১১:১৮ অপরাহ্ণ - সোমবার, ১৯ নভেম্বর , ২০১৮
Breaking News
Download http://bigtheme.net/joomla Free Templates Joomla! 3
Home / আন্তর্জাতিক / যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উদযাপন

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উদযাপন

hasina usa6 25.9.15ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫ (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের সঙ্গে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করেছেন। সেখানে তিনি দেশের মানুষ যাতে বিশ্বের বুকে মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করতে পারে, সেলক্ষে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ কারো কাছে ভিক্ষা চায় না। সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার ভাগ্যের পরিবর্তন করবে। তিনি বলেন, বিজয়ী জাতি হিসেবে বাংলাদেশের যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলা এবং যে কোন লক্ষ্য অর্জনের আত্মবিশ্বাস রয়েছে।

hasina usa5 25.9.15প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭০ তম অধিবেশনে যোগ দিতে বুধবার আটদিনের সরকারি সফরে এখানে এসে পৌঁছেছেন এবং এই প্রথম দেশের বাইরে ঈদ উদযাপন করছেন।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. আব্দুল মোমেন প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে লা গার্ডিয়া ম্যারিয়ট মিশন হোটেলে গতকাল সন্ধ্যায় এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।

এর আগে দিনের শুরুতে শেখ হাসিনা হোটেল ওয়ালড্রফ অ্যাস্টোরিয়াতে প্রবাসী বাংলাদেশীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী এই হোটেলটিতেই অবস্থান করছেন।

hasina usa2 25.9.15সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ভাষণদানকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং আগামী দিনগুলোতে তার এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, বিপুল ত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জনকারী এই দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কেউই দমিয়ে রাখতে পারবে না।

শেখ হাসিনা বলেন, অতীতে বাংলাদেশ বহু দুর্যোগ ও বিপদ মোকাবেলা করেছে। এইসব প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ দেশবাসীকে এর ভবিষ্যত নিয়ে সঙ্কিত করে তুলেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত অপশক্তি পরাজিত হয়েছে এবং সংকট সৃষ্টিকারীরা দেশের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী এবং সজীব ওয়াজেদ জয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেক এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম জিয়াউদ্দিন অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি)-র বেশকিছু ক্ষেত্রে অর্জিত দৃশ্যমান সাফল্য তুলে ধরে বলেন, অবিচল আস্থা এবং বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার পাশাপাশি দৃঢ় আত্মবিশ্বাস এমডিজি অর্জন সম্ভব করে তুলেছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বর্তমান অধিবেশনে প্রণীত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনে বাংলাদেশ অর্জনে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।

গত ২০০০ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে এমডিজি প্রণয়নকালেও তাঁর উপস্থিতির কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রথমবারের মতো ১৫ বছরের জন্য এমডিজি প্রণয়নের অধিবেশনে বিশ্বের সবদেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আমিও উপস্থিত ছিলাম।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশ অনেকগুলো লক্ষ্য অর্জনে সাফল্য লাভকারী অন্যতম একটি দেশ। ‘এটি আমার অনেক বড় ভাগ্যের ব্যাপার যে এবারের এসডিজি প্রণয়নের শীর্ষ সম্মেলনেও আমি যোগদান করছি’ -বলেন প্রধানমন্ত্রী।

এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, জনগণই এ সাফল্যের প্রধান হাতিয়ার তাদের সমর্থন ও সহযোগিতা ছাড়া এ অর্জন ছিল অসম্ভব। তিনি বলেন, সরকারকে এসডিজি বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে এবং এসডিজি’র বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ আরেকটি উদাহরণ সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার হতাশ নয়। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আত্মবিশ্বাস থাকলে যে কোন অসাধ্য সাধন করা সম্ভব। হা হুতাশ করলে কিছুই পাওয়া যায় না, কাজেই আমরা আত্মবিশ্বাস নিয়ে চলছি, এ বিশ্বাসে বলীয়ান হয়েই চলবো।’

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা যখন কোন অর্জনের কথা বলি, তখন আমাদের এ কথা স্মরণ রাখা উচিত যে বাংলাদেশ ১৬ কোটি জনসংখ্যার ছোট একটি দেশ। এ বিশাল জনসংখ্যা নিয়ে সার্বিক উন্নয়ন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে বাংলাদেশের জনগণের যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলার সামর্থ্য রয়েছে এবং তারা যে কোন কিছু অর্জন করতে পারে।
তারা এটা বহুবার প্রমাণ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ এক রক্তাক্ত যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করে। সুতরাং যে কোনো জিনিস অর্জন তাদের কাছে কঠিন নয়, এটা বঙ্গবন্ধুই তাদের শিখিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর হৃদয়ে একটি কষ্ট সব সময়ই বাজে আর তা হলো- বাংলাদেশ দুর্যোগ, দারিদ্র্য, ক্ষুধা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের একটি দেশ। তিনি বলেন, ‘এটি আমার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ যে, এই দেশটিকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে, যাতে অন্যের সাহায্য-সহযোগিতার আর দরকার হবে না। বরং আমরা স্বাধীনতা ও মর্যাদা নিয়ে বসবাস করতে পারবো।’

তিনি বলেন, আল্লাহর অশেষ রহমতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই প্রগতির পথে পা বাড়িয়েছে এবং দেশটি ২০২১ সালের মধ্যেই মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে।

বাংলাদেশ ২০২১ সালের আগেই মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে- এ আশাবাদ ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, ২০৪১ সালের আগেই বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিণত হবে। তিনি বলেন, এটা আমাদের লক্ষ্য, যাতে ভবিষ্যতে কেউই বাংলাদেশকে অবহেলা করতে না পারে।’

প্রবাসী বাংলাদেশীদের ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর তিনি গণভবনে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করে থাকেন। তিনি বলেন, গণভবনের দরজা সকলের জন্যই খোলা থাকে। ধনী-গরীব সকলে একাকার হয়ে শুভেচ্ছা জানাতে আসেন। এবার পারলাম না বলে দুঃখিত। তবে আপনাদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে পারছি, এজন্য ভালো লাগছে।

প্রধানমন্ত্রী ঈদের দিন সৌদি আরবের মিনায় পদদলিত হয়ে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি নিহতদের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোক-সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং বাকিরা যাতে সুস্থভাবে হজ পালন শেষে দেশে ফিরে আসতে পারেন তা কামনা করেন।

অন্যরা য়া পড়ছে...

Loading...



চেক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওমরাহ পালন

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার রাতে এখানে পবিত্র …

শুভ বিজয়া দশমীতে ভক্তদের ঢল

ঢাকা, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): আজ শুভ বিজয়া দশমী। একদিকে বিদায়ের সুর, অন্যদিকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

My title page contents