৬:৩৩ অপরাহ্ণ - সোমবার, ২৪ জুলাই , ২০১৭
Breaking News
Download http://bigtheme.net/joomla Free Templates Joomla! 3
Home / জরুরী সংবাদ / ৫৬ ইউনিয়ন পরিষদে ভোট : ৩০ ইউনিয়নে বিএনপির ভরাডুবি

৫৬ ইউনিয়ন পরিষদে ভোট : ৩০ ইউনিয়নে বিএনপির ভরাডুবি

ঢাকা, ১৪ জুলাই, ২০১৭ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): গণমাধ্যমে তেমন প্রচার না পেলেও ৫৬ ইউনিয়ন পরিষদে ভোটের ডামাডোল ছিল বৃহস্পতিবার। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ভোট হয়েছে ৩০টিতে। এই নির্বাচনের বলতে গেলে ভরাডুবি হয়েছে বিএনপির। তারা জিতেছে কেবল তিনটিতে। বাকিগুলোর সবগুলোতে নিকটমত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেও উঠে আসতে পারেননি দলের প্রার্থীরা।

এই ৩০ ইউনিয়নের মধ্যে অবশ্য বরিশালের সাতটিতে কারচুপির অভিযোগে ভোট বর্জন করেছেন বিএনপির প্রার্থীরা। বাকি ইউনিয়নে কোনো অভিযোগ করেনি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা।

নির্বাচনে জিতলের ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলার বিষয়টি উঠে এসেছে। কারণ, নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগ জিতেছে মোট ২৩টি ইউনিয়নে। আর চারটি ইউনিয়নে মনোনয়ন না পেয়ে দাঁড়ানো দলের বিদ্রোহী প্রার্থী জিতে গেছেন। একাধিক নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীরাই।

৫৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ২২টিতে সাধারণ এবং ৩৪টিতে উপনির্বাচনে ভোট হয়েছে। এ ছাড়া জেলা পরিষদ নির্বাচনে স্থগিত কেন্দ্র বা সদস্য পদে ভোট হয়েছে কোথাও কোথাও।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘দেশের জনগণ উন্নয়নের পক্ষে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে দেশে উন্নয়ন হচ্ছে, এ কারণে তাঁরা জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা রেখে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের ভোট দিয়ে বিজয়ী করছেন।’

বহু চেষ্টার পরেও ক্ষমতাসীন দলে বিদ্রোহী প্রার্থী থেকে যাওয়ার বিষয়ে হানিফ বলেন, ‘অনেকক্ষেত্রে দেখা যায়, স্থানীয় পারিবারিক প্রভাবের কারণে বিভিন্ন জায়গায় কেউ কেউ প্রার্থী হয়। জনগণের রায়ের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা রয়েছে।’

আ্ওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘নির্বাচনে কে বিজয়ী হয়েছে সেটা বড় কথা না, বড় কথা হলো, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ হয়েছে কি না। আমরা অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে বদ্ধপরিকর। এ জন্য আমরা বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে সব প্রকারের সহযোগিতা করছি।’

বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, সব জায়গার কথা আমি বলতে পারবো না। তবে আমার জায়গার কথা আমি ভালভাবে বলতে পারি। আমাদের প্রার্থীদের নির্বাচনের আগে কাজ করার সুযোগ দেয়া হয়নি। ভোটার এবং বিএনপি সমর্থকদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেয়া হয়েছে। যে কারণে আমরা ভোট বর্জন করেছি। আমার বিশ্বাস অন্যান্য ইউনিয়নগুলোতেও একই পরিস্থিতি হওয়ার কারণে আমাদের প্রার্থীরা পরাজয় বরণ করেছেন।

টাঙ্গাইলের ১১ ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান একজন

টাঙ্গাইল সদর ও মধুপুর উপজেলায় যে ১১টি ইউনিয়নে ভোট হয়েছে, তাতে আওয়ামী লীগ জিতেছে আটটিতে। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জিতেছেন দুইটিতে এবং বাকিটি গেছে বিএনপির ঘরে।

