বাজেট অধিবেশ শুরুর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় সংসদেই মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠক বসে। এ বৈঠকে বাজেট অনুমোদন দেয়া হয়।

দুপুর দেড়টায় অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করবেন। অর্থমন্ত্রী হিসেবে এ নিয়ে টানা নয়বার বাজেট উপস্থাপন করবেন আবুল মাল আবদুল মুহিত। এছাড়া বর্তমান সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদের চতুর্থ এবং অর্থমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ১১তম বাজেট এটি। এতে অর্থ সংস্থানের জন্য সম্প্রসারণমূলক কর পরিধি ও নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নসহ রাজস্ব আদায় বাড়াতে থাকছে নানামুখী পদক্ষেপ।

এবার মোট রাজস্ব আয়ের সম্ভাব্য লক্ষ্য ধরা হচ্ছে ২ লাখ ৮৮ হাজার ৬৬ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় ২৯ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে রাজস্ব বোর্ডের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে দুই লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা। এনবিআর থেকে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হচ্ছে ২ লাখ ৩৬ হাজার ২০ কোটি টাকা। এ ছাড়া কর ব্যতীত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ২৭ হাজার কোটি টাকা।

প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থায়নের উৎস হিসেবে দেখানো হয়েছে বৈদেশিক অনুদান ১ দশমিক ৪ শতাংশ। অভ্যন্তরীণ ঋণ ১৫ দশমিক ১ শতাংশ। কর ব্যতিত আয়ের প্রত্যাশা ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। জাতীয় রাজস্ব বর্হিভূত কর ২ দশমিক ১ শতাংশ। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড নিয়ন্ত্রিত কর ৬২ শতাংশ।

রাজস্ব বোর্ড নিয়ন্ত্রিত করের মধ্যে মূল্য সংযোজন কর ৩৬ দশমিক ৮ শতাংশ, আমদানি শুল্ক ১২ দশমিক ১ শতাংশ, আয়কর ৩৪ দশমিক ৩ শতাংশ,সম্পূরক কর ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ এবং অন্যান্য ১ দশমিক ৩ শতাংশ।

দেশের ইতিহাসে ১৯৭২ সালে তাজউদ্দিন আহমেদ প্রথম ৭৮৬ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেন। এই হিসেবে সাড়ে চার দশকে বাজেট বাড়ছে ৫০০ গুণ।

অর্থমন্ত্রী যে বাজেট প্রস্তাব করবেন, সেটিই চূড়ান্ত নয়। এর ওপর সংসদ সদস্যরা নানা আলোচনা ও সংশোধনীর প্রস্তাব আনতে পারবেন। সব শেষে প্রধানমন্ত্রীও তার সুপারিশ দেবেন। আর এই আলোচনা শেষে বাজেট পাস হবে ২৯ জুন।

চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটের আকার ছিল তিন লাখ ৪০ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে তা কমে তিন লাখ ১৭ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা।