১২ জুলাই বুধবার জামিন আবেদনের শুনানিতে উভয় পক্ষের বক্তব্য শেষে তা নাকচ করে দেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লা।

জামিন আবেদনটি করেছিলেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুল মান্নান খান। তবে হাসনাত করিমকে আদালতে আনা হয়নি।

শুনানিতে হাসনাত করিমের আইনজীবী আব্দুল মান্নান খান বলেন, ‘অন্য কোনো আসামি কোনো জবানবন্দিতে তার নাম বলেননি। মোবাইল কললিস্টে তার সম্পৃক্ততার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। নর্থসাউথ থেকে আগেই তিনি পদত্যাগ করেছিলেন। তিনি শান্তিপ্রিয়, কুচক্রীমহল তাকে জড়িয়েছে। এছাড়া তিনি কিডনি সমস্যা, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন।’

অন্যদিকে জামিনের বিরোধিতা করেন রাষ্ট্রপক্ষ। রাষ্ট্রপক্ষে পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের সহকারী কমিশনার নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘এটি হলি আর্টিজানের মামলা, এই মামলায় সে জড়িত। অভিযোগপত্রে তার নাম আসার সম্ভাবনা রয়েছে। আর একটি বিষয়- আসামির বয়স বিবেচনায় এতগুলো অসুখ একসাথে থাকার কথা নয়।’

উভয় পক্ষের বক্তব্য শেষে জামিন আবেদন নাকচ করে দেন আদালত।

গত বছরের ৩ আগস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গুলশানে হামলার ঘটনায় ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় হাসনাত করিম ও তাহমিদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ৪ আগস্ট দুজনকে আট দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। এরপর ১৩ আগস্ট হাসনাত করিমকে আটদিনের এবং তাহমিদকে ছয়দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

১৬ দিনের রিমান্ড শেষে গত বছর ২৪ অাগস্ট প্রথমবার মহানগর আদালতে জামিন আবেদন করেছিলেন হাসনাত করিম। তা নাকচ হওয়ার পর ৩০ অক্টোবর জজ আদালতে আবেদন করলে সেখানেও তা খারিজ হয়ে যায়। এরপর গত ১ এপ্রিল ফের মহানগর আদালতে আবেদন করলে বিচারক তার জামিন নাকচ করেন।

চলতি বছরের ১৬ এপ্রিল পুলিশকে সহযোগিতা না করার অভিযোগ থেকে আদালতের রায়ে খালাস পান তাহমিদ। তিনি মুক্তি পেলেও গুলশান হামলায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সন্দেহভাজন হিসাবে গ্রেফতার হাসনাত করিম কারাগারেই আছেন।