১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ - রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর , ২০১৮
Breaking News
Download http://bigtheme.net/joomla Free Templates Joomla! 3
Home / আন্তর্জাতিক / মিয়ানমারের সংকটের দ্রুত সমাধানের ব্যাপারে আশাবাদী কফি আনান

মিয়ানমারের সংকটের দ্রুত সমাধানের ব্যাপারে আশাবাদী কফি আনান

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, ১৪ অক্টোবর, ২০১৭ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের জনগণের স্থায়ী শান্তি, নিরাপত্তা, সমৃদ্ধি, উন্নয়ন ও চলমান সংকটের দ্রুত সমাধানের ব্যাপারে আশাবাদী।

তাঁর (আনান) কমিশন প্রণীত রিপোর্টের সুপারিশমালার উদ্ধৃতি দিয়ে কফি আনান বলেন, কমিশনের রিপোর্টে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব সম্পর্কে মিয়ানমার সরকারের ১৯৮২ সালে প্রণীত নাগরিকত্ব আইন আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সংশোধনের বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের মর্যাদা ও নিরাপত্তার সাথে নিজ ভূমিতে প্রত্যাবর্তন, মানবিক সহায়তা ও মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করতেও কফি আনান তাঁর রিপোর্টে উল্লেখ করেন।

তিনি বাংলাদেশের সাথে সীমান্ত নিরাপত্তা ও দ্বিপাক্ষিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা রক্ষা করার বিষয়ে জোর দিয়ে বলেন এই সুসম্পর্ক ও সহযোগিতার মাধ্যমে উভয় দেশই লাভবান হবে।

কফি আনান রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে মিয়ানমারের আন্ত:সম্প্রদায়ের মধ্যে সংলাপ ও সমঝোতার উপর বিশেষভাবে গুরুত্ব দেন।

জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বলেন,‘এই ভয়াবহ রোহিঙ্গা সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে না, যতক্ষণ না পর্যন্ত রাখাইন প্রদেশের জনগণের কল্যাণে মিয়ানমার সরকার রাখাইন জনগোষ্ঠী ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ঐক্যমত্য হয়ে কাজ না করবে।

শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ইকোসক চেম্বারে মিয়ানমারের পরিস্থিতির উপর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যগণ আরিয়া ফর্মুলা সভায় অংশগ্রহণ করেন।

আরিয়া ফর্মুলার এ সভা ব্রিটিশ ও ফরাসী ডেলিগেশনের পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয় । এ্যাডভাইজরি কমিটি অন রাখাইন স্টেটের চেয়ারম্যান নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান এ সভায় বক্তৃতা করেন।

কফি আনান তাঁর বক্তব্যে সম্প্রতি মিয়ানমার সরকারের কাছে পেশকৃত ‘এ্যাডভাইজরি কমিটি অন রাখাইন স্টেট-এর রিপোর্টের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোকপাত করেন।

রোহিঙ্গা উদ্বাত্তুদের মর্যাদা ও নিরাপত্তার সাথে নিজ ভূমিতে প্রত্যাবর্তন, মানবিক সহায়তা ও মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করতে কফি আনান তাঁর রিপোর্টে উল্লেখ করেন।

তিনি বাংলাদেশের সাথে সীমান্ত নিরাপত্তা ও দ্বিপাক্ষিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা রক্ষা করার বিষয়ে জোর দিয়ে বলেন এই সুসম্পর্ক ও সহযোগিতার মাধ্যমে উভয় দেশই লাভবান হবে।

কফি আনান রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে মিয়ানমারের আন্ত:সম্প্রদায়ের মধ্যে সংলাপ ও সমঝোতার উপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন।

