১:৩৫ পূর্বাহ্ণ - মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর , ২০১৮
Breaking News
Download http://bigtheme.net/joomla Free Templates Joomla! 3
Home / রাজনীতি / আওয়ামী লীগ / আসন্ন কাউন্সিলের লক্ষ্য হবে ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করা : প্রধানমন্ত্রী

আসন্ন কাউন্সিলের লক্ষ্য হবে ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করা : প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, ১৯ অক্টোবর, ২০১৬ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): বুধবার বিকেলে গণভবনে আওয়ামী লীগের আসন্ন ত্রিবার্ষিক কাউন্সিল উপলক্ষে দলের কার্যনির্বাহী সংসদের সভার সূচনা বক্তৃতায়  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আসন্ন কাউন্সিলের লক্ষ্য হবে দল পুনর্গঠন করে ক্ষমতার ধারাবাহিকতা রক্ষার মাধ্যমে সরকারের চলমান উন্নয়ন কর্মসূচিকে এগিয়ে নিয়ে ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করা।

তিনি বলেন,‘প্রতিটি ক্ষেত্রেই দেশের দ্রুত উন্নয়ন হয়েছে। আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে বলেই এই উন্নয়নের সফলতা গ্রামীণ জনগণের কাছে পৌঁছাচ্ছে। আমাদের উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে এবং দলের প্রত্যেকটি নেতা-কর্মীকে বিষয়টি মনে রাখতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন করাই আমাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ইতোপূর্বে কাউন্সিলের ঘোষণাপত্রের প্রতিশ্রুতিসমূহের অনেকগুলোই আমরা বাস্তবায়ন করেছি। এই ঘোষণাপত্রকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন কাজ আরো ভালভাবে এবং কিভাবে মানুষের আর্থ-সামজিক উন্নয়ন করা যায় তারই প্রতিফলন ঘটবে এবারের ঘোষণা পত্রে। এবার আরও দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকারের আমলে ৫ম ও ৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার বাস্তবায়ন শুরু করলেও মাঝে বিএনপি সরকার কোন পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেনি।

তিনি বলেন, জনগণ নয়, তাদের (বিএনপি) মূল লক্ষ্য ছিল কিভাবে নিজেরা সম্পদশালী হবে সে চেষ্টা করা। এ জন্যই অ্যাডহক ভিত্তিতে তারা কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে। অন্যদিকে তাঁর সরকার দেশের উন্নয়নে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার পাশাপাশি সামগ্রিক উন্নয়নে ১০ বছর মেয়াদি পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।

সংগঠনের গঠনতন্ত্রে সংশোধনী আনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং যুগের প্রয়োজনে সংগঠনের গঠনতন্ত্রে কিছু সংশোধনী আনা হচ্ছে। গঠনতন্ত্রে কিছু কিছু সংশোধনী আনার মাধ্যমে পরিবর্তিত গঠনতন্ত্রে তৃণমূল থেকে কিভাবে সংগঠন গড়ে উঠবে তার কিছু রূপরেখা এতে থাকবে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা গঠনতন্ত্র প্রণয়ন উপ-কমিটি এবং ঘোষণাপত্র প্রণয়ণ উপ-কমিটি করে দিয়েছিলাম। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

আগামী ২২ ও ২৩ অক্টোবরের কাউন্সিলকে ঘিরে দলের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ- উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের মধ্যে আওয়ামী লীগকে নিয়ে এই আস্থার সৃষ্টি হয়েছে যে, তারাই (আওয়ামী লীগ) আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে জনগণের আকাঙ্খাকে পূরণ করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় দারিদ্র্য দূরীকরণ, খাদ্য নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্নখাতে তাঁর সরকারের সাফল্য তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমগ্র বিশ্ব আজ একবােেক্য স্বীকৃতি দিয়েছে দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশের সাফল্য আওয়ামী লীগ সরকারের বাস্তবধর্মী কর্মসূচি এবং নীতির ফলেই অর্জিত হয়েছে। তাই বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করে গড়ে তোলার বাকি কাজটুকু সম্পন্ন করার দায়িত্বও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ওপরই বর্তায়।

আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বিষয়টি মাথায় রেখেই জনগণের জন্য রাজনীতি করতে হবে এবং জনগণের সেবায় আত্মনিবেদনের জন্য তাদের নতুন করে শপথ নিতে হবে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগই একমাত্র রাজনৈতিক দল তারা যে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে তা কখনও ভুলে যায় না। প্রতিটি বাজেটের আগেই আমরা কি কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, কতটুকু করতে পেরেছি এবং বাকিটুকু কিভাবে করব তার মূল্যায়ন করি। সে অনুযায়ী প্রকল্প গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়ন করি। যার ফলে দেখা যায়, আমরা মানুষের কাছে যে ওয়াদা করেছিলাম সেই ওয়াদা রক্ষা করি এবং মানুষ তার সুফল পায়।

বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার দীর্ঘমেয়াদী কর্মসূচি হাতে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোপূর্বে আমরা যে কর্মসূচি নিয়েছি সেগুলো পূরণ করেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পঁচাত্তরের পর বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি বলবৎ ছিল। মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা চলেছে। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারটুকুও কেড়ে নেয়া হয়েছিল। জনগণ যেমন শোষণ বঞ্চনার স্বীকার হয়েছে তেমনি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ওপর নেমে এসেছিল জুলুম-নির্যাতন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, দেশের জনগণ চরম ত্যাগ-তীতিক্ষার বিনিময়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই দেশে আবার গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে সন্দেহভাজন জঙ্গি নিহতের সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দেশের মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্ব ‘যে কোনো মূল্যে’ রক্ষা করা হবে।

তিনি প্রশ্ন করে বলেন, ‘অনেক মানুষের জীবন বাঁচাতে’ সন্ত্রাসীদের আঘাত দেয়াতে অসুবিধা কোথায়? জঙ্গিবিরোধী অভিযানের সত্যতা নিয়ে বিএনপি নেতারা প্রশ্ন তোলায় একে সন্ত্রাসীদের জন্য তাদের ‘হাহাকার’ বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এর মধ্য দিয়ে অপরাধীদের প্রশ্রয় দেয়া হচ্ছে বলে বিএনপি নেতাদের সতর্ক করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অপরাধীদের প্রশ্রয় দেয়া আর অপরাধ করা একই কথা।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রী দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, কোনো রকম জঙ্গিবাদ এই বাংলার মাটিতে সহ্য করা হবে না। আর যারা এর আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা তাদেরও করা হবে বিচারের মুখোমুখি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এসে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করেছে। বাংলা ভাইও তাদের সৃষ্টি।

তিনি বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এসে দেশের কোনো উন্নয়ন করেনি। তবে তারা মানুষ খুনসহ নানা অপকর্ম করেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ক্ষমতায় থেকে অগ্নিসন্ত্রাস, মেয়েদের ধর্ষণ, হাতুড়ি দিয়ে মানুষকে পেটানো এবং সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা করেছে তাদের নেতারা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের মানুষের নিরাপত্তা দেয়া যেহেতু আমাদের দায়িত্ব, সেহেতু যে কোনো মূল্যে আমরা দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করব। আমাদের কথা স্পষ্ট- ‘জিরো টলারেন্স টু টেরোরিজম। আর যারা টেররিজমের পক্ষে অবস্থান নেবে তাদের বিরুদ্ধেও আমরা ব্যবস্থা নেব।’

সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সন্ত্রাসকে আমরা কোনো মতেই প্রশ্রয় দেব না। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষাবলম্বনকারীদের বিচাররে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের আমরা বিচার করেছি। যুদ্ধপরাধীদের বিচার করতে গেলেই দেখি প্রতিবাদ। যারা যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে থেকে তাদের সমর্থন করছে, লাখো শহীদের রক্তে রঞ্জিত পতাকা তাদের হাতে তুলে দিয়ে তাদের মন্ত্রী বানিয়ে মর্যাদা বাড়িয়ে দিয়েছে, তাদের বিচার ইনশাল্লাহ একদিন বাংলার মাটিতে হবে।

সূচনা বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সভাপতি আরও বলেন, আমাদের দল ঐতিহ্যবাহী দল। আমরা দেশের এবং মানুষের জন্য কাজ করি। এই চিন্তা চেতনা থেকেই আমাদের সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে হবে।

অন্যরা য়া পড়ছে...

Loading...



চেক

বিকল্পের সন্ধানে কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপনে দেরি হচ্ছে : ওবায়দুল কাদের

ঢাকা, ১৩ মে ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে কোটা …

স্যাটেলাইট মহাকাশে ঘোরায় বিএনপির মাথাও ঘুরছে : মোহাম্মদ নাসিম

ফেনী, ১৩ মে ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণ হওয়ায় বিএনপির মাথাও ঘুরছে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

My title page contents