সভায় জুয়েলারি শিল্পের জন্য ‘ব্যবসাবান্ধব’ স্বর্ণ আমদানি নীতিমালা বাস্তবায়নের দাবি জানায় সংগঠনটি। গত ১৩ ও ১৪ মে রাজধানীতে আপন জুয়েলার্সের মোট ছয়টি বিক্রয়কেন্দ্রে অভিযান চালায় শুল্ক গোয়েন্দারা। এ সময় সাড়ে ১৩ মণ স্বর্ণ ছাড়াও জব্দ করা হয় ৪২৭ গ্রাম হীরা। এসব ধাতুর বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে ১৭ মে আপনের মালিকপক্ষকে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরে তলব করা হয়। দুই দফা অনুপস্থিতি ও দুই দফা হাজির হয়ে আপনের মালিক দিলদার আহমেদ যে নথিপত্র দিয়েছেন সেগুলো বানোয়াট বলেছে শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ। এরপর গত ৪ জুন আপনের সব স্বর্ণ বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেয়া হয়।

শুল্ক গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে এসে দিলদার সাংবাদিকদেরকে বলেন, তার স্বর্ণ অবৈধ হলে দেশের সব ব্যবসায়ীদের স্বর্ণই অবৈধ। কারণ, সবাই একভাবেই ব্যবসা করে। আপনের স্বর্ণ জব্দ করার পর শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর জানিয়েছে, একইভাবে অন্য সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানেও অভিযান চালাবে তারা।

এই পরিস্থিতিতে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়ায়। আর দুপুরে সমিতির কার্যালয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন সংগঠনের নেতারা। সভাশেষে বাজুসের সহসভাপতি এনামুল হক খান বলেন, আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে যদি আপন জুয়েলার্সের সব স্বর্ণ ফেরত না দেয়া হয় তবে ১১ জুন থেকে দেশের সব স্বর্ণের দোকান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। তিনি বলেন, ‘কোনো নিয়ম না মেনে আপন জুয়েলার্সে অভিযান চালিয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর; যা রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্রের শামিল। এই ঘটনার আমরা তীব্র নিন্দা জানাই।’

এনামুল হক খান বলেন, স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রতিদিন নানা বিবৃতি দিচ্ছেন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মঈনুল খান। তার এমন বক্তব্য স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের মানসিকভাবে হুমকিতে ফেলছে।’

‘সব অপকর্মের হাতিয়ার স্বর্ণ’ মঈনুল খানের এমন বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির নেতা বলেন, ‘শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদ থেকে ড. মইনুল খানের পদত্যাগ করতে হবে।’