৫:২৯ পূর্বাহ্ণ - বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর , ২০১৮
Breaking News
Download http://bigtheme.net/joomla Free Templates Joomla! 3
Home / জরুরী সংবাদ / সরকারের শেষ মেয়াদে আন্দোলনের কৌশল শিক্ষকদের

সরকারের শেষ মেয়াদে আন্দোলনের কৌশল শিক্ষকদের

   ঢাকা, ০১ জানুয়ারি,২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম):প্রতি সরকারের মেয়াদের শেষ সময়ে জমে উঠে শিক্ষক আন্দোলন। এমপিওসহ নানা দাবিতে তারা রাজপথে সক্রিয় হয়। দাবি আদায়ে সরকারের মেয়াদের শেষ সময়কেই মোক্ষম সময় হিসেবে বেছে নিয়েছে শিক্ষকরা। শিক্ষকদের দাবি এটা তাদের কৌশল। কারণ সরকারের শেষ সময়ে দাবি আদায় সহজ। কারণ নির্বাচন আসন্ন থাকায় সরকারও এ বিষয়ে সহনীয় মনোভাব দেখায়। সবকিছু বিবেচনায় তারা সরকারের মেয়াদের শেষ সময়কেই আন্দোলনের ‘মৌসুম’ হিসেবে বেছে নিচ্ছে।

প্রায় সাতদিন ধরে রাজধানীর প্রেসক্লাবে এমপিও এর দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষকরা। তারা এখন আমরণ অনশনে রয়েছেন।

রবিবার প্রেসক্লাবে আন্দোলনরত শিক্ষক ফোরকান মিয়ার সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তিনি জানান, আমরা সরকারের এমপিও’র ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবো।

এই সময়েই কেন আন্দোলন, আগে নয় কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে এই শিক্ষকের সরল জবাব, আন্দোলন তো দীর্ঘসময় ধরে করা যায় না। সরকারের মেয়াদের শেষে আন্দোলন করলে দাবি পুরণ সহজ হয়। এই কারণেই আমরা এখন রাজপথে।

অতীতেও একই চিত্র

অতীতেও দেখা গেছে, সরকারের শেষ সময়ে শিক্ষক সংগঠনগুলো মাঠে নেমে দাবি আদায়ের চেষ্টা করে। ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৬ সালে নির্বাচনের আগেভাগে শিক্ষকদের আন্দোলন করে দাবি আদায়ের নজির রয়েছে। ভোটের রাজনীতির কারণেই ওই সময়গুলোতে সরকার নমনীয় হয়েছিল।

প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্দোলন

উদাহরণ হিসেবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের বিরোধ নিয়ে সম্প্রতি আন্দোলন হয়েছে। বেশ কয়েকদিন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকেরা ব্যবধান কমিয়ে বেতন স্কেল প্রধান শিক্ষকের এক ধাপ নিচে রাখার দাবিতে আন্দোলন করেন। পরে অবশ্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসে তারা বাড়ি ফেরেন।

এমপিও‘র দাবিতে রাজপথে শিক্ষকরা

এই আন্দোলন শেষ হতে না হতেই এখন রাজপথ গরম করছেন এমপিওভুক্তির দাবি  ৫ হাজার ২৪২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। এগুলোতে শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা ৭৫ হাজার থেকে ৮০ হাজার। স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহস্রাধিক শিক্ষক-কর্মচারী এখন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আটদিন যাবৎ লাগাতার কর্মসূচি পালন করছেন। তাঁরা বলছেন, সরকারের সব শর্ত মেনে তাঁরা শিক্ষকতা করলেও বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। রবিবার থেকে তাঁরা আমরণ অনশন শুরু করেছেন।

সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গোলাম মাহমুদুন্নবী বলেন, আমরণ অনশন ছাড়া আর কোনো বিকল্প তাঁদের সামনে নেই। কারণ তারা মানবেতন জীবন চালাচ্ছেন। এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা নিজ নিজ এলাকায় অর্থাভাবে ব্যাপক অবহেলার শিকার হচ্ছেন। তাদের অবস্থা  এমন যে- কেউ টাকা ধারও দিতে চায় না।

সর্বশেষ ২০১০ সালে ১ হাজার ৬২৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়েছিল। এরপর থেকে এমপিওভুক্তি বন্ধ রয়েছে। সরকারি দলের সাংসদদের অনেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি চান। কিন্তু অপরিকল্পিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ায় এবং বছরের পর বছর রাজনৈতিক কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করায় শিক্ষা বাজেটের ওপর চাপ পড়ছে।

জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ঢাকাটাইমসকে বলেন, এমপিওভুক্ত করার জন্য তিনি নিজেও চেষ্টা করছেন। এ জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে দেনদরবার চলছে। অর্থ প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আবদুল মান্নানের নেতৃত্বে কমিটি হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এবার আন্দোলনে মাদ্রাসা শিক্ষকরা

এবার মাদরাসা জাতীয়করণসহ ছয় দফা দাবিতে লাগাতার অবস্থান ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন ইবতেদায়ি শিক্ষকরা। বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি কাজী মুখলেছুর রহমান রবিবার এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘প্রাইমারির শিক্ষকরা সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ক্লাস নেন, আমরাও বিকেল ৫টা পর্যন্ত ক্লাস নিই। প্রাইমারিতে যে সিলেবাস পড়ানো হয়, আমরাও একই সিলেবাস অনুসরণ করি। তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয় দ্বারা পরিচালিত, আমরাও শিক্ষা মন্ত্রণালয় দ্বারা পরিচালিত। প্রাইমারি শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে বই পায়, ইবতেদায়ি শিক্ষার্থীরাও বিনামূল্যে বই পায়। প্রাইমারির শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি দেওয়া হয়, আমাদের শিক্ষার্থীদেরও উপবৃত্তি দেওয়া হয়। তারা যে নীতিমালায় নিয়োগকৃত, আমরাও সে নীতিমালায় নিয়োগকৃত। সবদিক থেকে প্রাইমারি শিক্ষকদের সঙ্গে মিল থাকলেও আমরা কেন তাদের মতো সুযোগ-সুবিধা পাব না। এটি আমাদের ন্যায্য দাবি। আমরা আশা করছি, সরকার আমাদের দাবি মেনে নেবে। অন্যথায় দাবি আদায়ে আমাদের অবস্থান ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।’

শিক্ষকদের চলমান আন্দোলন সম্পর্কে জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন দাবিতে শিক্ষকেরা বিভিন্ন সময় আন্দোলন করে আসছেন। শিক্ষকদের পৃথক বেতনকাঠামো করাসহ অন্যান্য বিষয়ে শিক্ষানীতিতে স্পষ্ট কিছু নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও গত ৭ বছরে শিক্ষানীতির সে বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করা হয়নি। তিনি বলেন, পৃথক বেতনকাঠামো করলেই সঙ্গে সঙ্গে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে তা নয়, কিন্তু পদক্ষেপ তো নিতে হবে।

অন্যরা য়া পড়ছে...

Loading...



চেক

বিকল্পের সন্ধানে কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপনে দেরি হচ্ছে : ওবায়দুল কাদের

ঢাকা, ১৩ মে ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে কোটা …

স্যাটেলাইট মহাকাশে ঘোরায় বিএনপির মাথাও ঘুরছে : মোহাম্মদ নাসিম

ফেনী, ১৩ মে ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণ হওয়ায় বিএনপির মাথাও ঘুরছে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

My title page contents