নির্বাচনে তেমন কোনো গোলযোগের খবর পাওয়া যায়নি। বিএনপির প্রার্থীরাও সাংবাদিকদের কাছে কোনো অভিযোগ করেননি।

এর মধ্যে সদর উপজেলার তিন ইউনিয়নের মধ্যে আওয়ামী লীগ একটি, বিএনপি একটি এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বাকি ইউনিয়নে জিতেছে। মধুপুর উপজেলার আট ইউনিয়নের সাতটিতেই জিতেছেন নৌকা মার্কার প্রার্থীরা। বাকি একটিতে জিতেছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাতুলী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ইকবাল হোসেন, মাহমুদনগরে বিএনপির আব্দুল করিম তালুকদার এবং ছিলিমপুরে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাদেক আলী জিতেছেন।

মধুপুর উপজেলার আট ইউনিয়নের মধ্যে আওয়ামী লীগের জয়ীরা হলেন: কুড়ালিয়ায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী আহাম্মদ আলী, মহিষমারায় কাজী আব্দুল মোতালেব, আউশনারায় গোলাম মোস্তফা, বেরীবাইদে জুলহাস উদ্দিন, অরণখোলায় প্রার্থী আব্দুর রহিম, কুড়াগাছায় ফজলুল হক সরকার এবং ফুলবাগচালায় রেজাউল করিম বেনু। এ ছাড়া শোলাকুড়ী ইউনিয়নে জিতেছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আক্তার হোসেন।

বরিশালের বিএনপির সাত প্রার্থীর ভোট বর্জন

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের সাত ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে পাঁচটিতে জিতেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। আর বাকি দুটিতে জিতেছেন ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী হিসেবে দাঁড়ানো নেতারা।

এই সাতটি ইউনিয়ন পরিষদেই অবশ্য বিএনপির প্রার্থীরা ভোট বর্জন করেছিল। ভোট চলাকালে দুপুরেই অবশ্য তারা নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নৌকার অর্ধেক ভোটও পায়নি ধানের শীষে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোট আটটি ইউনিয়নে ভোট হয়েছে বৃহস্পতিবার। এর মধ্যে তিন ইউনিয়নে ভোট হয়েছে চেয়ারম্যান পদে। তিনটিতেই জিতেছেন ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা। বিজয়নগর উপজেলার পাহাড়পুর, নবীনগর উপজেলার কাইতলা ও নাসিরনগর উপজেলার ভলাকুট ইউনিয়নে ভোটে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বলতে গেলে দাঁড়াতেই পারেনি বিএনপির প্রার্থীরা। শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে তিনটি এলাকাতেই নৌকা প্রতীকের অর্ধেকেরও কম ভোট পড়েছে ধানের শীষে।

পাহাড়পুরে নৌকা প্রতীকে ভোট পড়েছে ১৪ হাজার ৭৯২টি। আর ধানের শীষে ভোট পড়েছে দুই হাজার ৪৯৫টি।

কাইতলায় নৌকা প্রতীকে ভোট পড়েছে পাঁচ হাজার ৫২৯টি। আর ধানের শীষে পড়েছে দুই হাজার ৩৫৩টি।

ভটাকূলে নৌকা ভোট পেয়েছে পাঁচ হাজার ৯৮৯টি। আর ধানের শীষ পেয়েছে দুই হাজার ৬২২টি।

ঠাকুরগাঁওয়ে আওয়ামী লীগবিএনপি সমানে সমান

ঠাকুরগাঁওয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির লড়াই হয়েছে সমানে সমান। সেখানকার রাণীশংকৈল ও হরিপুর উপজেলার চারটি ইউনিয়নের মধ্যে দুটি গেছে ক্ষমতাসীনদের দখলে, দুটিতে জিতেছে বিএনপি।

