১২:২৭ পূর্বাহ্ণ - বুধবার, ২১ নভেম্বর , ২০১৮
Breaking News
Download http://bigtheme.net/joomla Free Templates Joomla! 3
Home / জরুরী সংবাদ / বিশ্বশান্তি কামনার মধ্যদিয়ে রাজশাহীর গোদাগাড়ীর খেতুরীধামে শেষ হলো ঠাকুর নরোত্তম দাসের ৩ দিনের মহোৎসব

বিশ্বশান্তি কামনার মধ্যদিয়ে রাজশাহীর গোদাগাড়ীর খেতুরীধামে শেষ হলো ঠাকুর নরোত্তম দাসের ৩ দিনের মহোৎসব

মোঃ মেহেদী হাসান-রাজশাহী, ২১ অক্টোবর, ২০১৬ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): বিশ্বশান্তি কামনার মধ্যদিয়ে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার খেতুরীধামে শেষ হলো ঠাকুর নরোত্তম দাসের তিরোভাব তিথি মহোৎসব। শুক্রবার সন্ধ্যায় মহান্ত বিদায়ের মধ্যদিয়ে এ অনুষ্ঠানমালার শেষ হয়। পরে রাত থেকেই ভক্তরা বাড়ির পথে পা বাড়াতে শুরু করেন।

এর আগে গত বুধবার শুভ অধিবাসের মধ্যদিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠানের মূল আনুষ্ঠানিকতা। বৃহস্পতিবার অরুণোদয় থেকে অষ্ট প্রহরব্যাপী চলে তারক ব্রক্ষ্মনাম সংকীর্ত্তন। শুক্রবার প্রথম প্রহরে অনুষ্ঠিত হয় দধিমঙ্গল এবং দ্বি-প্রহরে ভোগ আরতি। সন্ধ্যার পর মহান্ত বিদায়ের মধ্যদিয়ে শেষ হলো এই মহোৎসব।

এবারের মহোৎসবে যোগ দিতে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, নেপাল, মায়ানমার, ভুটান ও শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৭ লাখ ভক্তের আগমন ঘটে গোদাগাড়ীর গৌরাঙ্গবাড়িতে। দিন-রাত এক করে তিন দিন ধরে তারা এখানে কীর্তন, পূজা, প্রসাদ গ্রহণ ও প্রার্থনা করে ঠাকুর নরত্তোম দাসকে স্মরণ করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ নেওয়াজ জানান, ঠাকুর নরত্তোম দাসের তিরোভাব তিথি মহাৎসবকে ঘিরে ওই এলাকায় এবার পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। তিন স্তরে দায়িত্ব পালন করেন ৩০৫ জন পুলিশ সদস্য। বসানো হয়েছিল সিসি ক্যামেরা। তিনদিনের এই মহোৎসবে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আগত ভক্তরা সুষ্ঠুভাবে তাদের প্রার্থনা করতে পেরেছেন।

গৌরাঙ্গবাড়ী ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি ড. মদন মোহন দে জানান, আগত ভক্তদের জন্য স্যানিটেশন ও বিশুদ্ধ পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তিনটি অস্বায়ী স্বাস্থ্য ক্যাম্পও স্থাপন করা হয়েছিল। আয়োজনে সহযোগিতার জন্য তিনি রাজশাহী জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মাটিকাটা ও গোগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদসহ সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ট্রাস্টি বোর্ডের সাধারণ সম্পাদক শ্যামাপদ স্যানাল জানান, সারা পৃথিবীতে হিন্দু ধর্মাবলাম্বীদের মোট ছয়টি ধাম রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটিই ভারতবর্ষে। আর একটি মাত্র বাংলাদেশে। আর তা এই খেতুরীধাম। এ কারণে প্রতিবছর উৎসবকে ঘিরে বিভিন্ন দেশ থেকে কয়েক লাখ ভক্তের আগমন ঘটে খেতুরীধামে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বাংলাদেশে এটিই হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় জমায়েত।

