শুক্রবার ব্রাসেলস সম্মেলনে চীন ও ইইউ এ নিয়ে একটি যৌথ বিবৃতি দিতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির উপর জোড় দেয়া হয়েছে ওই বিবৃতিতে।

ধারণা করা হচ্ছে, চীন এবং ইইউ এর এই অবস্থান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে কিছুটা চাপের মধ্যে ফেলবে। বলা হচ্ছে, গত বছর খানেক ধরেই চীন এবং ইইউ জলবায়ু পরিবর্তন এবং ক্লিন এনার্জি নিয়ে ঐক্যমত্যে পৌঁছে একটি যৌথ বিবৃতি দেবার বিষয়ে কাজ করছিল।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হবার আগেই, জলবায়ু বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে আনার ব্যাপারে অবস্থান ছিল ট্রাম্পের। সেই ধারাবাহিকতায় ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে থাকা না থাকার বিষয়ে তিনি শীঘ্রই ঘোষণা দেবেন।

অপরদিকে চুক্তির ধারা অনুযায়ী, ২০২০ সাল নাগাদ কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনতে একমত হয়েছে চীন ও ইইউ ভুক্ত দেশগুলো।

ইইউয়ের জলবায়ু বিষয়ক কমিশনের বলেন, জলবায়ু চুক্তি থেকে কারো পিছুহটা উচিত নয়। তবে চীন ও ইইউ সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা এই বিষয়টি নিয়ে সামনে এগিয়ে যাবে।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় একজোট হয়ে লড়াইয়ের জন্য ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে প্যারিসে এক সম্মেলনে জলবায়ু চুক্তি সই হয়, যেখানে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ স্বাক্ষর করে। বিশ্বের ১৯৭টি দেশের মধ্যে ১৯৫টি দেশ প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। শুধুমাত্র সিরিয়া ও নিকারাগুয়া ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি। ওই চুক্তিতে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনা এবং নিয়মিত অগ্রগতি পর্যালোচনার বিষয়ে দেশগুলো নিজেরা আইনি বাধ্যবাধকতা আরোপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে প্রতিশ্রুতি পূরণে দেশগুলোর ওপর কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা প্যারিস চুক্তিতে রাখা হয়নি।

চুক্তির প্রধান বিষয়গুলো হল:

  • যত দ্রুত সম্ভব দেশগুলোকে তাদের গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের মাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কমিয়ে আনার পদক্ষেপ নিতে হবে এবং চলতি শতাব্দির দ্বিতীয়ার্ধের মধ্যে গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ নির্ধারিত মাত্রার নিচে নামিয়ে আনতে হবে।
  • বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২ সেলসিয়াসের (৩ দশমিক ৬ ফারেনহাইট) ‘বেশ নিচে’ রাখতে হবে এবং তা ১ দশমিক ৫ সেলসিয়াসের নিচে রাখার চেষ্টা করতে হবে।
  • প্রতি পাঁচ বছর অন্তর অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে হবে।
  • ভবিষ্যতে জলবায়ু তহবিল অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতিসহ ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর উন্নয়শীল দেশগুলোর জন্য জলবায়ু তহবিল হিসেবে একশ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হবে।