২:৩৫ পূর্বাহ্ণ - শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর , ২০১৮
Breaking News
Download http://bigtheme.net/joomla Free Templates Joomla! 3
Home / খেলাধুলা / ক্রিকেট / মিরাজের রাজকীয় অভিষেকের দিন কোনঠাসা ইংল্যান্ড

মিরাজের রাজকীয় অভিষেকের দিন কোনঠাসা ইংল্যান্ড

স্পোর্টস ডেস্ক, ২০ অক্টোবর, ২০১৬ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): রাজকীয় অভিষেক ঘটলো অফ-স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজের। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিনই বল হাতে ৬৪ রানে ৫ উইকেট নিলেন মিরাজ। তার ঘুর্নিতে পড়ে প্রথম দিনেই ব্যাকফুটে ইংল্যান্ড। দিন শেষে ৭ উইকেটে ২৫৮ রান তুলতে সক্ষম হয়েছে ইংলিশরা। ক্যারিয়ারে প্রথম আন্তর্জাতিক ও প্রথম টেস্ট খেলতে নেমে দ্বিতীয় বোলার হিসেবে আক্রমণে এসে ৩৩ ওভারে ৬ মেডেনে ৬৪ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়েছেন ১৮ বছর বয়সী মিরাজ। তাই দিন শেষে আলোকিত মিরাজ নিজের এমন উজ্জল পারফরমেন্সে বেশ খুশী, ‘সত্যিই আমি খুব খুশী। এটি আমার প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ ছিলো। এমন পারফরমেন্সের কারণে আমি অনেক বেশি খুশী। আমি চেষ্টা করেছি ভালো বল করার। তাই উইকেট পেয়েছি। উইকেট বেশ ভালো। উইকেটে স্পিন অছে। আশা করি আগামীকালও ভালো পারফরমেন্স করবো।’

তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে টস ভাগ্য সাথে ছিলো না বাংলাদেশের সীমিত ওভারের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার। সেই দুর্ভাগ্য এবার ভর করেছে বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের কপালে। তাইতো চট্টগ্রাম টেস্টে টস ভাগ্যে হারেন মুশফিকুর। আর টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্বান্ত নেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক অ্যালিষ্টার কুক।

কুকের সিদ্বান্তটা ভুল ছিলো না। কারন প্রথম দু’দিন ব্যাটসম্যানরাই এই উইকেট থেকে সুবিধা পাবেন, এটা নিশ্চিতই ছিলো। কিন্তু কুকের সেই সিদ্বান্ত ভুল প্রমান করেন টাইগার দলপতি মুশফিকুর।

ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই মুশফিকুর বল তুলে দেন অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা মিরাজের হাতে। বল হাতে নেয়ার এক ঘন্টা আগে এই মুশির কাছ থেকে টেস্ট ক্যাপ নিয়েছিলেন মিরাজ। আর তখনই হয়তো মুশিও চিন্তা করে রেখেছিলেন- জীবনের প্রথম টেস্টের শুরুতেই মিরাজকে পরীক্ষায় ফেলবেন।

পরীক্ষায় নেমে শুরু থেকেই ইংল্যান্ডের দুই ওপেনার কুক ও বেন ডাকেটকে অসহায় করে ফেলেন মিরাজ। তার ঘুর্নি বুঝে উঠার কোন উপায়ই পাচ্ছিলেন তারা। তাই বাধ্য হয়েই ১০ম ওভারে গিয়ে হার মানেন অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা ডাকেট। মিরাজের অফ-স্পিনের ঘুর্নিতে নিজের স্ট্যাম্প হারান ডাকেট। তাই ১৪ রানেই থেমে যেতে হয় তাকে।

মিরাজের প্রথম শিকারে তখনও আনন্দে উচ্ছসিত বাংলাদেশ। মিরাজের ঐ ঘুর্নি ডেলিভারি নিয়ে ভরপুর আলোচনায় ক্রিকেটপ্রেমিরা। এমন সময় বাংলাদেশকে উইকেটের আনন্দে ভাসান দলের সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। মিরাজ একপ্রান্ত দিয়ে ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের চাপে রাখলেও, অন্যপ্রান্তে ব্যর্থ ছিলেন দুই পেসার শফিউল ইসলাম ও অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা কামরুল ইসলাম রাব্বি।