রাণীশংকৈল উপজেলার হোসেনগাঁও ইউনিয়নে বিজয়ী বিএনপির মাহবুবুল আলম পেয়েছেন চার হাজার ৪৮২ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের গোলাম রব্বানী পেয়েছেন পাঁচ হাজার ৪৩৮ ভোট।

বাচোর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের জীতেন্দ্র নাথ বর্মন ছয় হাজার ৮৪০ ভোট পেয়ে জিতেছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির আখতারুল ইসলাম পেয়েছেন পাঁচ হাজার ৪৩৮ ভোট।

নন্দুয়ার ইউনিয়নে বিএনপির জমিরুল ইসলাম ছয় হাজার ৯৩৭ ভোট পেয়ে জিতেছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের আবদুল বারী পেয়েছেন পাঁচ হাজার ১৩৮ ভোট।

হরিপুর উপজেলার আমগাঁও ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পাভেল তালুকদার জিতেছেন সাত হাজার ৩৪৮ ভোট পেয়ে। এখানে বিএনপির ইসমাঈল হোসেন পেয়েছেন চার হাজার ৭৬২ ভোট।

কিশোরগঞ্জের দুইটি আওয়ামী লীগের ঘরে

কিশোরগঞ্জের দুটি ইউনিয়নে নির্বাচনের ফলও গেছে আওয়ামী লীগের ঘরে। ভৈরর উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়ন পরিষদে উপ-নির্বাচনে দলের প্রার্থী সরকার সাফায়েত উল্লাহ নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন চার হাজার দুইশ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী তফাজ্জল হক তিন হাজার ৫৯৭ ভোট পেয়েছেন।

নিকলী উপজেলার সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নৌকার পক্ষে ভোট পড়েছে আট হাজার ৬২০টি। আর বিএনপির ধানের শীষে ভোট পড়েছে সাত হাজার ১৩৯টি।

নাটোর, সাতক্ষীরা, নরসিংদীতেও আওয়ামী লীগের জয়

নাটোরের সিংড়া উপজেলার ১১ নম্বর ছাতারদীঘি ইউনিয়ন পরিষদে উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আলতাব হোসেন আকন্দ সাত হাজার ৫৯৪ ভোট পেয়ে জিতেছেন। আর বিএনপির আব্দুল জলিল মাস্টার হেরেছেন পাঁচ হাজার ৬৯৪ ভোট পেয়ে।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মহিউর রহমান ময়ূর জিতেছেন। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আবদুর রউফ হেরেছেন সাত শতাধিক ভোটের ব্যবধানে। এই এলাকায় নৌকায় ভোট পড়েছে ছয় হাজার ৬৯৮৪টি, আর ধানের শীষে পড়েছে ছয় হাজার ২০০টি।

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মির্জারচর ইউনিয়নে স্থগিত কেন্দ্রে ভোট হয়েছে। এই ভোটের ফলাফলে জিতেছেন আওয়ামী লীগের জাফর ইকবাল মানিক। সেখানে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ক্ষমতাসীন দলেরই বিদ্রোহী এক নেতা।

এ ছাড়া মাদারীপুর, শরীয়তপুর, রাজবাড়ী, চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, রংপুর, বগুড়া, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, ঝিনাইদহ, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, সিলেটের এক বা একাধিক কেন্দ্রে সাধারণ সদস্য পদে ভোট হয়েছে।

অন্যরা য়া পড়ছে...

Loading...



চেক

এবার ৭২টি কলেজ, মাদ্রাসা ও ভোকেশনাল কলেজে কোনো পরীক্ষার্থী পাস করেনি : শিক্ষামন্ত্রী

ঢাকা, ২৩ জুলাই, ২০১৭ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম):  আজ রবিবার শিক্ষামন্ত্রী নিজ মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে …

এবার প্রায় ৩৫ শতাংশ জিপিএ-ফাইভ কমেছে

ঢাকা, ২৩ জুলাই, ২০১৭ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হারের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

My title page contents