ভারতের মালদহ থেকে খেতুরীধামে এসেছিলেন নরোত্তমের ভক্ত কল্যাণী ঘোষ। তিনি বলেন, গত ৩০ বছর ধরে তিনি ঠাকুর নরত্তোম দাসের তিরোভাব তিথি মহোৎসবে আসেন। এবার নাতি ও ছেলে মেয়েদেরকে সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। পরিবারে মঙ্গল কামনা ছাড়াও সারাবিশ্বের শান্তি কামনা করে তিনি ঠাকুর নরত্তোম দাসের কাছে প্রার্থনা করেছেন।

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থেকে আগত ভক্ত অভিজিৎ রায় বলেন, ঠাকুর নরত্তোম দাস ছিলেন অহিংসা মহান সাধক। তিনি সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করে গেছেন। তাই তার আদর্শকে কাজে লাগিয়ে সবাইকে একযোগে দেশ ও সমাজের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে হবে। দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর জঙ্গিরা হামলা চালাচ্ছে। সংখ্যালঘুকে বেছে বেছে হত্যা করা হচ্ছে। দেশে যেন এসব না হয়, তার জন্য তিনি প্রার্থনা করেছেন।

নেপাল আগত অমিতা শ্রেষ্ঠা বলেন, ঠাকুর নরোত্তম দাসের কাছে ধনী-গরিব, ধর্ম-বর্ণ- কোনো ভেদাভেদ ছিল না। তিনি সবাইকে মানুষ হিসেবেই গ্রহণ করে শান্তির পথে ডাক দিতেন। তিনি সবাইকে সব ধরনের খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার জন্য বলতেন। তাই সব মানুষের তার আদর্শকে সম্মান করা উচিৎ।

১৫৩১ খ্রিস্টাব্দে ঠাকুর নরোত্তম দাস গোদাগাড়ী উপজেলার পদ্মা তীরের গোপালপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা জমিদার কৃষ্ণনন্দ দাস, মা নারায়নী রাণী। গোপলপুরে শৈশব অতিবাহিত করে ঠাকুর নরোত্তম দাস বৃন্দাবন অভিমুখে যাত্রা করেন। সেখানে নিখিল বৈষ্ণবকুল লোকনাথ গোস্বামীর শিষ্যত্ব গ্রহণ করে দীক্ষা লাভ করেন। পরে তিনি খেতুরে ফিরে আসেন। খেতুর মন্দিরে গড়ে তোলেন স্থাপনা। এরপর তিনিই প্রথমে এখানে এ উৎসবের আয়োজন করেন। ভক্তরা দূর-দূরান্ত থেকে তার কাছে এসে দীক্ষা গ্রহণ করতে শুরু করেন।

১৬১১ খ্রিস্টাব্দের কার্তিকী কৃষ্ণা পঞ্চমী তিথিতে ঠাকুর নরোত্তম দাস নিত্তলীলায় প্রবেশের মানসে গঙ্গাস্নানের বাসনা প্রকাশ করেন। শিষ্যরা তাকে গঙ্গাজলে নিয়ে গেলে নিজের দেহকে অর্ধনিমজ্জিত করে প্রিয় শিষ্য গঙ্গানারায়ণ ও রামকৃষ্ণকে আদেশ করেন তার দেহ মার্জন করতে। গুরু আজ্ঞায় নরোত্তমের ওই দুই শিষ্য তার দেহ মার্জন করতে থাকলে পুরো দেহ এক সময় সাদা দুধের মতো তরল পদার্থে পরিণত হয়ে গঙ্গাজলে মিলিত হয়ে যায়।

সে অনুযায়ী ঠাকুর নরোত্তম দাস পৃথিবীতে ৮০ বছর স্থায়ী ছিলেন। এরপর থেকেই যুগ পরস্পরায় দুর্গাপূজার পর বৈষ্ণব ধর্মের অনুসারীরা অহিংসার এই মহান সাধকের কৃপা লাভের আশায় খেতুরীধামে বছরে একবার মিলিত হয়ে থাকেন।

অন্যরা য়া পড়ছে...

Loading...



চেক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওমরাহ পালন

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার রাতে এখানে পবিত্র …

জনগণ ছেড়ে বিদেশিদের কাছে কেন : ঐক্যফ্রন্টকে ওবায়দুল কাদের

গাজীপুর, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): শুক্রবার বিকেলে গাজীপুরের চন্দ্রায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক চার লেনে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

My title page contents