তাই বাধ্য হয়েই ইনিংসের ১১তম ওভারে সাকিবকে আক্রমনে নিয়ে আসেন মুশফিকুর। আক্রমণে এসেই নিজের দ্বিতীয় বলেই ইংল্যান্ড দলপতি কুককে বোল্ড করেন সাকিব। ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ডের দিন ৪ রানে ফিরেন কুক। ১৮ রানে মধ্যে দুই ওপেনারকে হারিয়ে বেশ চাপেই পড়ে যায় ইংল্যান্ড।

সেই চাপ আরও বাড়ে পরের ওভারে। ১২তম ওভারে মিরাজের শেষ বলটি ব্যাকফুটে গিয়ে খেলেছিলেন চার নম্বরে নামা গ্যারি ব্যালেন্স। কিন্তু ব্যাট ছোয়ার আগে বলটি সামান্য স্পর্শ পায় ব্যালেন্সের প্যাডে (অবশ্য সেটি তখন বুঝা যায়নি, পরে টিভি রিপ্লেতে বুঝা যায়)। আর তাতেই আবেদন করে বসে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। কিন্তু তাতে সাড়া দেননি আম্পায়ার। তবে কারও সাথে আলাপ না করে ডিআরএস নেয়ার সিদ্বান্ত নেন উইকেটের পেছনে থাকা বাংলাদেশ দলপতি মুশফিকুর।

পরে ডিআরএস-এ দেখা যায় ব্যাটে যাবার আগে ব্যালেন্সের প্যাডে সামান্য স্পর্শ করে বলটি। আর তাই ব্যালেন্সকে আউট ঘোষণা করেন থার্ড আম্পায়ার। ফলে নিজের দ্বিতীয় উইকেট শিকার করেন মিরাজ। অবশ্য উইকেটটি মুশফিকুরের নামে লেখা হলে, এতে কোন ভুল হবে না। কারণ ডিআরএস-এর সিদ্বান্তাটা একাই নিয়ে ছিলেন মুশি। আর সেই সিদ্বান্তেই সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ।

২১ রানে তৃতীয় উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যাওয়া ইংল্যান্ডকে টেনে তোলার সিদ্বান্ত নেন তিন নম্বরে নামা জো রুট। হঠাৎ করেই মারমুখী হয়ে উঠেন। সেই পরিকল্পনায় সাফল্যও আসে। বাংলাদেশের বোলাররা কিছুটা লাইন-লেন্থহীন হয়ে পড়ে। এই সুযোগে ২৮ ওভারে ৩ উইকেটে ৮১ রান নিয়ে লাঞ্চে যায় ইংল্যান্ড।

তবে লাঞ্চ থেকে ফিরেই বিপদে পড়ে ইংল্যান্ড। আবারো ঐ মিরাজই ইংল্যান্ডের বিপদ ডেকে আনেন। নিজের ১১তম ওভারের দ্বিতীয় বলে দারুন খেলতে থাকা রুটকে বিদায় দেন মিরাজ। ৫টি বাউন্ডারিতে ৪৯ বলে ৪০ রান করে ফিরেন রুট।

রুটের বিদায়ে উইকেটে আসেন বেন স্টোকস। কিন্তু বেশিক্ষণ উইকেটে থাকতে পারলেন তিনি। তাকে থাকতে দেননি সাকিব। দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ডের মাধ্যমে স্টোকসের ১৮ রানের ইনিংসটি শেষ করে দেন সাকিব। ফলে ৫ উইকেটে ১০৬ রানে পরিণত হয় ইংল্যান্ড।

এখান থেকে ইংল্যান্ডের পালে রানের হাওয়া যুগিয়েছেন মঈন আলী ও উইকেটরকক্ষক জনি বেয়ারস্টো। ষষ্ঠ উইকেটে বাংলাদেশ বোলারদের উপর আধিপত্য বিস্তার করে খেলেন মঈন ও বেয়ারস্টো। এসময় তিনবার ডিআরএস-এর মাধ্যমে বেঁেচ যান মঈন। আর স্লিপে একবার ক্যাচ দিয়ে রক্ষা পান বেয়ারস্টো। ফলে এই জুটির কাছ থেকে দল পায় ৮৮ রান। এতে ঘুড়ে দাড়ানোর পথ পেয়ে যায় ইংল্যান্ড।

কিন্তু ইংল্যান্ডকে সেই সুযোগটি দেননি মিরাজ। নিজের ২৫তম ওভারের শেষ বলে মঈনকে থামিয়ে দেন তিনি। মিরাজের অফ-ব্রেকটি বুঝতে না পারায় মুশফিকুরের হাতে ক্যাচ দেন মঈন। টেস্ট ক্যারিয়ারের অষ্টম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে ৬৮ রানে থামেন মঈন। তার ১৭০ বলের ইনিংসে ৮টি চার ও ১টি ছক্কা ছিলো।

