২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দেশের বিভিন্ন এলাকাতেই ক্ষমতাসীন দলে অন্য দল থেকে নেতাকর্মীদের যোগদানের ঘটনা ঘটছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর এই প্রবণতা বেড়েছে। কোথাও কোথাও বিতর্কিতদের দলে নেয়ায় সংসদ সদস্যসহ কেন্দ্রীয় নেতাদেরকেও সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে।

২০১৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর কুষ্টিয়ায় মাহবুবউল আলম হানিফের হাত ধরে জামায়াতে ইসলামী থেকে আওয়ামী লীগে আসেন নওশের আলী নামে একজন। তিনি জামায়াতের রুকন ছিলেন। পাশাপাশি দলটির শ্রমিক সংগঠন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কুষ্টিয়া শাখার সভাপতি ছিলেন।

২০১৬ সালের ২ অক্টোবর চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল ওদুদের মাধ্যমে জামায়াত থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দেন সোহরাব আলী, আফরোজ জুলমাত আলী, আবদুল্লাহেল বাকী, মিজানুর রহমানসহ পাঁচ শতাধিক কর্মী। ২৬ ডিসেম্বর সদর উপজেলার বারঘরিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমিরের পদ ছেড়ে আওয়ামী লীগে আসেন আবুল খায়েরসহ তিন জামায়াত নেতা। এদের মধ্যে আবুল খায়ের নাশকতার চারটি মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি।

২০১৪ সালের ২০ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে চার আওয়ামী লীগ কর্মী হত্যা মামলার প্রধান আসামি আবুল বাশার কাশু তিন শতাধিক নেতা-কর্মী নিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুর হাত ধরে। গত ১৭ মে এই মামলায় কাশুর ফাঁসির আদেশ হয়। এরপর আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশের বিষয়টি নিয়ে আবার আলোচনা শুরু হয়।

গত শনিবার গণভবনে আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভার রুদ্ধদ্বার বৈঠকেও এই বিষয়টি নিয়ে নেতাদেরকে শাসান সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমি জরিপ করে দেখেছি, প্রত্যেকে নিজের স্বার্থে দলের মধ্যে উপদল করছে। দল ভারী করার স্বার্থে বিএনপি-জামায়াতের দাগীদের, যারা আমাদের নেতাকর্মীদের ২০০১ সালের নির্বাচনের পরে অত্যাচার নির্যাতন করেছেন তাদের টেনেছে। এরা দলের ভেতরে এসে দলের ক্ষতি করে। এমনকি আমাদের দলের নেতাকর্মীদের হত্যার সঙ্গে পর্যন্ত জড়িত হয়।

দলীয় সভাপতির এই হুঁশিয়ারির দুই দিন পর ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘অন্য কোন দল থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দিতে হলে কেন্দ্রের পূর্ব অনুমতি হবে। অনুমতি ছাড়া কোন যোগদান স্বীকৃত হবে না। সাম্প্রদায়িক অপশক্তি যেন আওয়ামী লীগে যোগদান করতে পারবে না। দলভারী করার জন্য সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে দলে ভিড়ানোর অপচেষ্টা করা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত আমাদের সিদ্ধান্ত।’

আওয়ামী লীগে সদস্য সংগ্রহ অভিযান নিয়েও কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘নতুন করে সদস্য হলে সেখানে যাচাই বাছাই হবে। সাংগঠনিক সম্পাদক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকরা সংশ্লিষ্ট এলাকা মনিটর করবেন।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের কোন নেতা এলাকায় গিয়ে নিজেকে ওই এলাকার দলের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়ে যে বিভ্রান্ত সৃষ্টি করবেন না। আমাদের যে আসনগুলোতে ভালো প্রার্থী রয়েছে সেখানে অহেতুক সমস্যার সৃষ্টি কেউ করতে না পারে এবং নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি না হয়ে সেই ব্যাপারে সবাইকে সর্তক দৃষ্টি রাখতে হবে।’

কাদের বলেন, ‘আজকে আমাদের টাগের্ট দুইটি। একটি হলো, আগামী আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন। অন্যটি হলো, প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের ভিশন ২০২১ বাস্তবায়ন করে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা।

সম্পাদকমণ্ডলীর এই বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন মাহবুবউল আলম হানিফ, দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, বিএম মোজাম্মেল হক, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আবদুস সোবহান গোলাপ, ফরিদুন্নাহার লাইলী, আফজাল হোসেন,অসীম কুমার উকিল, সুজিত রায় নন্দী, আব্দুস সবুর, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।