নিরাপত্তা পরিষদের সকল সদস্যই এ সংকট সমাধানের পক্ষে বক্তব্য রাখেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি এটিকে মানবিক বিপর্যয় আখ্যা দিয়ে বলেন,‘এনাফ ইজ এনাফ। আমরা এটি আর গ্রহণ করতে পারছি না। আমরা মিয়ানমার সিকিউরিটি ফোর্সের এই হীন কাজের নিন্দা জানাই।’ যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি অনতিবিলম্বে মানবিক সহযোগিতা প্রদানের সুযোগ সৃষ্টি, সহিংসতা বন্ধ, জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের পূর্ণ প্রবেশাধিকার, রোহিঙ্গা শরনার্থীদের নিরাপদ ও নিশ্চয়তার সাথে স্বদেশে প্রত্যাবর্তনসহ কফি আনান কমিশনের রিপোর্টের পূর্ণ বাস্তবায়নের উপর জোর দেন। প্রায় একই ভাষায় কথা বলে নিরাপত্তা পরিষদের অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিগণ। তারা বাস্তুচ্যুত ও অসহায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মানবিক সাহায্য প্রদান করায় বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশের জনগণের ভূয়সী প্রসংশা করেন। সকলেই সহিংসতা বন্ধ, কফি আনান কমিশনের সুপারিশমালা বাস্তবায়ন এবং উদ্বাস্তু প্রত্যাবাসনের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যগণের বাইরে বাংলাদেশ, মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড এর প্রতিনিধিগণ বক্তব্য রাখেন। এছাড়া অফিস অব দ্য হাইকমিশন অব হিউম্যান রাইটস্, অফিস ফর দ্যা কো-অর্ডিনেশন অব হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়াস্র্, ইউএনএইচসিআর-এর প্রতিনিধি, ওআইসি এবং ইউরোপিও ইউনিয়নের প্রতিনিধিগণ বক্তব্য রাখেন।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন বলেছেন, নিরাপত্তা পরিষদের অংশগ্রহণ ও তদারকি ছাড়া মিয়ানমারের সাথে সৃষ্ট সমস্যার স্থায়ী ও অর্থপূর্ণ সমাধান হবে না।

রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন বলেন, “দুর্ভাগ্যজনক এই যে মিয়ানমার সরকারের দেওয়া বিবৃতি আর রাখাইন প্রদেশের প্রকৃত পরিস্থিতির মধ্যে বিস্তর ব্যবধান রয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনারের অফিসের র‌্যাপিড রেসপন্স মিশনের সাম্প্রতিক রিপোর্টে এমনটিই তুলে ধরা হয়েছে। ২৫ আগস্টের পর থেকে আজ সকাল পর্যন্ত ৫ লাখ ৩৬ হাজার মানুষ মিয়ানমার সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। সব মিলিয়ে উদ্বাস্তুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ লাখে”।

গত মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর ভাষণে মিয়ানমার পরিস্থিতির সমাধানে যে ৫টি পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তৃতায় তা তুলে ধরে বলেন, “সহিংসতা ও একটি জাতিকে নির্মূলের প্রক্রিয়া বন্ধ, মিয়ানমারে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফান্ডিং মিশন প্রেরণ, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সেফ জোন তৈরি, জোরপূর্বক উচ্ছেদকৃত মানুষদের নিজ ভূমিতে স্থায়ী প্রত্যাবর্তন এবং কফি আনান কমিশনের সুপারিশের পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে”।

রাষ্ট্রদূত মোমেন আরও বলেন, “মিয়ানমারের সামরিক জান্তার উপর্যুপরি উষ্কানি এবং বাংলাদেশের আকাশ সীমা লঙ্ঘন সত্ত্বেও বাংলাদেশ সর্বোচ্চ সহিষ্ণুতা প্রদর্শণ ও মিয়ানমারের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছে”।

তিনি বলেন, দু’দেশের মধ্যে একটি জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের সিদ্ধান্ত হলেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আরও বিশদ আলোচনার প্রয়োজন হবে। এ ধরনের কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে আন্তর্জাতিক মহল বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদের অংশগ্রহণ ও তদারকি ছাড়া মিয়ানমারের সাথে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও অর্থপূর্ণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মূল সমস্যা সমাধান করা কঠিন হবে।