আলীকে ফিরিয়ে নিজের চতুর্থ উইকেট তুলে অভিষেকেই পঞ্চম উইকেট শিকারের স্বপ্নে বিভোর হয়ে উঠেন মিরাজ। এমন স্বপ্ন দেখছিলেন অধিনায়ক মুশফিকুরও। তাই মিরাজকে আক্রমনে রেখেছিলেন মুশি। কিন্তু সেই সাফল্য ধরা দিচ্ছিলো না মিরাজকে। তাই ৭৫তম ওভার শেষে মিরাজকে আক্রমণ থেকে সরিয়ে নেন টাইগার অধিনায়ক। এসময় তাইজুল-সাব্বির-শফিউল-মোমিনুলকে নিয়ে বোলিং করান দলপতি।

কিন্তু মিরাজের উপর থেকে আস্থা হারাননি মুশফিকুর। তাই ৮২তম ওভারে আবারো মিরাজকে আক্রমনে আনেন মুশফিকুর। বল হাতে পেয়েই নিজের স্বপ্ন পূরণ করেন মিরাজ। নিজের ২৯তম ওভারের শেষ বলে বেয়ারষ্টোকে থামিয়ে ইনিংসে পঞ্চম শিকার করেন তিনি। অভিষেক ম্যাচে ৫ উইকেট শিকার করে রেকর্ড বইয়ে নিজের নাম লেখান মিরাজ। বাংলাদেশের সপ্তম বোলার হিসেবে অভিষেকে পাঁচ উইকেট শিকারের কৃতিত্ব দেখালেন মিরাজ।

টেস্ট ক্যারিয়ারের ১১তম হাফ-সেঞ্চুরি পাওয়া বেয়ারস্টো ৮টি চারের সহায়তায় ১২৬ বলে ৫২ রান করেন। এরপর দিনের বাকী সময়টুকু বিপদ ছাড়াই পার করেছে ইংল্যান্ড। ক্রিস ওকস ৩৬ ও আদিল রশিদ ৫ রানে অপরাজিত আছেন। বাংলাদেশের পক্ষে মিরাজ ৬৪ রানে ৫ এবং সাকিব ৪৬ রানে ২ উইকেট নেন।

স্কোর কার্ড (প্রথম দিন শেষে):
ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংস
অ্যালিষ্টার কুক বোল্ড ব সাকিব ৪
বেন ডাকেট বোল্ড ব মিরাজ ১৪
জো রুট ক সাব্বির ব মিরাজ ৪০
গ্যারি ব্যালেন্স এলবিডব্লু ব মিরাজ ১
মঈন আলী ক মুশফিকুর ব মিরাজ ৬৮
বেন স্টোকস বোল্ড ব সাকিব ১৮
জনি বেয়ারস্টো বোল্ড ব মিরাজ ৫২
ক্রিস ওকস অপরাজিত ৩৬
আদিল রশিদ অপরাজিত ৫
অতিরিক্ত (বা-১৪, লে বা-৩, ও-১) ২০
মোট (৭ উইকেট, ৯২ ওভার) ২৫৮
উইকেট পতন : ১/১৮ (ডাকেট), ২/১৮ (কুক), ৩/২১ (ব্যালেন্স), ৮৩/৪ (রুট), ৫/১০৬ (স্টোকস), ৬/১৯৪ (মঈন), ৭/২৩৭ (বেয়ারস্টো)।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস বোলিং :
শফিউল ইসলাম : ৯-১-৩৩-০।
মেহেদি হাসান মিরাজ : ৩৩-৬-৬৪-৫।
কামরুল ইসলাম রাব্বি : ৮-০-৪১-০ (ও-২)।
সাকিব আল হাসান : ১৯-৬-৪৬-২।
তাইজুল ইসলাম : ১৭-৮-২৮-০।
সাব্বির রহমান : ৩-০-১১-০।
মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ : ২-০-১৭-০।
মোমিনুল হক : ১-১-০-০।

সৌজন্যে ঢাকাটাইমস

অন্যরা য়া পড়ছে...

Loading...



চেক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওমরাহ পালন

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার রাতে এখানে পবিত্র …

জনগণ ছেড়ে বিদেশিদের কাছে কেন : ঐক্যফ্রন্টকে ওবায়দুল কাদের

গাজীপুর, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): শুক্রবার বিকেলে গাজীপুরের চন্দ্রায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক চার লেনে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

My title page contents