মৃতুদন্ডপ্রাপ্তরা হলেন, মইজ উদ্দিনের ছেলে আলেক মিয়া ও তার স্ত্রী রুপবান, তার ছেলে শরীফ মিয়া ও অপর ছেলে আরিফ মিয়া, মহব্বত আলী মুন্সির ছেলে আব্দুল গাফফার, সিরাজ মিয়ার ছেলে মারফত আলী ও মুল¬ুক চাঁনের ছেলে তোতা মিয়া। আসামিরা পলাশ উপজেলার গালিমপুর গ্রামের বাসিন্দা। এছাড়া নিহত সামসুল হকের ছেলেকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অপরাধে অপর ৫ জনকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদন্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। অপরদিকে মামলায় আনীত অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় ১৩ জনকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে।

নিহত সামসুল হক পলাশ উপজেলার গালিমপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি কাঠমিস্ত্রির কাজ করতেন। মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিবেশী আলেক মিয়া ও গাফফারের লোকজন সামসুল হককে কুপিয়ে খুন করে।

২০০৯ সালের ৩১ আগস্ট রাতে সামসুল হকের ছেলে জহিরুল ইসলাম বাড়ি ফিরছিলেন। পথে আসামি মারফত, শরীফ, আরিফ জহিরুলকে পথ রোধকরে বেদম প্রহার করতে থাকে। তার চিৎকারে বাবা সামসুল হক এগিয়ে আসলে আসামিরা বাবা-ছেলেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। বাবা ও ছেলেকে মুমূর্ষ অবস্থায় পাশের একটি গর্তে ফেলে রেখে আসামীরা চলে যায়। খবর পেয়ে স্বজন ও আশপাশের লোকজন সামসুল ও জহিরুলকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সামসুলকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী নূরজাহান বাদী হয়ে ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে পলাশ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে পলাশ থানা পুলিশ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।

উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক ও সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে আজ এ রায় ঘোষনা করা হয়।