স্থায়ী প্রতিনিধি প্রধানমন্ত্রীর উক্তি উল্লেখ করে বলেন, “এই সংকটের শিকড় মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও মিয়ানমারে নিহিত”।

গত ২৮ আগস্ট থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিষদ মিয়ানমার পরিস্থিতির উপর তিনবার আলোচনায় বসে। ১৩ সেপ্টেম্বর নিরাপত্তা পরিষদ মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে।

নিরাপত্তা পরিষদ এই সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানায় এবং মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনীর দ্বারা সৃষ্ট রাখাইন প্রদেশের সাধারণ জনগণের উপর উপর্যুপরি এই সহিংসতা বন্ধ, রাখাইন প্রদেশে আগের অবস্থা ফিরিয়ে আনা, আইন-শৃংখলার পুনঃস্থাপন, সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা, স্বাভাবিক আর্থ-সামাজিক পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং উদ্বাস্তু সমস্যার সমাধানে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায়।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেজ নিরাপত্তা পরিষদের একটি উন্মুক্ত সেশনে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে মিয়ানমারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির উপর বিবৃতি প্রদান করেন। এ সভায় মহাসচিব মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে প্রদত্ত তিনটি বার্তার পুনঃরুল্লেখ করেন। বার্তা ৩টি হচ্ছে, সামরিক বাহিনীর অপারেশন বন্ধ করা; বাঁধাহীনভাবে মানবিক সাহায্যের সুযোগ দেওয়া এবং রোহিঙ্গা শরানার্থীদের তাদের মূল ভূখন্ডে নিরাপদ, স্বপ্রণোদিত ও মর্যাদার সাথে প্রর্ত্যাবর্তনের টেকসই ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। আজ আরিয়া ফর্মুলা মিটিং এ পুনরায় নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যগণ একত্রিত হলো।

ঢাকা, ১৪ অক্টোবর, ২০১৭ইং (দালান কোঠা ডটকম): জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের জনগণের স্থায়ী শান্তি, নিরাপত্তা, সমৃদ্ধি, উন্নয়ন ও চলমান সংকটের দ্রুত সমাধানের ব্যাপারে আশাবাদী।

তাঁর (আনান) কমিশন প্রণীত রিপোর্টের সুপারিশমালার উদ্ধৃতি দিয়ে কফি আনান বলেন, কমিশনের রিপোর্টে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব সম্পর্কে মিয়ানমার সরকারের ১৯৮২ সালে প্রণীত নাগরিকত্ব আইন আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সংশোধনের বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের মর্যাদা ও নিরাপত্তার সাথে নিজ ভূমিতে প্রত্যাবর্তন, মানবিক সহায়তা ও মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করতেও কফি আনান তাঁর রিপোর্টে উল্লেখ করেন।

তিনি বাংলাদেশের সাথে সীমান্ত নিরাপত্তা ও দ্বিপাক্ষিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা রক্ষা করার বিষয়ে জোর দিয়ে বলেন এই সুসম্পর্ক ও সহযোগিতার মাধ্যমে উভয় দেশই লাভবান হবে।

কফি আনান রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে মিয়ানমারের আন্ত:সম্প্রদায়ের মধ্যে সংলাপ ও সমঝোতার উপর বিশেষভাবে গুরুত্ব দেন।

জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বলেন,‘এই ভয়াবহ রোহিঙ্গা সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে না, যতক্ষণ না পর্যন্ত রাখাইন প্রদেশের জনগণের কল্যাণে মিয়ানমার সরকার রাখাইন জনগোষ্ঠী ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ঐক্যমত্য হয়ে কাজ না করবে।

শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ইকোসক চেম্বারে মিয়ানমারের পরিস্থিতির উপর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যগণ আরিয়া ফর্মুলা সভায় অংশগ্রহণ করেন।

