১১:২৯ পূর্বাহ্ণ - রবিবার, ১৮ নভেম্বর , ২০১৮
Breaking News
Download http://bigtheme.net/joomla Free Templates Joomla! 3
Home / জরুরী সংবাদ / চিনিকলের জমি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার আগে সাঁওতালরাই নিজেদের বাড়িঘরে আগুন দিয়েছে : শিল্পসচিব

চিনিকলের জমি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার আগে সাঁওতালরাই নিজেদের বাড়িঘরে আগুন দিয়েছে : শিল্পসচিব

ঢাকা, ১৪ নভেম্বর, ২০১৬ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): আজ সকালে নিজ মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে শিল্প সচিব মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া বলেছেন, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে রংপুর চিনিকলের জমি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার আগে সাঁওতালরাই নিজেদের বাড়িঘরে আগুন দিয়েছে। তার দাবি, সরকারি জমি দখল করতে একটি মহল সাঁওতালদেরকে ওই জমিতে নিয়ে গিয়েছিল। তাদেরকে উচ্ছেদ করতে গিয়ে কোনো নির্যাতন হয়নি দাবি করে সচিব বলেন, ওই অভিযানের কারণে কেউ নিহতও হয়নি।

গোবিন্দগঞ্জে বিরোধপূর্ণ জমি থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদে অতিরিক্ত বল প্রয়োগ এবং তাদের বাড়িঘর বিনষ্ট করার ঘটনায় যখন তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়েছে তখন শিল্প সচিব এই দাবি করেন। সচিব বলেন, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে এসব তথ্য তিনি পেয়েছেন।

 

ওই জমি তাদের নয়

১৯৬২ সালে সাঁওতাল অধ্যুষিত মাদারপুরসহ গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার এক হাজার ৮৪০ একর জমি অধিগ্রহণ করে আখ চাষের জন্য সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামার গড়ে তুলেছিল রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ।

দুই বছর আগে এসব জমি পূর্বপুরুষদের সম্পত্তি দাবি করে এগুলো ফেরত চেয়ে আন্দোলনে নামে সাঁওতালরা। তখন তারা নানা কর্মসূচিও পালন করে। আর বিরোধপূর্ণ জমিতে ঘর তুলে বসবাস করতে থাকে। আর এগুলো উচ্ছেদ অভিযানে গেলে একাধিকরার পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষও হয় তাদের।

সচিব বলেন, ১৯৫৪ সালে উপযুক্ত ক্ষতিপুরন দিয়ে সুগার মিলের জন্য ভুমি অধিগ্রহন করা হয়। এর পর থেকে ওই জমি কখনই আর তাদের ছিল না।

গত ৬ নভেম্বর গোবিন্দগঞ্জে রংপুর চিনিকলের সাহেবগঞ্জ আখ খামারের নামে অধিগ্রহণ করা জমিতে উচ্ছেদ অভিযানের সময় সাঁওতালদের সঙ্গে চিনিকলের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় প্রভাবশালী ও পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এতে তিন জন সাঁওতাল নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। পুলিশের উপস্থিতিতেই সেদিন লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয় শতাধিক বাড়িতে। এরপর চিনিকল কর্তৃপক্ষ ট্রাক্টর দিয়ে মাটি সমান করে দিয়েছে।

 

ঘটনাটি সারাদেশে আলোড়ন তোলার পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল রবিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তারা ক্ষতিগ্রস্থ সাঁওতালদেরকে পুনর্বাসন, তাদেরকে ঘর করে দেয়া, সন্তানদের শিক্ষার জন্য স্কুল করা, ব্যবসার জন্য ঋণ দেয়া, আয়ের সুযোগ করে দিতে প্রশিক্ষণ দেয়াসহ নানা প্রতিশ্রুতি দেয়। সেই সঙ্গে উচ্ছেদ অভিযানের নামে কেউ অত্যাচার-নির্যাতন করলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও আশ্বাস দেয়।

আগুন দিয়েছে নিজেরাই

ক্ষমতাসীন দলের প্রতিনিধিদের এই অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী বক্তব্য দিয়ে শিল্প সচিব বলেন, ‘তাদেরকে যারা এখানে (গোবিন্দগঞ্জের জমিতে) নিয়ে এসেছিল, তারা বলেছে, তোমরা এখান থেকে যাওয়ার আগে তোমাদের বাড়িঘরে আগুন লাগিয়ে দাও। এভাবেই বিষয়গুলো ঘটেছে এবং পুরো এলাকায় যেখানে ছিল, সেটি আগুনে ভষ্মীভূত হয়।’

