তিনি বলেন, ‘দেশবাসী, সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। আপনারা আমার জন্য অনেক দোয়া করেছেন। আপনাদের দোয়ায় আমি সুস্থ আছি, ভালো আছি। আপনারা আমার জন্য আরও দোয়া করবেন, আমি যেন সম্পূর্ণ সুস্থ হই।’

গণমাধ্যম ও চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে খাদিজা বলেন, ‘মিডিয়ার ভাইদের ধন্যবাদ, আপনারা আমার জন্য অনেক করেছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেও ধন্যবাদ।’

এর আগে হাসপাতালের নিচ তলায় খাদিজাকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন তার চিকিৎসক। সেখানে হুইল চেয়ারে বসে কথা বলেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে খাদিজার শারীরিক অবস্থার কথা তুলে ধরে স্কয়ার হাসপাতালের মেডিসিন অ্যান্ড ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিভাগের সহযোগী পরিচালক ডা. মির্জা নাজিম উদ্দিন। তিনি জানান, সে এখন নিজে খেতে পারে, যেকোনো লেখা পড়তে পারে। সে জোরে জোরে হাসতেও পারে।

ডা. মির্জা নাজিম উদ্দিন আরও জানান, শনিবারই খাদিজাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা সারা হবে। তবে তিনি হাসপাতাল ছাড়বেন রোববার। আঘাতের কারণে এখনও অবশ হয়ে থাকা বাম হাত ও পায়ের চিকিৎসার জন্য সোমবার তাকে সাভারের পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে (সিআরপি) পাঠানোর কথা রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। তিনি আমাদের ওপর আস্থা রেখেছেন। বাংলাদেশে চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়েছে। তবে মানুষ এখনও অন্ধকারে আছে, তাই বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নের কথা তুলে ধরা প্রয়োজন।’

প্রসঙ্গত, গত ৩ অক্টোবর শাবি ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক বদরুল আলমের হামলার শিকার হন এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে সিলেট এমসি কলেজের শিক্ষার্থী খাদিজা আক্তার নার্গিস। বদরুলের চাপাতির উপর্যুপুরি আঘাতে মাথা ও পায়ে গুরুতর জখম হয় তার।

খাদিজাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নেন স্থানীয়রা। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে ৪ অক্টোবর ভোরে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে তাকে স্থানান্তর করা হয়। স্কয়ার হাসপাতালে খাদিজাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।

তিন দফা অস্ত্রোপচার শেষে অবস্থার উন্নতি হওয়ায় গত ১৩ অক্টোবর খাদিজার লাইফ সাপোর্ট খোলা হয়। গত বৃহস্পতিবার খাদিজার ভাই শাহীন ফেসবুকে তার বোনের সুস্থতার কথা জানান। সৌজন্যে প্রিয়.কম