৪:২৪ অপরাহ্ণ - বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর , ২০১৮
Breaking News
Download http://bigtheme.net/joomla Free Templates Joomla! 3
Home / রাজনীতি / আওয়ামী লীগ / বিশ্বব্যাংক থেকে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আর কোনো ঋণ নেবে কি না, সরকার ভেবে দেখবে : ওবায়দুল কাদের

বিশ্বব্যাংক থেকে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আর কোনো ঋণ নেবে কি না, সরকার ভেবে দেখবে : ওবায়দুল কাদের

ঢাকা, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৭ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে গণগ্রন্থাগারে শওকত ওসমান মিলনায়তনে পরিবেশ বিষয়ক একটি সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, পদ্মা সেতু ইস্যুতে বিশ্বব্যাংকের ভূমিকা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিষ্কার জবাব না পেলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আর কোনো ঋণ নেবে কি না, সরকার ভেবে দেখবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘শুধু সন্দেহের বশবর্র্তী হয়ে বিশ্বব্যাংক কেন বাংলাদেশ ও শেখ হাসিনাকে  অপদস্থ করল তার জবাব চাই। জবাব না দিলে আগামী দিনে বাংলাদেশের কোনো প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের ঋণ আসবে কি না ভেবে দেখতে হবে।’

দুর্নীতির অজুহাতে পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে বিশ্বব্যাংক সরে গেলেও অন্যান্য প্রকল্পে তাদের সংশ্লিষ্টতা অব্যাহত রাখে। পরে নতুন প্রকল্পেও বাংলাদেশকে ঋণ দেয় বৈশ্বিক আর্থিক সংস্থাটি। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের আরো বেশি প্রকল্পে নিজেদের সংশ্লিষ্ট করার আগ্রহ দেখায়।

এমন সময়ই কানাডার আদালত পদ্মা সেতু দুর্নীতিকে মনগড়া ও গালগল্প বলে রায় দেয়। তাতে ক্ষুব্ধ ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বিশ্বব্যাংকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।

আওয়ামী লীগ আয়োজিত ‘ট্যানারি শিল্প স্থানান্তর- পরিবেশ সংরক্ষণ ও জাতীয় উন্নয়ন’ শীর্ষক সেমিনারে মন্ত্রী বাংলাদেশে পরিবেশগত দূষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশে গড়ার জন্য সবাইকে কাজ করে যেতে হবে।’

ওবায়দুল কাদের  বলেন, ‘বায়ু, পানিসহ নানা ক্ষেত্রের দূষণে আমরা সর্বস্বান্ত। রাজধানী ঢাকা এখন অবাসযোগ্য নগরীতে পরিণত হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটাতে হবে। আমাদের ভবিষ্যৎ রক্ষা করতে হবে। সাহস নিয়ে এগোতে হবে।

রাজধানীর হাজারীবাগে ট্যানারি শিল্পের দূষণ প্রসঙ্গে ওয়াদুল কাদের বলেন, ‘আদালত রায় দিয়েছে। মন্ত্রণালয় সে অনুযায়ী কাজ করছে। আমরা আশা করি জনস্বার্থে অচিরেই ট্যানারি শিল্পের স্থানান্তর হবে। মালিকরা সরকারের আদেশ মেনে তাদের জায়গা বদল করে নেবেন।’

আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল। প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য নাসরিন আহমেদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান, ওয়াসার চেয়ারম্যান প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান ও অধ্যাপক এমরান কবির চৌধুরী।

সম্প্রতি কানাডার একটি আদালত পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে বিরক্তি প্রকাশ করে একে ‘গালগপ্প’ বলে অভিহিত করে রায় দেয়। সে দেশের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এসএনসি-লাভালিনের সাবেক কর্মীসহ তিন আসামিকে খালাসও দেয়া হয় এই রায়ে।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজ তদারকির পাঁচ কোটি ডলারের কাজ পেতে এসএনসি-লাভালিনের কর্মীরা ২০১০ ও ২০১১ সালে বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের ঘুষ দেয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে বিশ্বব্যাংকের অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ জোগাড়ে ফোনে আড়ি পাতা তথ্য (ওয়্যার ট্যাপস) ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে ২০১১ সালে তিনটি আবেদন করে রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি)।

১৯৯৮ সালে আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু সে সময় তারা কাজ তেমন আগাতে পারেনি। ২০০৯ সালে দলটি আবার ক্ষমতায় আসার পর এই সেতু নির্মাণের উদ্যোগ এগিয়ে নেয়। আর এতে ১২০ কোটি ডলার ঋণ দেয়ার কথা ছিল বিশ্বব্যাংকের।

২০১০ সালের জুলাইয়ে সেতু নির্মাণের জন্য প্রাক-যোগ্যতা দরপত্র মূল্যায়ন করে পাঁচ দরদাতাকে বাছাই করা হয়। তবে বিশ্বব্যাংক তা ঝুলিয়ে রাখে। এরপর সংস্থাটি দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ  তুললে অর্থায়ন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।

বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে ২০১০ সালে নিজেরা তদন্ত শুরু করে। অভিযোগ সম্পর্কে নিজেদের তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশকে (আরসিএমপি) অনুরোধ জানায়। ওই অনুরোধে ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে কানাডায় এসএনসি লাভালিনের কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে রমেশ শাহ ও সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ ইসমাইলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পরে আদালত জানায়, বিশ্বব্যাংক চারজন বেনামী তথ্যদাতার বরাতে কানাডার আদালত আরসিএমপির কাছে অভিযোগ পাঠায়।

বিশ্বব্যাংক তখন এই প্রকল্প থেকে সে সময়ের যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে সরিয়ে দেয়াসহ নানা দাবি জানায়। কিন্তু সরকার শুরু থেকেই বলে আসছিল এই অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।

তবে বিশ্বব্যাংক তার দাবিতে অটল ছিল। পরে ২০১২ সালের ৩০ জানুয়ারি গণমাধ্যমে এক বিবৃতিতে এই প্রকল্প থেকে সরে যাওয়ার কথা জানায় বিশ্বব্যাংক।

এই প্রকল্পে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাটির ১২০ কোটি ডলার দেয়ার কথা ছিল। উন্নয়ন সংস্থা এডিবিসহ আরও বেশ কয়েকটি সংস্থারও অর্থায়নের কথা ছিল। চুক্তি অনুযায়ী বিশ্বব্যাংক সরে যাওয়ায় অন্য সংস্থাগুলোও সরে যায় এবং পরে সরকার নিজ অর্থায়নে সেতুর কাজ শুরু করে। এরই মধ্যে প্রকল্পের প্রায় অর্ধেক কাজ শেষ হয়ে গেছে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সেতুর কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে আগাচ্ছে সরকার।

অন্যরা য়া পড়ছে...

Loading...



চেক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওমরাহ পালন

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার রাতে এখানে পবিত্র …

জনগণ ছেড়ে বিদেশিদের কাছে কেন : ঐক্যফ্রন্টকে ওবায়দুল কাদের

গাজীপুর, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): শুক্রবার বিকেলে গাজীপুরের চন্দ্রায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক চার লেনে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

My title page contents