আরিয়া ফর্মুলার এ সভা ব্রিটিশ ও ফরাসী ডেলিগেশনের পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয় । এ্যাডভাইজরি কমিটি অন রাখাইন স্টেটের চেয়ারম্যান নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান এ সভায় বক্তৃতা করেন।

কফি আনান তাঁর বক্তব্যে সম্প্রতি মিয়ানমার সরকারের কাছে পেশকৃত ‘এ্যাডভাইজরি কমিটি অন রাখাইন স্টেট-এর রিপোর্টের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোকপাত করেন।

রোহিঙ্গা উদ্বাত্তুদের মর্যাদা ও নিরাপত্তার সাথে নিজ ভূমিতে প্রত্যাবর্তন, মানবিক সহায়তা ও মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করতে কফি আনান তাঁর রিপোর্টে উল্লেখ করেন।

তিনি বাংলাদেশের সাথে সীমান্ত নিরাপত্তা ও দ্বিপাক্ষিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা রক্ষা করার বিষয়ে জোর দিয়ে বলেন এই সুসম্পর্ক ও সহযোগিতার মাধ্যমে উভয় দেশই লাভবান হবে।

কফি আনান রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে মিয়ানমারের আন্ত:সম্প্রদায়ের মধ্যে সংলাপ ও সমঝোতার উপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন।

নিরাপত্তা পরিষদের সকল সদস্যই এ সংকট সমাধানের পক্ষে বক্তব্য রাখেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি এটিকে মানবিক বিপর্যয় আখ্যা দিয়ে বলেন,‘এনাফ ইজ এনাফ। আমরা এটি আর গ্রহণ করতে পারছি না। আমরা মিয়ানমার সিকিউরিটি ফোর্সের এই হীন কাজের নিন্দা জানাই।’ যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি অনতিবিলম্বে মানবিক সহযোগিতা প্রদানের সুযোগ সৃষ্টি, সহিংসতা বন্ধ, জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের পূর্ণ প্রবেশাধিকার, রোহিঙ্গা শরনার্থীদের নিরাপদ ও নিশ্চয়তার সাথে স্বদেশে প্রত্যাবর্তনসহ কফি আনান কমিশনের রিপোর্টের পূর্ণ বাস্তবায়নের উপর জোর দেন। প্রায় একই ভাষায় কথা বলে নিরাপত্তা পরিষদের অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিগণ। তারা বাস্তুচ্যুত ও অসহায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মানবিক সাহায্য প্রদান করায় বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশের জনগণের ভূয়সী প্রসংশা করেন। সকলেই সহিংসতা বন্ধ, কফি আনান কমিশনের সুপারিশমালা বাস্তবায়ন এবং উদ্বাস্তু প্রত্যাবাসনের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যগণের বাইরে বাংলাদেশ, মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড এর প্রতিনিধিগণ বক্তব্য রাখেন। এছাড়া অফিস অব দ্য হাইকমিশন অব হিউম্যান রাইটস্, অফিস ফর দ্যা কো-অর্ডিনেশন অব হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়াস্র্, ইউএনএইচসিআর-এর প্রতিনিধি, ওআইসি এবং ইউরোপিও ইউনিয়নের প্রতিনিধিগণ বক্তব্য রাখেন।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন বলেছেন, নিরাপত্তা পরিষদের অংশগ্রহণ ও তদারকি ছাড়া মিয়ানমারের সাথে সৃষ্ট সমস্যার স্থায়ী ও অর্থপূর্ণ সমাধান হবে না।

রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন বলেন, “দুর্ভাগ্যজনক এই যে মিয়ানমার সরকারের দেওয়া বিবৃতি আর রাখাইন প্রদেশের প্রকৃত পরিস্থিতির মধ্যে বিস্তর ব্যবধান রয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনারের অফিসের র‌্যাপিড রেসপন্স মিশনের সাম্প্রতিক রিপোর্টে এমনটিই তুলে ধরা হয়েছে। ২৫ আগস্টের পর থেকে আজ সকাল পর্যন্ত ৫ লাখ ৩৬ হাজার মানুষ মিয়ানমার সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। সব মিলিয়ে উদ্বাস্তুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ লাখে”।

