তার উন্নত চিকিৎসার জন্য আনুমানিক ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু তার পক্ষে এ টাকা যোগান দেয়া সম্ভব নয়। তিনি সমাজের বিত্তবানদের কাছে আর্থিক সহযোগিতা চেয়েছেন। তার আহ্বানে সারা দিয়ে দেশের শীর্ষ স্থানীয় ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিকস, অটোমোবাইলস, হোম অ্যাপ্লায়েন্স ও টেলিকমিউনিকেশন পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন গ্রুপের কতৃপক্ষ পাঁচ লাখ টাকার চেক প্রদান করেন কালজয়ী গানের শিল্পী আব্দুল জব্বারকে।

কন্ঠযোদ্ধা আব্দুল জব্বারের হাতে চেক তুলে দেন ওয়ালটন গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক (পলিসি, এইচআরএম এন্ড এডমিন) এসএম জাহিদ হাসান, ওয়ালটন গ্রুপের সিনিয়র ডেপুটি ডিরেক্টর (পিআর এন্ড মিডিয়া) মো. ফিরোজ আলম ও রাইজিংবিডির ফিচার সম্পাদক তাপস রায়। এসময় আব্দুল জব্বারের শারীরিক অবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয় কথা বলেন তারা।

আব্দুল জব্বারের মেয়ে জানান, তার বাবার কিডনির অবস্থা একদমই ভালো নয় এবং হার্টের ভাল্ব নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া তার কোমরে ভীষণ যন্ত্রণা হচ্ছে বলে জানান এ শিল্পী।

এছাড়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার চিকিৎসার জন্য ইতিমধ্যেই ২০ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন বলে জানা যায়।আব্দুল জব্বারের চিকিৎসার বিষয়ে শিগগিরই একটি মেডিক্যাল বোর্ড বসবে। সেখান থেকে চিকিৎসকদের মতামত জানার পরে তার চিকিৎসার পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানা যায়।

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আব্দুল জব্বার হারমোনিয়াম গলায় ঝুলিয়ে কলকাতার বিভিন্ন ক্যাম্পে গিয়ে গান গেয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্বুদ্ধ করেছেন। সেই দুঃসময়ে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে গেয়েছেন অসংখ্য গান। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে এই শিল্পীর গাওয়া বিভিন্ন গান মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণা ও মনোবল বাড়িয়েছে। গলায় হারমোনিয়াম ঝুলিয়ে ভারতের বিভিন্ন স্থানে গণসংগীত গেয়ে প্রাপ্ত ১২ লাখ টাকা স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের ত্রাণ তহবিলে দান করেছিলেন। ১৯৭১ সালে তিনি মুম্বাইয়ে ভারতের প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য জনমত তৈরিতে নিরলসভাবে কাজ করে যান।

আব্দুল জব্বার স্বাধীনতা পদক, একুশে পদকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পদক অর্জন করেছেন। আব্দুল জব্বার ‘তুমি কি দেখেছ কভু জীবনের পরাজয়’, ‘সালাম সালাম হাজার সালাম’, ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’সহ অসংখ্য কালজয়ী গানে কন্ঠদিয়েছেন।