কৃষক মো. মহিবুর রহমানের মেয়ে ফাতেমা আক্তার। বাড়ি কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায়। উপজেলার জিনারি ইউনিয়নের চরকাটিহারী গ্রামে জন্ম ফাতেমার। ছয় ভাইবোন তারা। এর মধ্যে ফাতেমা পঞ্চম।

২০১১ সালে উপজেলার হোগলাকান্দি উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসির নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার কারণে ফাতেমা বোর্ড পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি বলে জানান বাবা মহিবুর। তিনি বলেন, তখন থেকেই তিনি মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন। শুরুতে কিছুদিন চিকিৎসা করানো হয়। তবে টাকার অভাবে স্থায়ী কোনো চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি।

বাবা মহিবুর আরও জানান, মা-বাবাসহ কাউকে সামনে পেলে ফাতেমা প্রায়ই দা নিয়ে কোপ দিতে যান। সে জন্য তাকে শেকলবন্দী করে বদ্ধ ঘরে আটকে রাখা হয়েছে।

এলাকাবাসী ও ফাতেমার পরিবার সূত্রে জানা যায়, কৃষক মহিবুরের সংসারে বড় ছেলে বাবুল সর্দারের তিন সন্তানের মধ্যে একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী। দ্বিতীয় ছেলে রফিকুল ইসলাম সড়ক দুর্ঘটনায় একটি চোখ হারিয়েছেন। তৃতীয় মেয়ে সালমা আক্তার যৌতুকের কারণে বিয়ের পর সংসার করতে পারেননি। দুই সন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতে রয়েছেন। চতুর্থ মেয়ে নাজমা আক্তারেরও একই অবস্থা। পঞ্চম সন্তান ফাতেমাও মানসিকভাবে অসুস্থ। ছোট ছেলে পাপ্পু মিয়া (১৫) উপজেলার গড়বিশুদিয়া দাখিল মাদ্রাসায় নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।

ছেলেমেয়েদের নিয়ে খুব কষ্টে আছেন জানিয়ে ফাতেমার মা আছিয়া খাতুন বলেন, ‘কে চায় নিজের মেয়েকে এভাবে বদ্ধ ঘরে নোংরা অবস্থায় বন্দী করে রাখতে? কিন্তু কোনো উপায় নেই। ফাতেমাকে এক মুহূর্তের জন্য ছাড়লেও দা নিয়ে অন্যকে কোপাতে আসেন। গতকালও একবার তাকে ছাড়া হয়েছিল। তখন ফাতেমা দা নিয়ে পরিবারের সবাইকে কোপাতে আসেন। সে জন্য আবারও তাকে শিকলবন্দী করে রাখা হয়েছে।’

হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ফাতেমার ব্যাপারে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আহসানিয়া মিশনের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে।

কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তরফদার মো. আক্তার জামিল বলেন, ‘আহসানিয়া মিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফাতেমার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তারাও আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আশা করছি, আহসানিয়া মিশন ফাতেমার ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে।’