১০:১৩ পূর্বাহ্ণ - সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর , ২০১৮
Breaking News
Download http://bigtheme.net/joomla Free Templates Joomla! 3
Home / আন্তর্জাতিক / রাখাইনে সহিংসতা শুরু হওয়ার পর মিয়ানমারের অন্য মুসলমানরা কেমন আছে
A Buddhist monk (L) walks by Myanmar Muslims (R) greeting one another outside the Narsapuri mosque to mark Eid al-Fitr in Yangon on July 7, 2016 as the country's Muslims celebrate the end of the Islamic holy fasting month of Ramadan. / AFP PHOTO / ROMEO GACAD

রাখাইনে সহিংসতা শুরু হওয়ার পর মিয়ানমারের অন্য মুসলমানরা কেমন আছে

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, ২৭ অক্টোবর, ২০১৭ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): রাখাইনে সহিংসতা শুরু হওয়ার পর মিয়ানমারের ভেতরের অবস্থা দেখতে সেখানে গিয়েছিলেন বিবিসি সংবাদদাতা আনবারাসান এথিরাজন। রোহিঙ্গা নন এমন মুসলমানদের পরিস্থিতি বুঝতে তিনি কথা বলেছেন এই সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে। দেশটির সবচেয়ে বড় শহর ইয়াঙ্গন থেকে তার পাঠানো প্রতিবেদন।

মিয়ানমারেই তুন চি’র বাড়ি। অন্যান্য হাজাররো বার্মিজদের মতো তিনি এই দেশে জন্মেছেন, বড় হয়েছেন, সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে তিনিও রাস্তায় আন্দোলন করেছেন গণতন্ত্রের দাবিতে। ১০ বছর তিনি কারাগারেও কাটিয়েছেন।

আজ তিনি মিয়ানমারের সাবেক রাজবন্দী পরিষদে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। তিনি ঐসব মুসলমানদের একজন, যারা আশা করেন যে ২০১০ সালে সেনা-শাসনের অবসানের পর মুসলমানরা সমাজে তাদের যথাযথ অবস্থান ফিরে পাবে।

তিনি বলেন, ‘২০১২ সালে রাখাইনে সহিংসতার পরই পরিস্থিতি পাল্টে যায়। কেবল রোহিঙ্গা মুসলিমরাই উল্টো স্রোতের মুখোমুখি হয়েছেন এমন নয়, পুরো মুসলমান সম্প্রদায়ই আসলে এই সমস্যার মধ্যে পড়ে গেছেন।’

চি’র পূর্বপুরুষরা এক সময় ভারত থেকে বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারে এসেছিলেন। এসেছিলেন অনেক পুরুষ আগে, তখন দেশটি বার্মা নামে পরিচিত ছিল।

২০১২ সালে পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন প্রদেশে বৌদ্ধ আর রোহিঙ্গা মুসলমানদের মধ্যে সংঘর্ষের পর এক লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন। অধিকাংশ বাস্তুচ্যুত, বিশেষ করে রোহিঙ্গা মুসলমানরা শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে আশ্রয় নেন।

‘ইয়াঙ্গুনের একটি মসজিদে এক শুক্রবার আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হলো। আমি দেখলাম শতশত পুরুষ মসজিদে ঢুকছে। অনেকের মাথায় টুপি, তারা নামাজের জন্য তৈরি হচ্ছেন। প্রার্থনার জন্য আসা অনেকের সঙ্গে আলাপে এটা পরিষ্কার বুঝতে পারলাম রাখাইনে যা ঘটছে তা নিয়ে এই সম্প্রদায়ের মানুষ কতটা অস্বস্তিতে আছে।’

রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি(আরসা) ২৫ আগস্টে রাখাইন অঞ্চলে মিয়ানমারের নিরাপত্তা চৌকিতে একযোগে হামলা করার পর সেখানে সহিংসতা শুরু হয়। জবাবে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী পাল্টা ব্যবস্থা নেয়, যাকে তারা বলছে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান।

এরপর পাঁচ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম সেখান থেকে পালিয়ে বাঁচে- একই সঙ্গে উঠে আসে ধর্ষণ আর বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সব খবরাখবর।

রোহিঙ্গাদের এই পালিয়ে বাঁচাকে জাতিসংঘের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং মানবাধিকার কর্মীরা বর্ণনা করেছেন ‘জাতিগত নিধন’ হিসেবে- তবে মিয়ানমারের সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

‘রাখাইন রাজ্যের সমস্যা খুবই ভয়ংকর’- নামাজ পড়তে আসা মুহাম্মদ ইউনুস আমাকে ফিসফিস করে বললেন। ‘এমন উদ্বেগও আছে যে সহিংসতা ইয়াঙ্গুন এবং অন্যান্য এলাকাতেও ছড়াতে পারে।’

তিনি বলেন, দেশের অন্য এলাকার মুসলমানরা কী বলছেন কিংবা প্রতিদিন কী ধরনের কাজ করছেন – এসব নিয়ে খুব সাবধানি হয়েছেন।

‘রাখাইনে জন্ম নিয়েছেন আর বড় হয়েছেন এমন অনেক মানুষ এখন ইয়াঙ্গুনে বাস করছেন’- ইউনুস জানান। ‘তবে তারা তাদের পরিবারের সদস্য আর আত্মীয়দের নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।’

ধারণা করা হয়, মিয়ানমারের পাঁচ কোটি ৩০ লাখ বাসিন্দার মধ্যে ৪.৫ শতাংশ মুসলমান। রোহিঙ্গাদের ধরেই এই হিসাব। তবে মুসলিম নেতারা এমন যুক্তি দেন যে তাদের আসল সংখ্যা সরকারি হিসাবের দ্বিগুণের মতো হতে পারে।

অনেক প্রতিবেদনে বলা হয়, মুসলমানরা মিয়ানমারে শত শত বছর ধরে বাস করছেন। ব্রিটিশ শাসনের সময় তাদের সংখ্যা বাড়ে, কারণ সে সময় অনেকে দেশটিতে অভিবাসী হয় কিংবা তাদেরকে ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে নিয়ে আসা হয়।

রোহিঙ্গা মুসলমানদের ভাষা দক্ষিণ এবং কেন্দ্রীয় মিয়ানমারে বাস করা মুসলমানদের থেকে আলাদা। আর রোহিঙ্গাদের অধিকাংশের বসবাস রাখাইন রাজ্যে।

মুসলমান নেতারা বলছেন, তাদের জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বেশ বড় হলেও পার্লামেন্টে মুসলিম কোন সদস্য নেই, আর এই কারণে তারা হতাশ।

২০১৫ সালের নির্বাচনের পর অং সান সু চি’র দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) ক্ষমতায় আসে। কিন্তু এই দলও নির্বাচনে কোন মুসলিম প্রার্থী দেয়নি।

‘আমরা অনুভব করি সব রকমভাবেই আমরা বৈষম্যে শিকার হচ্ছি’- বললেন আলহাজ্ব উ আয়ে লিউইন, যিনি ইসলামিক সেন্টার অব মিয়ানমারের মুখ্য আহবায়ক।

তিনি বলেন, ১৯৬২ সালে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করার পর থেকেই এই অবস্থা চলছে এবং তখন থেকেই গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদ হতে মুসলমানদের সরিয়ে দেয়া শুরু হয়।

‘আপনি এখন পুলিশ বাহিনীতে এমনকি একজন জুনিয়র (মুসলিম) কর্মকর্তা খুঁজে পাবেন না- সেনাবাহিনী তো অনেক দূরের কথা’- জানালেন লিউইন। তিনি যুক্তি দেন যে সরকার থেকেই বৈষম্যের ঘটনা বেশি হচ্ছে এবং একেবারে নিচু পর্যায়ে এটা এতো বিস্তৃত নয়।

সাবেক জাতিসংঘ মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে যে স্বাধীন উপদেষ্টা কমিশন গঠন করা হয়েছিল, তার একজন সদস্য হলেন লিউইন। রাখাইন রাজ্যে বিরোধের সমাধান খুঁজে বের করতে এই কমিশন গঠন করা হয়েছিল।

অং সান সু চি ২০১৬ সালে এই কমিশন গঠন করেন। সর্বশেষ সহিংসতা শুরুর একদিন আগে, অর্থাৎ ২৪ আগস্ট কমিশন তাদের সুপারিশ পেশ করে।

লিউইন বলেন, সু চি হয়তো নিখুঁত নন, কিন্তু ‘তিনিই আমাদের একমাত্র আশা’। এই মুসলিম নেতার যুক্তি হলো, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে তার পক্ষে যতটুকু করা সম্ভব, মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর ততটুকু করেছেন।

‘তিনি যদি খোলামেলাভাবে মুসলমানদের পক্ষে কথা বলা শুরু করেন, তবে তা হবে তার জন্য রাজনৈতিকভাবে আত্মহত্যা করার শামিল’- লিউইন বলেন।

‘আমরা চাইনা যে সেটা ঘটুক।’

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, পশ্চিমা বিশ্বের এটা বুঝতে হবে তাকে নিন্দিত করে ক্ষমতা থেকে সরালে মিয়ানমার আবারও কর্তৃত্ববাদী শাসনে ফিরে যেতে পারে।

‘তখন কেবলমাত্র একনায়কেরাই ফিরে আসবে’- সাবধান করে দিলেন তিনি।

অন্যরা য়া পড়ছে...

Loading...



চেক

বিকল্পের সন্ধানে কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপনে দেরি হচ্ছে : ওবায়দুল কাদের

ঢাকা, ১৩ মে ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে কোটা …

স্যাটেলাইট মহাকাশে ঘোরায় বিএনপির মাথাও ঘুরছে : মোহাম্মদ নাসিম

ফেনী, ১৩ মে ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণ হওয়ায় বিএনপির মাথাও ঘুরছে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

My title page contents