২:৪৯ অপরাহ্ণ - বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর , ২০১৮
Breaking News
Download http://bigtheme.net/joomla Free Templates Joomla! 3
Home / জরুরী সংবাদ / ৫ জানুয়ারি আদালতে যেভাবে কাটলো বেগম খালেদা জিয়ার সময়

৫ জানুয়ারি আদালতে যেভাবে কাটলো বেগম খালেদা জিয়ার সময়

ঢাকা, ০৫ জানুয়ারী ২০১৭ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): আগে থেকেই অন্যান্য বছরের মতো এবার দশম সংসদ নির্বাচনের তৃতীয় বর্ষপূর্তী অর্থাৎ ৫ জানুয়ারিকে ঘিরে তেমন শঙ্কা ছিলো না। জেলা পর‌্যায়ে কিছুটা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও রাজধানী ছিলো অনেকটা নিরুত্তাপ। তবে রাজধানীতে এই দিন কর্মসূচি না থাকলেও সবার দৃষ্টি ছিলো বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার আদালতে হাজিরা দেয়ার দিকে।

গুঞ্জন ছিলো দলীয় প্রধানের আদালতে উপস্থিত হওয়া ও বিদায় নেয়াকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে বড় ধরণের জমায়েত করবে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন। কিন্তু দিনভর তাকে থাকতে হয়েছে বকশিবাজারের অস্থায়ী বিশেষ আদালতে। ফলে জমায়েতের যে গুঞ্জন ছিলো তাও তেমন একটা ঘটেনি।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বিএনপির বর্জনের মধ্য দিয়ে দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে এই দিনটিকে গণতন্ত্র হত্যা দিবস হিসেবে পালন করে বিএনপি। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দিনটিকে পালন করে গণতন্ত্র রক্ষা দিবস উপলক্ষে।

২০১৫ সালে দিবসটি পালন নিয়ে রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত ছিলো। বিএনপি সেদিন রাজধানীর নয়াপল্টনে সমাবেশের ডাক দিয়েছিল। তবে পুলিশ খালেদা জিয়াকে তার গুলশান কার্যালয়ে দিনভর আটকে রাখে। আর নয়াপল্টনের কর্মসূচিতে যেতে না পেরে সরকার পতনের দাবিতে বিকালে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ ডাকেন খালেদা জিয়া। বিএনপি-জামায়াতের সহিংস এই কর্মসূচি চলে কয়েক মাস।

তবে আন্দোলনে ব্যর্থতার পর ২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারি সহিংসতা হয়নি তেমন। যদিও ওই দিন রাজধানীতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমাবেশকে ঘিরে উত্তেজনা ছিল আগের কয়েক দিন ধরেই। দুই জোটের কর্মসূটিকে ঘিরে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠ আর অনিশ্চয়তায় ঘেরা ছিল দিনটি। পরে দুই দলের সমাবেশই হয় শান্তিপূর্ণ।

এই দিক থেকে দশম সংসদ নির্বাচনের তৃতীয় বর্ষপূর্তির দিনটি ঘটনাবহুল হয়নি। এদিন বিএনপি রাজধানীতে কোনো কর্মসূচি রাখেনি। আর চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শুনানির জন্য দলের নেতাদের দৃষ্টিও ছিল আদালতে।

আদালতে খালেদা জিয়ার চার ঘণ্টা

আগেই বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট-সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলার শুনানির দিন ধার‌্য ছিলো বৃহস্পতিবার। সে অনুযায়ী সকাল ১০টা ২০ মিনিটে গুলশানের বাসা থেকে আদালতের উদ্দেশে বের হন খালেদা জিয়া। তিনি আদালতে উপস্থিত হন সোয়া ১১টায়। এরপর থেকে মাঝখানে কিছু সময় বিরতিসহ তিনটা পর‌্যন্ত আদালতে থাকেন।

