৯:৪৯ অপরাহ্ণ - বুধবার, ১৪ নভেম্বর , ২০১৮
Breaking News
Download http://bigtheme.net/joomla Free Templates Joomla! 3
Home / জরুরী সংবাদ / রক্তাক্ত মাতমহীন তাজিয়া মিছিল অনুষ্ঠিত

রক্তাক্ত মাতমহীন তাজিয়া মিছিল অনুষ্ঠিত

ঢাকা, ০১ অক্টোবর, ২০১৭ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): কারবালার শোকাবহ ঘটনাকে স্মরণ করে প্রতিবারের মতো এবারও পবিত্র আশুরার তাজিয়া মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীতে শিয়া সম্প্রদায়ের আশুরা পালনের প্রধান অনুষঙ্গ তাজিয়া মিছিল পুরান ঢাকার হোসেনি দালান রোড ও ইমামবাড়া থেকে বের হয়ে বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে। এ ছাড়া মোহাম্মদপুর ও মিরপুরেও তাজিয়া মিছিল বের করা হয়। এবারের মিছিলে কোনো রক্তাক্ত মাতম ছিল না।

আজ হিজরি সনের ১০ মহররম রোববার সকাল সাড়ে নয়টায় পুরান ঢাকার হোসনি দালান রোড থেকে ‘হায় হোসেন’ ‘হায় হোসেন’ ধ্বনিতে হাজারো অনুরাগীর অংশগ্রহণে তাজিয়া মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি হোসেনি দালান রোড থেকে লালবাগ, আজিপুর ও নিউমার্কেট হয়ে ধানমন্ডির সীমান্ত স্কয়ারে গিয়ে শেষ হয় দুপুরের দিকে। শিশু থেকে সব বয়সের মানুষ অংশ নেয় মিছিলে।

মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের অনেকে বিভিন্ন আকারের নিশান বহন করেন। বেশির ভাগ মানুষের পরনে ছিল কালো পোশাক। হোসনি দালান ইমামবাড়া ব্যবস্থাপনা কমিটর ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত মিছিলে বহন করা হয় ইমাম হোসেন (রা.)-এর সমাধির প্রতিকৃতি।

তাজিয়া মিছিল শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রশাসন কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছিল। মিছিলের পথের দুই পাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন দেখা গেছে। এ ছাড়া হোসেনি দালান থেকে শুরু হওয়া মিছিলের সামনে-পেছনে ছিল র‌্যাব-পুলিশের প্রহরা। হোসেনি দালানে প্রবেশে ছিল কড়াকড়ি।

২০১৫ সালে আশুরার রাতে হোসেনি দালানে বোমা হামলার ঘটনার পর থেকে তাজিল মিছিল ও হোসেনি দালান এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় পুলিম। ওই হামলায় নিহত হয় একজন ও আহত হয় অনেকে।

ছুরি আর জিঞ্জির দিয়ে শরীরে আঘাত করে রক্তাক্ত করা ছিল তাজিয়া মিছিলের চিরাচরিত দৃশ্য। গত বছরের মতো এবারও নিরাপত্তার স্বার্থে মিছিলে ছুরি-কাঁচি, তলোয়ার, জিঞ্জির বহনে নিষেধাজ্ঞা ছিল পুলিশের। ফলে ছুরিগুচ্ছ আর জিঞ্জির দিয়ে পিঠে আঘাত করে মাতম করতে দেখা যায়নি কাউকে। বরং বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার শান্ত-ভক্তিপূর্ণ মিছিল সম্পূর্ণ হয়।

শোকের তাজিয়া মিছিল দেখার জন্য শত শত মানুষ লালবাগ ও আজিমপুর রোডের দুই পাশে অবস্থান করে। বাসার ছাদ ও বারান্দায় দাঁড়িয়েও বহু বাসিন্দা তাজিয়া মিছিল দেখেন।

মিছিলে অংশগ্রহণকারী মোজাম্মেল হক আসেন একটি নিশান নিয়ে। তিনি প্রতি বছর মিছিলে অংশ নেন। তাজিয়া মিছিল শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হওয়ায় খুশি তিনি। তিনি বলেন, ‘আল্লার রহমতে কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়াই আমরা শান্তিপূর্ণভাবে তাজিয়া শেষ করতে পেরেছি। আমরা মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা চাইব প্রত্যেক বছর এমন শান্তিপূর্ণ তাজিয়া হোক।’

তাজিয়া সম্পর্কে হোসেনি ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক এম এম ফিরোজ হোসাইন তিনি বলেন, ‘আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অশেষ রহমতে আমরা সবাই মিলেমিশে শান্তিপূর্ণ তাজিয়া শেষ করেছি। বিগত বছরের মতো এবারও আমরা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে তাজিয়া মিছিল হয়েছে। আমাদের মধ্যে যারা জিঞ্জির দিয়ে শরীরে আঘাত করে মাতম করত, তাদের বুঝিয়ে একটা শান্তিপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে এসেছি। প্রশাসন ও সবার সহযোগিতার ফলে এমনটা সম্ভব হয়েছে। আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই, তিনি প্রশাসনের সর্বোচ্চ সহোযোগিতা আমাদের দিয়েছেন।’

আশুরা মুসলিম বিশ্বে ত্যাগ ও শোকের দিন। হিজরির সন অনুসারে ১০ মহররমকে বলা হয় আশুরা। হিজরি ৬১ সনের ঘটনাবহুল এই দিনে বর্তমান ইরাকের কারবালার ফোরাত নদীর তীরে এজিদের বাহিনীর হাতে শহীদ হন হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র ইমাম হোসেন। এই শোক ও স্মৃতি স্মরণ করে পবিত্র আশুরা পালিত হয় বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশে।

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে আছে তাজিয়া মিছিল, বিশেষ মোনাজাত, কোরআনখানি, দোয়া ও মাহফিল। তাজিয়া মিছিল করে প্রধানত শিযা সম্প্রদায়ের লোকজন। তবে দিবসটি উপলক্ষে প্রায় সব সম্প্রদায়ের অনেকে নফল রোজা রাখেন।।

অন্যরা য়া পড়ছে...

Loading...



চেক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওমরাহ পালন

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার রাতে এখানে পবিত্র …

জনগণ ছেড়ে বিদেশিদের কাছে কেন : ঐক্যফ্রন্টকে ওবায়দুল কাদের

গাজীপুর, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): শুক্রবার বিকেলে গাজীপুরের চন্দ্রায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক চার লেনে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

My title page contents