২:৫৩ অপরাহ্ণ - বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর , ২০১৮
Breaking News
Download http://bigtheme.net/joomla Free Templates Joomla! 3
Home / রাজনীতি / আওয়ামী লীগ / জিয়াউর রহমানকে আমি কখনই মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মনে করি না : এইচ টি ইমাম

জিয়াউর রহমানকে আমি কখনই মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মনে করি না : এইচ টি ইমাম

ঢাকা, ০৭ নভেম্বর, ২০১৭ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): আজ মঙ্গলবার নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় ড্যাব আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণতন্ত্রের জন্য আমাদের সংগ্রাম চলছে, ভবিষ্যতেও এ সংগ্রাম চলবে। বিজয় আমাদের হবেই’।

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতি বছর ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শহীদ জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এবার ক্ষমতাসীনরা আমাদের সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেছে।’

৪২ বছর আগে সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থান পাল্টা অভ্যুত্থানের এক পর্যায়ে ৭ নভেম্বর সেনাবাহিনীর সৈনিক এবং সাধারণ জনগণকে নিয়ে বিপ্লব করার চেষ্টা করে জাসদ। আর সেনাবাহিনীর একাংশের হাতে বন্দী জিয়াউর রহমানকেও মুক্ত করে তারা। কিন্তু এই চেষ্টার নিয়ন্ত্রণ পরে জাসদের হাতছাড়া হয়ে যায় এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কাছাকাছি চলে আসেন জিয়াউর রহমান।

এই দিনটিকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালন করে বিএনপি। দলটি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকাকালে এদিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালে এই ছুটি বাতিল করা হয়। আর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দিনটিকে পালন করে মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা দিবস হিসেবে।

আওয়ামী লীগ শাসনামলে গত কয়েক বছরে বিএনপিকে এই দিন সমাবেশের অনুমতি চেয়ে পায়নি। চলতি বছরও দিনটির স্মরণে ৮ নভেম্বর বুধবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি চেয়েছিল বিএনপি। কিন্তু একই সময়ে আরও একটি সংগঠন সেখানে সমাবেশ করতে চেয়েছে জানিয়ে কাউকে সমাবেশের অনুমতি দেয়নি ঢাকা মহানগর পুলিশ।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সুসংহত করার জন্য প্রতি বছর আমরা ৭ নভেম্বর দিনটিকে স্মরণ করি। কিন্তু আজকের এই দিনে নতুন করে শপথ নিতে হবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার।’

সরকারকে ইঙ্গিত করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মুখে এই অপশক্তির পরাজয় হবে। সেই সঙ্গে অর্জিত হবে জনতার বিজয়।’

এরপর দলের পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনেও সরকার তাদের বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কর্মসূচি করতে দেয়নি বলে অভিযোগ করেন ফখরুল। এসময় দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীতে সমাবেশ পূর্বনির্ধারিত দিন থেকে একদিন পিছিয়ে রবিবার করার কথাও বলেন তিনি।

ফখরুল বলেন, ‘আমরা আশা করব, সরকার সমাবেশ করার জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। বিএনপি প্রতিবছরই বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে চন্দ্রিমা উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানায়, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল আয়োজন করে। কিন্তু সরকার এবার সিপিএ (কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশন) সম্মেলনের অজুহাত দেখিয়ে আমাদের সেখানে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল করতে দেয়নি। সরকার গণতান্ত্রিক কর্মসূচি ও নাগরিক অধিকারে যেভাবে বাধা দিয়ে আসছে, এরই ধারাবাহিকতায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে বিএনপিকে শ্রদ্ধা জানানো ও মিলাদ মাহফিল আয়োজন করতে দেয়নি বলে আমরা মনে করি।’

ড্যাবের কর্মসূচিতে সংগঠনের মহাসচিব ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ড্যাবের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু উপস্থিত ছিলেন।

): আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে জেনারেল খালেদ মোশাররফের স্মরণসভায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের পর পাকিস্তান থেকে আসা সেনা সদস্যদের বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়ার সুযোগ দেয়াসহ দুটি ভুল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার দিকে নিয়ে গিয়েছিল। এই দুটি ভুলই বাংলাদেশকে পেছনের দিকে নিয়ে গেছে বলে মনে করেন তিনি।

সেদিন যারা খুন হয়েছিলে তাদের একজন মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফ। ‘খালেদ মোশাররফ স্মৃতি পরিষদ’ আয়োজিত ‘৭ নভেম্বর মুক্তিযোদ্ধা ও সৈনিক হত্যা দিবস’ শীর্ষক এই আলোচনায় এত সভাপতিত্ব করেন প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার সহধর্মিনীর সালমা খালেদ।

এইচটি ইমাম বলেন, ‘স্বাধীনতার পরে দুটি জিনিস আমাদের পেছনে নিয়ে গেছে। প্রথমত. সেনাবাহিনীতে পাকিস্তান ফেরতদের আত্মীকরণ। যে কাজটি জিয়াউর রহমান এবং জেনারেল ওসমানী মিলে করেছিলেন। দ্বিতীয়ত. কর্নেল তাহের ও মেজর জলিলদের নিয়ে আসা। এগুলো না হলে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হতো না, দেশ অনেকদূর এগিয়ে যেত।’

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক সেনা শাসক জিয়াউর রহমানই দেশকে পাকিস্তানি ভাবধারায় নিয়ে গিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেন এইচ টি ইমাম। তিনি বলেন, ‘জিয়াকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক বলা হচ্ছে। তিনি যে দলগুলো গড়েছেন তা সভাপতি সম্পাদক দিয়ে। ক্ষমতায় এসে তিনি মান্নানের মতো রাজাকারকে মন্ত্রী বানালেন, আব্দুল আলীম, শর্শিনার পীরের মতো লোককে মন্ত্র্রী বানালেন। দেশকে সম্পূর্ণ পাকিস্তানি ভাবধারায় নিয়ে গেলেন।’

‘জিয়াউর রহমানকে আমি কখনই মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মনে করি না। কারণ জিয়াউর রহমান শুধু বিহারির সন্তানই ছিলেন না, সরসরি মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমান কখনই অংশ নেয় নাই, সকল অপারেশন করেছে কর্নেল তাহের।’

আলোচনায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে বঙ্গবন্ধুর বিশ্বস্ততা অর্জনের জন্য জিয়া, খুনি মোস্তাক বিভিন্ন অভিনয় করেছেন। সেই খলনায়কদের এখন মহানায়ক বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। জিয়াউর রহমান কখনও বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব মানেননি।’

স্মরণসভায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ইসমত কাদির গামা বলেন, ‘৭ নভেম্বরের সামরিক ক্যুতে অসংখ্য সামিরক বাহিনীর কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয় জিয়া এবং তাহেরের নির্দেশে। এরপর জিয়া রাজাকারদের মন্ত্রিসভায় স্থান দিলেন পাকিস্তানকে খুশি করার জন্য। স্বাধীনতাবিরোধী শর্শীনার পীরকে স্বাধীনতা পুরস্কার দিলেন। তাই জিয়া কোনদিনও স্বাধীনতার পক্ষের লোক নয়।

জিয়া স্বাধীনতার মূলমন্ত্র পরিবর্তন করতে চেয়েছিলেন অভিযোগ করে স্বাধীনতার পর তাকে দেয়া বীর উত্তম খেতাব প্রত্যাহারেরও দাবি জানান গামা।

অন্যরা য়া পড়ছে...

Loading...



চেক

বিকল্পের সন্ধানে কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপনে দেরি হচ্ছে : ওবায়দুল কাদের

ঢাকা, ১৩ মে ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে কোটা …

স্যাটেলাইট মহাকাশে ঘোরায় বিএনপির মাথাও ঘুরছে : মোহাম্মদ নাসিম

ফেনী, ১৩ মে ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণ হওয়ায় বিএনপির মাথাও ঘুরছে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

My title page contents