এই সময়ের মধ্যে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থন করে খালেদা জিয়ার অসমাপ্ত বক্তব্য উপস্থাপনের কথা ছিলো। কিন্তু তিনি তা করেননি। একই সঙ্গে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায়ও আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের দিন ধার্য ছিল। তবে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা এ মামলায় নতুন করে একজনের সাক্ষ্য নেওয়ার আবেদন জানালে আদালত তা মঞ্জুর করেন। ফলে এ মামলায় আজ আত্মপক্ষ সমর্থন হয়নি।

চা-বিস্কুট আর রুটি কলায় বিরতি পার

খালেদা জিয়া উপস্থিত হওয়ার পর আদালতের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এ সময় বিচারক আবু আহমেদ জমাদার তার আইনজীবীকে বলেন, আমি তো সকাল সাড়ে ১০টা থেকে অপেক্ষা করছি। পরে আইনজীবী সানাউল্লা মিয়া বলেন, রাস্তায় অনেক যানজট ছিলো। যে কারণে বিলম্ব হয়েছে। পরে কার‌্যক্রম শুরু হয়।

এরমধ্যে বেলা ১টা ৪০ মিনিটে বিরতিতে যায় আদালত।এ সময় আদালত কক্ষেই চা-বিস্কুট খান খালেদা জিয়া। আর দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের জন্য বাইরে থেকে শিঙ্গাড়া ও রুটি-কলা নিয়ে আসা হয়। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে শিঙ্গারা খেতে যায়। স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা রুটি-কলা খান,জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। এছাড়া খালেদা জিয়ার আইনজীবীরাও রুটি, কলা ও বিস্কুট খেয়েছেন। যদিও দুপুরে হঠাৎ করে বিরতি দেয়ায় নিজেরা নিজেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এক বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসকে একজন আইনজীবীকে আদালত যখন বিরতি দেয় তখন চেয়ারপারসনের কথা বিবেচনা না করায় কেন জোরালো প্রতিবাদ করা হয়নি এজন্য ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। অবশ্য ওই আইনজীবী জবাবে বলেছেন, ‘সিনিয়ররা না বললে আমরা কীভাবে কথা বলি।’

আইনজীবীদের হট্টগোল, ক্ষমা চেয়ে একজনের পার

বেলা আড়াইটার দিকে বিচারক এজলাসে এলে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা হট্টগোল শুরু করেন। তারা বলেন, খালেদা জিয়া অসুস্থ, তিনি দুপুরের খাবার খেতে পারেননি, নামাজও পড়তে পারেননি, ওষুধ খেতে পারেননি। এক পর্যায়ে বিএনপিপন্থি আইনজীবী হোসেন আলী খান হাসান টেবিল চাপড়াতে থাকেন। বিষয়টি আদালত লক্ষ্য করেন এবং ওই আইনজীবীকে ক্ষমা না চাইলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন। পরে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয় ও ওই আইনজীবী নিঃশর্ত ক্ষমা চান।

পরে জিয়া অরফ্যানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা ঘটনার অনুসন্ধান কর্মকর্তা দুদকের তৎকালীন পরিচালক নূর মোহাম্মদের সাক্ষ্য গ্রহণের যে আবেদন করেন তা মঞ্জুর করেন আদালত। বেলা তিনটার দিকে আদালত মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য ১২ জানুয়ারি তারিখ ধার্য করেন। এরপর খালেদা জিয়াও আদালত ত্যাগ করেন। তখন ঘড়ির কাটা তিনটা পেরিয়ে গেছে। সৌজন্যে ঢাকাটাইমস

অন্যরা য়া পড়ছে...

Loading...



চেক

বিকল্পের সন্ধানে কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপনে দেরি হচ্ছে : ওবায়দুল কাদের

ঢাকা, ১৩ মে ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে কোটা …

স্যাটেলাইট মহাকাশে ঘোরায় বিএনপির মাথাও ঘুরছে : মোহাম্মদ নাসিম

ফেনী, ১৩ মে ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণ হওয়ায় বিএনপির মাথাও ঘুরছে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

My title page contents