তিনি বলেন, ‘আমার এলাকায় যে এমন পরিস্থতির সৃষ্টি হবে তা আমরা কখনই কল্পনা করতে পারিনি।’ ঊষাতন বলেন, ‘কীভাবে মানবসৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবেলা করতে হয় তা আমার এলাকার মানুষ জানে না। সেই কারণে তাঁরা মানবসৃষ্ট এই দুর্যোগ মোকাবেলা করতে পারেনি।

‘আমি একজন সংসদ সদস্য হিসেবে মনে করি এই হামলা ও অগ্নিসংযোগ পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে। রাঙ্গামাটিতে আগুন জ্বালার মত যথেষ্ট উপাদান রয়েছে। এই উপাদানগুলো না থাকলে সেখানে কখনোই আগুন জ্বলতো না’-এমনও বলেন ঊষাতন।

গত বৃহস্পতিবার রাঙামাটি লংগদুতে যুবলীগ নেতা নুরুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার হয়। তার অনুসারীদের অভিযোগ নুরুলকে খুন করা হয়েছে। আর পরদিন উপজেলার টিনটিলা এলাকায় পাহাড়িদের বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এতে একজনের মৃত্যুও হয়। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে প্রশাসন সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করে। এই ঘটনায় ঘরহারাদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার ঘোষণাও এসেছে।

সংসদ সদস্য ঊষাতন বলেন, ‘এই হামলাটি ছিল সম্পূর্ণ উসকানিমূলক। কারণ লংদুতে যেতে হলে অনেকগুলো চেকপোস্ট পাড়ি দিতে হবে। আর সেই স্থানটিতে বিপুল সেনা সদস্য থাকে। আর উসকানি না থাকলে কীভাবে শহর থেকে তিন মাইল দূরে গিয়ে এই হামলা চালানো হল?’

প্রতিবাদ সমাবেশে কলামিস্ট আবুল মকসুদ বলেন, ‘এই রাষ্ট্র বর্বর, এই রাষ্ট্র অগণতান্ত্রিক। একটি খুনের প্রতিবাদে ২৫০ ঘর পোড়ানোর কোনো মানে হয় না। এটি চক্রান্ত। এ অবস্থায় মানুষ বাস করতে পারে না। এজন্য যাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে তাদেরকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবিলম্বে বাড়িঘর তৈরি করে দিতে হবে।’

এই ঘটনায় দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে দাবি করে আবুল মকসুদ বলেন, ‘এই হামলায় যারা জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে। এর জন্য একজন অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজের অধীনে একটি তদন্ত কমিটি তৈরি করতে হবে। সেই কমিটিতে সেখানকার স্থানীয় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের রাখতে হবে। আগামী সাতদিনের মধ্যে আমরা তদন্তের ফল প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি।’

সমাবেশে নাট্যকার মামুনুর রশীদ বলেন, ‘আদিবাসীদের উপর যতগুলো হামলা হয়েছে তার সবগুলো প্রায় একইরকম। যত হামলা হয়েছে সবগুলোতেই অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। …যারা হামলা করেছে তাদের সবার হাতেই পেট্রল, কেরোসিন ছিল। চেকপোস্টে কেন তাদেরকে আটকালো না? তখন আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কোথায় ছিল? আমরা কী আবার পাকিস্তানের জায়গায় ফেরত যেতে চলেছি। একজন নেতার জীবন কী এতটাই গুরত্বপূর্ণ যার জন্য ২৫০ ঘর আগুনে পুড়ে দিতে হবে? মানুষকে পথে বসিয়ে দিতে হবে?’

মানবাধিকারকর্মী খুশি কবির বলেন, ‘আমি এই ভেবে লজ্জিত কারণ আমাদের সরকার সংখ্যালঘুদেরকে ন্যূনতম নিরাপত্তা দিতে পারে না। আমার জানা মতে এখন পর্যন্ত সাতজনকে এই অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আটক করা হয়েছে। এছাড়াও আরও ৪০০ জনকে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। কিন্তু যে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। শুধুমাত্র লোক দেখানোর জন্য এই কাজ করা হয়েছে।’