৪:০১ অপরাহ্ণ - রবিবার, ১৮ নভেম্বর , ২০১৮
Breaking News
Download http://bigtheme.net/joomla Free Templates Joomla! 3
Home / আন্তর্জাতিক / মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আগ্রহ দেখিয়েছে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আগ্রহ দেখিয়েছে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা, ১২ জানুয়ারী ২০১৭ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): আজ বৃহস্পতিবার নিজ মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী বলেছেন, গত অক্টোবর থেকে বাংলাদেশে আসা মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদেরকে ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে দেশটির বিশেষ দূত আগ্রহ দেখিয়েছেন।

মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সুচির বিশেষ দূত উ চ থিনের সঙ্গে বাংলাদেশের আলোচনার বিষয়ে জানাতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

মাহমুদ আলী বলেন, ‘তাদের আগ্রহ দেখছি। তাদের আন্তরিকতায় আমরা আশাবাদী।’ তিনি জানান, মিয়ানমারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশটির নেত্রী অং সান সুচিকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মুসলিম জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব বাতিল হয়েছে ১৯৭৮ সালে। এরপর নানা সময় রোহিঙ্গারা অত্যাচার-নির্যাতনের কারণে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হচ্ছে। গত অক্টোবরে রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তাবাহিনীর ওপর সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার পর উদ্ভুত পরিস্থিতিতে আবারও বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের ঘটনা বেড়েছে।

বাংলাদেশে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কড়া নজরদারির মধ্যও গত তিন মাসে ৬৫ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। এই অবস্থায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে দুই দফা ডেকে কড়া প্রতিবাদ জানায় বাংলাদেশ।

এই অবস্থায় মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচির বিশেষ দূত হিসেবে মঙ্গলবার ঢাকায় আসেন দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উ চ থিন। বুধবার তিনি পররাষ্ট্র সচিব এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তারা মিয়ানমারের দূতকে বলেছেন, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে ঢুকে পড়া ৬৫ হাজার রোহিঙ্গার পাশাপাশি আরও প্রায় সাড়ে তিন লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছে। এদেরকে নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে উদ্যোগী ভূমিকা নিতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের সঙ্কটের কারণে পর্যটন ও অর্থনৈতিক দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের স্থিতিশলীতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে দেশটির বিশেষ দূতকে বলেছেন তারা।

মন্ত্রী জানান, তাদের উদ্বেগের জবাবে দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, প্রাথমিকভাগে গত দুই মাসে দেশটির যেসব নাগরিক বাংলাদেশে এসেছে, তাদের বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করবে দেশটি। তবে বাংলাদেশ বলেছে, সবাইকেই ফিরিয়ে নিতে হবে।

মিয়ানমারকে এর আগেও রোহিঙ্গাদেরকে ফিরিয়ে নিতে তাগাদা দেয়া হয়েছে। কিন্তু তারা কোনো আগ্রহ দেখায়নি। এই অবস্থায় এই প্রক্রিয়ার সাফল্যের আশা কতটুকু?-জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, ‘আগ্রহ না থাকলে তিনি (মিয়ানমারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী) আসতেন না। যেহেতু আন্তরিকতা দেখছি, আমরা পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এগিযে যাব।’

মন্ত্রী জানান, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ রোধে সীমান্ত লিয়াজোঁ অফিস খোলা এবং নিরাপত্তা ও সহযোগিতা বিষয়ে একটি চুক্তি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে। মিয়ানমার তাতে রাজি আছে।

মাহমুদ আলী বলেন, সরকারের সঙ্গে বৈঠকে মিয়ানমারের বিশেষ দূত সে দেশের নূতন সরকারের বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন ও সহযোগিতা গভীর করার আগ্রহ দেখিয়েছেন। তিনি আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য দূর ও সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানায়, বাংলাদেশ রাখাইন রাজ্যে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে যাতে বাংলাদেশে আশ্রয়গ্রহণকারী মিয়ানমার নাগরিকগণ পূর্ণ নিরাপত্তা ও জীবিকার নিশ্চয়তাসহ দ্রুত নিজ আবাসে ফিরে যেতে পারে। রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু মুসলমান জনগোষ্ঠীর গণহারে বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান ও মূল সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে যথাযথ উদ্যোগ নেয়ার জন্য মিয়ানমারকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রাখাইন রাজ্যের ধর্মীয় উগ্রবাদ ও সশস্ত্র চরমপন্থা বিকাশের আশঙ্কা উল্লেখ করে মিয়ানমারের বিশেষ দূত ধর্মীয় উগ্রবাদ ও সশস্ত্র চরম পন্থার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সহযোগিতা চান। সন্ত্রাস ও উগ্র জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে বলেন, বাংলাদেশ কোন প্রতিবেশী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে নিজস্ব ভূমি ব্যবহার করতে দেয় না। তিনি ধর্মীয় ও জাতিগত উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মিয়ানমারকে পূর্ণ সহযোগিতার নিশ্চয়তা দেন।

একই সঙ্গে বাংলাদেশে আশ্রয়গ্রহণকারী মিয়ানমার নাগরিকদের এবং রাখাইন মুসলমানদের নাগরিকত্ব বা স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য একটি যথাযথ কমিটি গঠনের প্রস্তাব করে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় প্রয়োজন মোতাবেক আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতারও প্রস্তাব করে। মিয়ানমারের বিশেষ দূত প্রস্তাবটি তার দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর কাছে তুলে ধরবেন বলে আশ্বস্ত করেন।

অন্যরা য়া পড়ছে...

Loading...



চেক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওমরাহ পালন

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার রাতে এখানে পবিত্র …

জনগণ ছেড়ে বিদেশিদের কাছে কেন : ঐক্যফ্রন্টকে ওবায়দুল কাদের

গাজীপুর, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): শুক্রবার বিকেলে গাজীপুরের চন্দ্রায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক চার লেনে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

My title page contents