৬:১৮ অপরাহ্ণ - রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর , ২০১৮
Breaking News
Download http://bigtheme.net/joomla Free Templates Joomla! 3
Home / এ্যামনেস্টির বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের চিঠি

এ্যামনেস্টির বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের চিঠি

tribonal  04.11.15ঢাকা, ০৬ নভেম্বর ২০১৫ (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): মুক্তিযুদ্ধ ’৭১ যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দেয়া বিতর্কিত বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে গতকাল  সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম (এসসিএফ) এক চিঠি পাঠিয়েছে।

এ্যামনেস্টির মহাসচিব সলিল শেঠিকে লেখা এ চিঠিতে এ্যামনেস্টির বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বক্তব্য প্রত্যাহার করে এধরনের বিবৃতি দেয়ার যৌক্তিক কারণ ব্যাখ্যা করতে অথবা বক্তব্য সংশোধন করার তাগিদ দেয়া হয়।

এ্যামনেস্টিকে দেয়া এই চিঠিতে বলা হয়, ‘২৭ অক্টোবর ২০১৫ তারিখে এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বিবৃতিতে একাত্তরে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যা, মানবতা বিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের বিষয়ে দেয়া বক্তব্য পড়ে আমরা বিস্মিত ও মর্মাহত। এ থেকে আমরা বুঝতে পেরেছি যে এ বিবৃতিতে দেয়া বক্তব্য একপেশে এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে বাংলাদেশের দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস সম্পর্কে এ্যামনেস্টি ভুল ধারণা পোষণ করে।’

জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে আয়োজিত সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের এক সংবাদ সম্মেলনে আজ এ চিঠি পড়ে শোনান সংগঠনের মহাসচিব সাংবাদিক হারুন হাবীব। সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের ভাইস চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট কর্ণেল (অব.) আবু ওসমান চৌধুরী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মুহম্মদ শফিকুর রহমান, সহ-সভাপতি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব) হারুন-অর-রশীদ বীরপ্রতীক, সাবেক এডিশনাল আইজিপি মোহাম্মদ নুরুল আলম, যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ পাটোয়ারী এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরীন আফরোজ এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন।

সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা সত্বেও আইসিটি নিয়ে প্রশ্ন তোলায় সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম নেতৃবৃন্দ এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বক্তব্য ধৃষ্টতাপূর্ণ ও একপেশে বলে মন্তব্য করেন।

এ্যামনেস্টিকে দেয়া চিঠিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিটি) বাংলাদেশের সর্বোচ্চ মান সম্পর্কে এ্যামনেস্টির ভুল ধারণা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলা হয়, ‘আইসিটি-বাংলাদেশ স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশের আইন দ্বারা যথাযথভাবে প্রণীত। যুদ্ধাপরাধীদের সমর্থনকারী কিছু রাজনৈতিক মতাদর্শ এই আদালত বিশ্বব্যাপী ব্যাপক সমর্থন লাভ করেছে।’

বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে এ্যামনেস্টির বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের জবাবে চিঠিতে বলা হয়, এই বিবৃতিতে প্রকৃত ঘটনা উপস্থাপিত হয়নি। কারণ এই বিচার সংক্ষিপ্ত বিচার নয়, আবার কোনো গোপন বিচারও নয়। এই বিচার উন্মুক্ত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ এবং যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিচার সম্পন্ন করা হয়েছে যেখানে অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সব রকম আইনি সুযোগ রাখা হয়েছে।

চিঠিতে নুরেমবার্গ ট্রায়াল ও টোকিও ট্রায়ালের উল্লেখ করে বলা হয়, “আইসিটি-বাংলাদেশ নিম্নলিখিত কারণে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন আদালত। এগুলো হলো; অভিযুক্ত ব্যক্তি আত্মপক্ষ সমর্থনের সব সুযোগ ভোগ করছে; তারা তাদের পছন্দমত আইনজীবী নিয়োগ এবং সাক্ষী উপস্থিত করার সুযোগ পাচ্ছে; সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগে আপীল করার সুযোগ পাচ্ছে। এমনকি সুপ্রীম কোর্টে আইসিটির রায় বহাল থাকলে তারা বিচার রিভিউ আবেদন করারও সুযোগ পাচ্ছে; অভিযুক্তরা প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ারও সুযোগ পায় এবং এই বিচার প্রক্রিয়ায় গণমাধ্যমের প্রতিনিধি, জনগণ এবং বিদেশী পর্যবেক্ষকগণ সরাসরি অংশ নিতে পারেন।

ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ বলেন, এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল যখন মানবাধিকারের কথা বলে, তখন তারা কেবল যুদ্ধাপরাধীদের মানুষ মনে করে। ৩০ লাখ শহীদ আর ধর্ষণের শিকার ৫ লাখ নারীকে তারা মানুষ বলে মনে করে না। যদি মনে করতো তবে কেন সে সব বিষয়ে কোনো বিবৃতি নেই।

অ্যামনেস্টির বিবৃতিকে একটি ‘জঘন্য প্রয়াস’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অ্যামনেস্টি তাদের ধৃষ্টতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। তারা মুক্তিযোদ্ধাদের বিচার চেয়েছে। যাঁরা আত্ম নিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জীবন প্রাণ বাজি রেখেছেন। এটি একটি স্বীকৃত অধিকার। এজন্য তাদের অপরাধ কি, তা কিন্তু বোধগম্য নয়।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) হারুন-অর-রশীদ বীরপ্রতীক, এ্যামনেস্টির একপেশে বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, আমরা একথা বিশ্বাস করতে চাইনা যে, এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হওয়া সত্বেও কতিপয় ব্যক্তির স্বার্থে টাকার বিনিময়ে একটি আন্তর্জাতিক আদালত সম্পর্কে এধরণের বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করছে।

বক্তারা এ্যামনেস্টির একপেশে ও একচোখা মানবাধিকার চর্চার প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, তারপরও যদি তারা মনে করেন, মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে-তবে আদালত খোলা রয়েছে, আইন খোলা রয়েছে। স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করছি তার আর প্রমাণ দেয়ার প্রয়োজন নেই। আন্তর্জাতিক মহল আজকে স্বীকার করে এ বিচারের মাধ্যমে বাংলাদেশ নিদর্শন স্থাপন করেছে।

এ্যামনেস্টির বিবৃতিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সর্বোচ্চ সাজাপ্রাপ্ত সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং আলী আহসান আল মুহাম্মদ মুজাহীদকে বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে উল্লেখ করার প্রতিবাদ জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়, তাদের বিচার হয়েছে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে নয়। তাদের বিরুদ্ধে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এ রায় দিয়েছে। যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতিক নেতাদেরও বিচারের আওতায় আনা হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

অন্যরা য়া পড়ছে...

Loading...



চেক

বিকল্পের সন্ধানে কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপনে দেরি হচ্ছে : ওবায়দুল কাদের

ঢাকা, ১৩ মে ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে কোটা …

স্যাটেলাইট মহাকাশে ঘোরায় বিএনপির মাথাও ঘুরছে : মোহাম্মদ নাসিম

ফেনী, ১৩ মে ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণ হওয়ায় বিএনপির মাথাও ঘুরছে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

My title page contents