গত মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর ভাষণে মিয়ানমার পরিস্থিতির সমাধানে যে ৫টি পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তৃতায় তা তুলে ধরে বলেন, “সহিংসতা ও একটি জাতিকে নির্মূলের প্রক্রিয়া বন্ধ, মিয়ানমারে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফান্ডিং মিশন প্রেরণ, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সেফ জোন তৈরি, জোরপূর্বক উচ্ছেদকৃত মানুষদের নিজ ভূমিতে স্থায়ী প্রত্যাবর্তন এবং কফি আনান কমিশনের সুপারিশের পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে”।

রাষ্ট্রদূত মোমেন আরও বলেন, “মিয়ানমারের সামরিক জান্তার উপর্যুপরি উষ্কানি এবং বাংলাদেশের আকাশ সীমা লঙ্ঘন সত্ত্বেও বাংলাদেশ সর্বোচ্চ সহিষ্ণুতা প্রদর্শণ ও মিয়ানমারের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছে”।

তিনি বলেন, দু’দেশের মধ্যে একটি জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের সিদ্ধান্ত হলেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আরও বিশদ আলোচনার প্রয়োজন হবে। এ ধরনের কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে আন্তর্জাতিক মহল বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদের অংশগ্রহণ ও তদারকি ছাড়া মিয়ানমারের সাথে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও অর্থপূর্ণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মূল সমস্যা সমাধান করা কঠিন হবে।

স্থায়ী প্রতিনিধি প্রধানমন্ত্রীর উক্তি উল্লেখ করে বলেন, “এই সংকটের শিকড় মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও মিয়ানমারে নিহিত”।

গত ২৮ আগস্ট থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিষদ মিয়ানমার পরিস্থিতির উপর তিনবার আলোচনায় বসে। ১৩ সেপ্টেম্বর নিরাপত্তা পরিষদ মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে।

নিরাপত্তা পরিষদ এই সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানায় এবং মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনীর দ্বারা সৃষ্ট রাখাইন প্রদেশের সাধারণ জনগণের উপর উপর্যুপরি এই সহিংসতা বন্ধ, রাখাইন প্রদেশে আগের অবস্থা ফিরিয়ে আনা, আইন-শৃংখলার পুনঃস্থাপন, সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা, স্বাভাবিক আর্থ-সামাজিক পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং উদ্বাস্তু সমস্যার সমাধানে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায়।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেজ নিরাপত্তা পরিষদের একটি উন্মুক্ত সেশনে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে মিয়ানমারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির উপর বিবৃতি প্রদান করেন। এ সভায় মহাসচিব মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে প্রদত্ত তিনটি বার্তার পুনঃরুল্লেখ করেন। বার্তা ৩টি হচ্ছে, সামরিক বাহিনীর অপারেশন বন্ধ করা; বাঁধাহীনভাবে মানবিক সাহায্যের সুযোগ দেওয়া এবং রোহিঙ্গা শরানার্থীদের তাদের মূল ভূখন্ডে নিরাপদ, স্বপ্রণোদিত ও মর্যাদার সাথে প্রর্ত্যাবর্তনের টেকসই ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। আজ আরিয়া ফর্মুলা মিটিং এ পুনরায় নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যগণ একত্রিত হলো।

অন্যরা য়া পড়ছে...

Loading...



চেক

বিকল্পের সন্ধানে কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপনে দেরি হচ্ছে : ওবায়দুল কাদের

ঢাকা, ১৩ মে ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে কোটা …

স্যাটেলাইট মহাকাশে ঘোরায় বিএনপির মাথাও ঘুরছে : মোহাম্মদ নাসিম

ফেনী, ১৩ মে ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণ হওয়ায় বিএনপির মাথাও ঘুরছে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

My title page contents