয় প্রহরে রহমত পালন করা হবে। ২৬ জানুয়ারি শুক্রবার জুমার নামাজের বিশাল জামাতের পর বিশ্ববাসীর শান্তি ও মানুষের মুক্তি কামনায় আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে এই মহামিলন শেষ হবে।

তিনি এই মহাপবিত্র ওরছ ও বিশ্বজাকের ইজতেমায় যোগ দেওয়ার জন্য সাংবাদিকদের মাধ্যমে দেশ-বিদেশের সকল মুমিনদের আহবান জানান। পরে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে আলহাজ মাওলানা হযরত সৈয়দ জাকির শাহ নকশবন্দি মোজাদ্দেদি কুতুববাগী বলেন, রাজধানীর কোন ‘বাগের’ সাথে আমার কোন সম্পর্ক নাই। তাদের মতের সাথেও আমার মতের কোন মিল নাই। আমি কোরআন সুন্নাহর মতবাদ প্রচার করি, ইসলামের বিধান মতো চলার নির্দেশনা দেই। তিনি আরো বলেন, আমি আরামবাগের দেওয়ানবাগীকে ও রাজারবাগের রাজারবাগীকে চিনিও না, তাদের বিষয় জানিও না।

বিশ্ববাসীর শান্তি ও মানুষের মুক্তি কামনা এবং এই মহাপবিত্র ওরছ ও বিশ্বজাকের ইজতেমা সুন্দরভাবে সফল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মোনাজাতের মধ্য দিয়ে এ সাংবাদ সম্মেলন সমাপ্ত হয়।

সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ অনলাইন মিডিয়া এসোসিয়েশন-বিওএমএ’র সম্মানিত সভাপতি. সিনিয়র সাংবাদিক. বীরমুক্তিযোদ্ধা আলতাফ মাহমুদ, এ্যাড. মির্জা মাহবুব সুলতান বাচ্চু সহ দৈনিক পত্রিকা, অনলাইন পত্রিকা, টেলিভিশন ও সংবাদ সংস্থার সাংবাদিকবৃন্দ।

অন্যরা য়া পড়ছে...

Loading...



চেক

বিকল্পের সন্ধানে কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপনে দেরি হচ্ছে : ওবায়দুল কাদের

ঢাকা, ১৩ মে ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে কোটা …

স্যাটেলাইট মহাকাশে ঘোরায় বিএনপির মাথাও ঘুরছে : মোহাম্মদ নাসিম

ফেনী, ১৩ মে ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণ হওয়ায় বিএনপির মাথাও ঘুরছে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

My title page contents