শিল্প সচিব বলেন, সেদিনের অভিযানের পর ‘যেটি হয়েছে সেটি হলো ওই এলাকাটি দখলমুক্ত হয়েছে। তারা তাদের নিজস্ব পল্লীতে ফিরে গেছে।’

 

‘নির্যাতন হয়নি, অভিযানে মারা যায়নি কেউ’

মোশাররফ হোসেন বলেন, এতো দিনে যারা ওই জমিতে বসতি স্থাপন করেছিল তারা সকলেই অবৈধ ছিল। সরকার শান্তিপূর্ণভাবে দখলকৃত জমি দখলমুক্ত করেছ। সাওতালদের ওপর কোন ধরনের নির‌্যাতন করা হয় নাই। যে দুই জন মারা গেছে তাদের একজন ধানক্ষেতে পরে মারা গেছে, আর একজন হাসপাতালে মারা গেছে। তাদের বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে। এ মুত্যুর সঙ্গে উচ্ছেদ কার‌্যক্রমের কোন সম্পৃক্ততা নেই।

ষড়যন্ত্র করছে একটি মহল

ঘটনাটি প্রথম থেকেই একটি মহল ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা করেছে দাবি করে সচিব বলেন, ‘সার্বিক বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে স্থানীয় প্রশাসন একজন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ, র‌্যাব মিলে টিয়ারসেল, রাবার বুলেট দিয়ে অভিযান চালিয়ে জায়গাটিকে অবৈধ দখলমুক্ত করা হয়। বিষয়টি স্পর্শকাতর বিধায় সরকার এক্ষেত্রে কোন ধরনের তাড়াহুড়া করেনি। বরং ঘটনা মোকাবেলায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সংযম, ধৈরর‌্য্য ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছে। কিন্তু একটি শ্রেনী বিষয়টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করবার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

 

সচিব বলেন, ‘ঘটনাটিকে ইস্যু করে আরও বড় ভাবে দাড় করানোর জন্য তাদেরকে সেখানে সংগঠিত করে রাখা হয়েছে। তাদেরকে বলা হয়েছে, তোমরা বাড়িঘরে ফিরে যাবে না, তোমরা এলাকায় থাকো, রাস্তা ঘাটে থাকো, সাংবাদিক আসবে, এ আসবে, সে আসবে তোমরা তাদের কাছে দুঃখকষ্টের বর্ণনা করো।’

শিল্প সচিব দাবি করেন, রংপুর চিনিকলে যারা কাজ করেন, তাদের মধ্যে সাঁওতালরাও আছেন। তাদের সন্তানরা চিনি কলের কারখানায় পড়াশোনাও করে। এখন সাঁওতালরা যেন কাজে যোগ না দেয় এবং সন্তানরা যেন স্কুলে না যায়, সে জন্য ওই মহলটি তাদেরকে বাধা দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন শিল্প সচিব। সচিব বলেস, ‘ছেলেমেয়েরা যদি স্কুলে যায়, যদি সাঁওতালরা এসে, কাজে জয়েন করে, তাহলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে, আন্দোলন আর থাকবে না, সে জন্য তাদেরকে সেগুলো থেকে বিরত রাখা হয়েছে ‘

‘থমথমে ভাব, তারা ভয়ে আছে তাদেরকে এলাকায় যাতে মারধর করবে বা করে সেটা রটনা করে পরিস্থিতিটাকে স্বাভাবিক না করে অস্বাভাবিক করে রাখা হয়েছে’- দাবি করেন শিল্প সচিব।

ষড়যন্ত্রকারীরা চিহ্নিত হয়েছে উল্লেখ করে সচিব মোশাররফ বলেন, ‘সাঁওতালদের যারা উস্কে দিচ্ছে তাদের বেশির ভাগই চিহ্নিত। আরও যারা আছে তাদেরও চিহ্নিত করার প্রচেষ্টা চলছে। সাকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি কাজ করে যাচ্ছে।’ সৌজন্যে ঢাকাটাইমস

অন্যরা য়া পড়ছে...

Loading...



চেক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওমরাহ পালন

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার রাতে এখানে পবিত্র …

জনগণ ছেড়ে বিদেশিদের কাছে কেন : ঐক্যফ্রন্টকে ওবায়দুল কাদের

গাজীপুর, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): শুক্রবার বিকেলে গাজীপুরের চন্দ্রায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক চার লেনে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

My title page contents