১০ বছর আগে নিখোঁজ হয়েছিলেন হলি আর্টিজান হামলার গ্রেনেড সরবরাহকারী হিসেবে চিহ্নিত এই নব্য জেএমবি নেতা সোহেল মাহফুজ। স্বজনদের দাবি, ২০০৫ সালের পর তিনি মাত্র একবার বাড়ি আসেন ২০০৭ সালে। টেলিভিশনে খবর দেখেই মনোয়ারা বেগম জানতে পারেন, গ্রেফতার জঙ্গি নেতা সোহেল মাহফুজই তাদের নিখোঁজ সন্তান হাসান।

সোহেল মাহফুজের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘দশ ভাইবোনের মধ্যে বাবা-মায়ের চতুর্থ সন্তান মাহফুজ। পাবনা জেলা স্কুলে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছেন তিনি। এর পরপরই তার আচার-আচরণে অসঙ্গতি দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। মাঝে-মধ্যে থাকতেন নিখোঁজ। খোঁজ নিতে আসত পুলিশ।’

২০০৫ সাল থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ছিন্ন করেন এই জঙ্গি নেতা। সবশেষ ২০০৭ সালে বাড়ি আসেন তিনি। এসময় তার কাটা হাত নিয়ে, স্বজনেরা জানতে চাইলে বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় কাটা গেছে’।

সোহেল মাহফুজের বোন রহিমা খাতুন বলেন, ‘তার ভাই কাবলিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ম শ্রেণি পাস করে পাবনা জেলা স্কুলে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পর্যন্ত পড়াশোনা করে আর স্কুলে যাননি। প্রায়ই সোহেল বাড়িতে থাকতেন না। বাড়ি এলে পুলিশ তাকে খুঁজত। প্রায় সাত থেকে আট বছর ধরে আর পরিবারের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই।’

প্রতিবেশীরা বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সোহেলের কোনো খোঁজ নেই। হঠাৎ টেলিভিশনে তার গ্রেফতারের খবর দেখে তারা জানতে পারেন সোহেল মাহফুজ জেএমবি নেতা। এতে তারা হতবাক।’

উল্লেখ্য, ৭ জুলাই শুক্রবার দিবাগত রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থেকে তিন সহযোগীসহ সোহেলকে আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, মাহফুজ সোহেল নব্য জেএমবির উত্তরাঞ্চলীয় কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

এ ছাড়া জঙ্গি সোহেল মাহফুজ ভারতেও মোস্ট ওয়ান্টেড। দেশটিতে নসরুল্লাহ নামে পরিচিত এই জঙ্গিকে ধরতে ১০ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল ভারত সরকার। নব্য জেএমবির এই সুরা সদস্যকে ভারত খুঁজছে ২০১৪ সাল থেকে। ওই বছরের ২ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গে বর্ধমান জেলার খাগড়াগড়ের একটি বাড়িতে বিস্ফোরণে দুইজন নিহত হওয়ার পর তদন্তে বেরিয়ে আসে সোহেলের নাম। ওই বাড়িটি জেএমবি বোমা বানানোর কারখানা হিসেবে ব্যবহার করতো বলে ভারতীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএর তদন্তে বেরিয়ে আসে।