১১:৫৪ অপরাহ্ণ - সোমবার, ১২ নভেম্বর , ২০১৮
Breaking News
Download http://bigtheme.net/joomla Free Templates Joomla! 3
Home / জরুরী সংবাদ / ঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে বাঙালি জাতিকে আবারও ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ হবে : রাষ্ট্রপতি

ঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে বাঙালি জাতিকে আবারও ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ হবে : রাষ্ট্রপতি

ঢাকা, ০৭ জানুয়ারী ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): আজ জাতীয় সংসদের ১৯তম ও ২০১৮ সালের প্রথম অধিবেশনে দেয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ সম্পূর্ণরূপে নির্মূলের মাধ্যমে শোষণমুক্ত সমাজ-প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে বাঙালি জাতিকে আবারও ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলের নেতা রওশন এরশাদ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় সংসদ দেশের জনগণের আশা-আকাঙ্খার কেন্দ্রবিন্দু উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান সরকার সার্বিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অভূতপূর্ব গতিশীলতা সঞ্চারণের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও আধুনিক দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঐকান্তিক প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, পরমতসহিষ্ণুতা, মানবাধিকার ও আইনের শাসন সুসংহতকরণ এবং জাতির অগ্রযাত্রার স্বপ্ন ও আকাঙ্খার সফল বাস্তবায়নে সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধীদলকেও বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে হবে।

আবদুল হামিদ জনগণের প্রত্যাশা পূরণের প্রতিষ্ঠান এই মহান জাতীয় সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলসহ সকলকে সম্মিলিতভাবে যথাযথ ও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, শান্তি, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অর্জনের যে পথ জাতি পরিক্রমণ করছে, তা দেশকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। বিশ্বসভায় ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সামাজিক অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি অর্জনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ একটি সম্মানজনক অবস্থানে সমাসীন হয়েছে এবং অচিরেই একটি উন্নত দেশ হিসাবে আপন মহিমায় উদ্ভাসিত হবে বলে তিনি দৃঢ় আস্থা প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘রূপকল্প-২০২১’-এর ভিত্তিতে প্রণীত প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ও ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার আওতায় বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের ফলে আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাও বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

তিনি বলেন, ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে বাংলাদেশ মধ্য-আয়ের দেশে পরিণত হবে এবং ২০৪১ সালে বিশ্বসভায় একটি উন্নত দেশের মর্যাদায় অভিষিক্ত হবে, এটাই জাতির প্রত্যাশা। তিনি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী, সুশাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপায়ন এবং সমাজের সকল স্তরে প্রত্যক্ষ জন-সম্পৃক্তির মধ্য দিয়ে সরকার নির্ধারিত লক্ষ্যসমূহ অর্জনসহ একটি আদর্শ সমাজভিত্তিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনে সক্ষম হবে।

ভাষণের শুরুতে রাষ্ট্রপতি স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অমর শহিদ, চার জাতীয় নেতা, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

এছাড়া তিনি গণতান্ত্রিক সংগ্রাম, ভাষা, সংস্কৃতি ও মর্যাদা সমুন্নত রাখার লড়াইয়ে আত্মত্যাগকারী শহীদদেরও স্মরণ করেন। পাশাপাশি বাঙালির গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার তিন মহান পুরুষ – শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট সংঘটিত বর্বর হত্যাকান্ড ছিল বাঙালি জাতির ইতিহাসে সবচেয়ে কলঙ্কজনক অধ্যায়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে সেদিন শাহাদতবরণ করেছিলেন তাঁর মহীয়সী সহধর্মিণী বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, তিন পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও পারভীন জামাল রোজী, ছোট ভাই শেখ আবু নাসের, ভগ্নিপতি ও মন্ত্রী আব্দুর রব সেরনিয়াবাত ও তাঁর পরিবারের সদস্যবৃন্দ, আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মণি এবং সামরিক সচিব ব্রিগেডিয়ার জামিল উদ্দিন আহমেদ। তিনি তাঁদের সবাইকে অত্যন্ত দুঃখ-ভারাক্রান্ত হৃদয়ে স্মরণ করে তাঁদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।

তিনি ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের জনসভায় শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে পরিচালিত গ্রেনেড হামলায় শাহাদতবরণকারী নারীনেত্রী আইভী রহমানসহ আওয়ামী লীগের ২২ জন নিবেদিতপ্রাণ নেতা-কর্মীকে, একই বছর আততায়ীর গুলিতে শহিদ জাতীয় শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতি আহসানউল্লাহ মাস্টার এবং ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি গ্রেনেড হামলায় শহিদ প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়াকে গভীর দুঃখের সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি তাঁদের সকলের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।

এছাড়া তিনি গত এক বছরে মৃত্যুবরণকারী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। দেশে আইনের শাসন সুসংহত ও সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে উল্লেখ করে আবদুল হামিদ বলেন, জাতির পিতা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যাকারী পলাতক খুনিদের আইনের আওতায় আনার প্রচেষ্টা চলমান রয়েছে। একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা ও হত্যা মামলাটি বিচারিক আদালতে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির পর্যায়ে রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১৯৭১ সালে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের বিচার করছে এবং বিচারের রায় কার্যকর হচ্ছে।

তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ ও উগ্র সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০১৬ সালের জুলাই থেকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের বিভাগ ও জেলাপর্যায়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। ফলে, জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং জনগণ জঙ্গিবাদবিরোধী চেতনায় উজ্জীবিত হয়েছে।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে সরকার বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের ব্যাংক খাত বিশেষত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলিতে অনলাইন ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। পুঁজিবাজার উন্নয়নের লক্ষ্যে ১০ বছর মেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থ-বছরে বৈদেশিক সহায়তার অর্জিত প্রতিশ্রুতি এবং অর্থ ছাড় যথাক্রমে ১৭ দশমিক ৯৬ এবং ৩ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার যা ইতিপূর্বের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গিয়েছে এবং স্বাধীনতার পরবর্তীকালে এটিই সর্বোচ্চ। গত ৫ অর্থ-বছর মেয়াদে মোট ৪১ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বৈদেশিক সহায়তাচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ সময়ে মোট ১৬ দশমিক ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বৈদেশিক সহায়তা ছাড় হয়েছে।

আবদুল হামিদ তাঁর ১৫৭ পৃষ্ঠার ভাষণে সরকারের ৯ বছর শাসনামলে জাতীয় উন্নয়নের সকল ক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। পাশাপাশি ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করতে সরকারের নেয়া বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন ।

আবদুল হামিদ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একাত্তরের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে ইউনেস্কো বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে ইন্টারন্যাশনাল মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

তিনি বলেন, কালোত্তীর্ণ এই ভাষণটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ন্যায় এবং মুক্তির পথে উজ্জীবিত করবে। এ স্বীকৃতি অর্জনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বলতর হয়েছে। দেশ ও জাতির জন্য এ এক বিরল সম্মান। ঐতিহাসিক এই অর্জনের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী এবং দেশের জনগণকে ধন্যবাদ জানান।

অন্যরা য়া পড়ছে...

Loading...



চেক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওমরাহ পালন

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার রাতে এখানে পবিত্র …

জনগণ ছেড়ে বিদেশিদের কাছে কেন : ঐক্যফ্রন্টকে ওবায়দুল কাদের

গাজীপুর, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): শুক্রবার বিকেলে গাজীপুরের চন্দ্রায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক চার লেনে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

My title page contents