৯:৫৭ পূর্বাহ্ণ - শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর , ২০১৮
Breaking News
Download http://bigtheme.net/joomla Free Templates Joomla! 3
Home / রাজনীতি / আওয়ামী লীগ / যুদ্ধ নয়, কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করতে পারবো : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

যুদ্ধ নয়, কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করতে পারবো : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): আজ বুধবার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনিস্টিটিউশন অব বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে ‘রোহিঙ্গা গণহত্যার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অবস্থান: সরকার, নাগরিক সমাজ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের সঙ্গে সৃষ্ট সমস্যা কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় সমাধানের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

আসাদুজ্জামান খান কামাল রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বলেন, “কূটনৈতিক প্রচেষ্টা, যেটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় চলছে তা অব্যাহত রাখবো। আমরা বিশ্বাস করি, যুদ্ধ নয়, কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করতে পারবো।”

তিনি আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে যথাসময়ে প্রধানমন্ত্রী দেশ ও বিদেশে যথার্থ পদক্ষেপ নিয়েছেন। আমি বিশ্বাস করি, রোহিঙ্গা নির্যাতন করে মিয়ানমার যে ভুল করেছে, তা তারা একদিন বুঝতে পারবে।’

এই সেমিনারে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা গণহত্যা ও সন্ত্রাসের ঘটনা তদন্তে নাগরিক কমিশন গঠনের ঘোষণা দেন শাহরিয়ার কবির। আগামী মাসে নাগরিক কমিশনের সদস্যরা কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের নিয়ে গণশুনানির আয়োজন করবেন বলে জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, মিয়ানমারের সমস্যা চিরদিনের জন্য সমাধান করতে হলে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া পাঁচ দফার ভিত্তিতেই করতে হবে। কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে হবে। সীমান্তর নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে বর্ডার এলাকার কয়েকশ’ কিলোমিটার এতই দুর্গম যে, ওই সব এলাকা দিয়ে কেউ অনুপ্রবেশ করছে কী না তা বুঝার উপায় ছিল না। সেখানেও আমরা নিরাপত্তা চৌকি করছি। আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই করে আমরা বিশাল সমুদ্র জয় করেছি। সমুদ্রসীমা রক্ষায় নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডকে শক্তিশালী করেছি।

টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দাদের দ্বিগুনের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে জানিয়ে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, এ দুই উপজেলায় বাংলাদেশী নাগরিকের সংখ্যা চার লাখের বেশি নয়। কিন্তু এ পর্যন্ত নানানভাবে বাংলাদেশে ১১ লাখ রোহিঙ্গা ঢুকে পড়েছে। ওই দুই উপজেলায় দ্বিগুনের বেশি মানুষ যুক্ত হওয়ায় সেখানে কী অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তা চিন্তা করা কঠিন। তবুও আমরা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি। বিশ্বকে জানাতে পেরেছি, আমরা অমানুষ নই, মানবতার পাশে দাঁড়াই। এত বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাদের ব্যবস্থাপনা সরকারের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের থাকার জন্য ২ হাজার একর জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে তাদের রাখা হবে। মিয়ানমার যখন তাদের ফেরত নেবে, তখন সেখান থেকে তাদের যেতে হবে। রোহিঙ্গাদের নিবন্ধন ও বায়োমেট্রিক করে আইডি কার্ড দেয়া হচ্ছে।

সংগঠনের সভাপতি শাহরিয়ার কবিরের সভাপতিত্বে এ সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আব্দুর রশীদ। বক্তব্য রাখেন মিয়ানমারে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা, বৃটিশ মানবাধিকার কর্মী জুলিয়ান ফ্রান্সিস, নিরাপত্তা বিশ্লেষক এয়ার কমডোর (অব.) ইশফাক ইলাহী চৌধুরী, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা ও আইসিটির প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ।

সেমিনারে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যারা ম্যাটার করে তারা বাংলাদেশের সঙ্গে আছে। আমরা যা চাচ্ছি, ইউরোপীয় ইউনিয়নও তাই চাচ্ছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও আমাদের সঙ্গে আছে। পৃথিবীর কোনো রাষ্ট্র এ বিষয়ে বাংলাদেশের নেয়া পদক্ষেপের সমালোচনা করেনি। বেশিরভাগ রাষ্ট্র বাংলাদেশের প্রশংসা করেছে। আর যারা চুপ রয়েছে, তাদের মৌনতা সম্মতির লক্ষণ বলে মনে করি আমরা।

মিয়ানমারের একজন মন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে আসবেন জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, অং সান সূচীর দপ্তর থেকে বার্তা পেয়েছি, তাদের দেশের একজন মন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে আসার কথা। আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করবো। এ বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পাশাপাশি বহুপাক্ষিক আলোচনা চলবে। মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে সব পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে শাহরিয়ার কবির বলেন, জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ৫ দফা বাস্তবায়নে আমরা সমর্থন করবো। রাখাইনে গণহত্যার জন্য মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক আদালতে দাঁড় করাতে নাগরিক সমাজ সব ধরনের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালাবে। এ বিষয়ে জনমত গড়ে তুলবে।

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কেউ যাতে রাজনীতি করতে না পারে সে ব্যাপারে সরকারকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, কক্সবাজারে হেফাজতে ইসলাম বা কোনো সংগঠনকে মহাসমাবেশ করতে দেয়া যাবে না। দরকার হলে কক্সবাজারে সাময়িক সময়ের জন্য রাজনীতি বন্ধ করতে হবে।

অন্যরা য়া পড়ছে...

Loading...



চেক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওমরাহ পালন

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার রাতে এখানে পবিত্র …

জনগণ ছেড়ে বিদেশিদের কাছে কেন : ঐক্যফ্রন্টকে ওবায়দুল কাদের

গাজীপুর, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): শুক্রবার বিকেলে গাজীপুরের চন্দ্রায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক চার লেনে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

My title page contents