৯:৪২ অপরাহ্ণ - মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর , ২০১৮
Breaking News
Download http://bigtheme.net/joomla Free Templates Joomla! 3
Home / Uncategorized / মন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে দুই দলের আইনজীবীদের পাল্টাপাল্টি

মন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে দুই দলের আইনজীবীদের পাল্টাপাল্টি

ঢাকা, ০২ মে, ২০১৭ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): প্রধান বিচারপতি ও বিচার বিভাগ নিয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের মন্তব্য প্রসঙ্গে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সম্পাদক আইনমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান। অপরদিকে বারের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের এই বক্তব্যের প্রতিবাদে আওয়ামীপন্থী অংশের আইনজীবীরা পাল্টা বক্তব্য তুলে ধরেন।

মঙ্গলবার দুপুর সোয়া একটার দিকে আইনজীবী সমিতির শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, সহ-সভাপতি উম্মে কুলসুম রেখা, সহ-সম্পাদক শামীমা সুলতানা দীপ্তি এবং কার্যনির্বাহী সদস্য মো. হাসিবুর রহমান, মহসিনা আক্তার ও শেখ তাহসিন আলী উপস্থিত ছিলেন।

অপর দিকে বিএনপিপন্থীদের সংবাদ সম্মেলনের পর একই ভেন্যুতে বারের আওয়ামীপন্থী অংশের সদস্যদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. অজি উল্লাহ তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন। বারে আওয়ামীপন্থীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় রেজুলেশনকে বিভক্ত দাবি করে তাদের এই মতামত বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

এ সময় কোষাধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম হিরু, সহকারী সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম এবং কার্যনির্বাহী সদস্য নূরে আলম উজ্জল, কুমার দেবুল দে ও হাবিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

নিম্ন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধি প্রণয়ন করে গেজেট আকারে প্রকাশ করা নিয়ে সরকার বারবার সময় আবেদন করছে। সরকারের এই সময় নেয়াকে উচ্চ আদালতও ভালোভাবে নিচ্ছে না। সম্প্রতি প্রধান বিচারপতি বলেছেন, প্রশাসন কোনো দিনই চায়নি এখনো চায় না বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করুক। এর জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ‘অন্য কোনো দেশে প্রধান বিচারপতিরা প্রকাশ্যে এত কথা এত উষ্মা প্রকাশ করেন না। প্রধান বিচারপতির যদি কোনো দুঃখ থাকে তাহলে আমাদের সাথে আলোচনা করতে পারেন।’

আইনমন্ত্রীসহ সরকারের বিভিন্ন মহল থেকে বিচার বিভাগ সম্পর্কে দেয়া বক্তব্য সম্পর্কে অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘এখানে আমরা বলতে চাই বিচারিক দায়িত্ব কোনো গোপন বিষয় নয়। মাসদার হোসেন মামলার পরে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে প্রকাশ্যে অপ্রকাশ্যে অনেক কথা হয়েছে। বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা, বিধি প্রণয়নের জন্য সর্বোচ্চ আদালত থেকে অনেক নির্দেশনা দিয়েছেন। তারপরও চাকরির বিধি-বিধান, গেজেট আজ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি। সরকার এজন্য মোট ৬৭ বার সময় নিয়েছে। সুতরাং প্রধান বিচারপতির গোপনে কিছু বলার নেই। সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করুক তা চায় না, সময় ক্ষেপণ তারই প্রমাণ।’

সংবিধানের অভিভাবক হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট আইন প্রণয়নে সংবিধান মানা হয় কি না এবং নির্বাহী বিভাগের কাজ সংবিধান অনুযায়ী হয় কি না, তা দেখার দায়িত্ব। অন্য দেশে আইনের শাসন, মানবাধিকার ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আছে বলেই তাদের কথা বলতে হয় না বলে দাবি বার সভাপতির। ‍

জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘যদি আইন বিভাগ সংবিধান মোতাবেক আইন প্রণয়ন না করে বা সংবিধান পরিবর্তন করে, সুপ্রিম কোর্টের এখতিয়ার রয়েছে সেই আইনকে বাতিল করার। রাষ্ট্রের আইন বিভাগ স্বাধীনভাবে আইন প্রণয়ন করতে পারছে কি না, শাসন বিভাগ আইন যথাযথভাবে পালন করছেন কি না সেই সব বিষয় দেখার এখতিয়ার এবং দায়িত্ব বিচার বিভাগের। তাই আমরা সব মহলকে বিচার বিভাগ সম্পর্কে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে মন্তব্য করার অনুরোধ করছি।’

বারে আওয়ামীপন্থীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট অজি উল্লাহ। তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্মানিত সভাপতি ও সম্পাদক মহোদয়ের উদ্যোগে যে সংবাদ সম্মেলন হয়েছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত। কারণ, যে সব তুচ্ছ অজুহাতে এই সংবাদ সম্মেলন হয়েছে, তাতে বিচার বিভাগেরই মর্যাদার হানি হয়েছে। এই সংবাদ সম্মেলনের উদ্দ্দেশ্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এই ধরনের সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বার কিংবা বিচার বিভাগের কোনো স্বার্থ রক্ষা হয়নি।’

বিচার বিভাগ নিয়ে সরকারের সাম্প্রতিক বক্তব্য সমর্থন করে তিনি বলেন, ‘সরকারের কেউই বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় কিংবা বিচার বিভাগের কোনো ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এম কোনো বক্তব্য দেননি, যাতে আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সম্পাদক মহোদয়ের আজকের এই সংবাদ সম্মেলনের প্রয়োজন ছিল। তাছাড়া আইনজীবী সমিতির সভাপতি এবং সম্পাদক মহোদয় সমিতির কার্যকরী অন্যান্য সদস্যের সঙ্গে কোনোধরনের আলোচনা ছাড়াই এই সংবাদ সম্মেলনে আয়োজন করেছিলেন। আমরা তাদের সম্মেলনের তীব্র নিন্দা জানাই।’

পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করলেও সুপ্রিম কোর্ট বারে কোনো বিভক্তি নেই বলেও দাবি করেন মো. অজিউল্লাহ। আইনজীবীদের পেশাগত বিষয়ে তারা এক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক সমর্থন নিয়ে নির্বাচিত হওয়ায় রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।’

অন্যরা য়া পড়ছে...

Loading...



চেক

বিকল্পের সন্ধানে কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপনে দেরি হচ্ছে : ওবায়দুল কাদের

ঢাকা, ১৩ মে ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে কোটা …

স্যাটেলাইট মহাকাশে ঘোরায় বিএনপির মাথাও ঘুরছে : মোহাম্মদ নাসিম

ফেনী, ১৩ মে ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণ হওয়ায় বিএনপির মাথাও ঘুরছে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

My title page contents