৪:৩৬ অপরাহ্ণ - বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর , ২০১৮
Breaking News
Download http://bigtheme.net/joomla Free Templates Joomla! 3
Home / জরুরী সংবাদ / ভারত জলপথে বাংলাদেশের সঙ্গে নতুন সংযোগ স্থাপনের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে

ভারত জলপথে বাংলাদেশের সঙ্গে নতুন সংযোগ স্থাপনের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে

BANGLADESH-PORT1    28.10.15ঢাকা, ২৮ অক্টোবর ২০১৫ (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): মিয়ানমারের পর এবার বাংলাদেশের সঙ্গে নতুন করে জলপথে যোগাযোগ বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে ভারত। দেশটির ভূমিবিধৌত উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে সমৃদ্ধ করতে এবং দু’দেশের মধ্যে পানিপথে পণ্য, সরঞ্জামাদি এবং লোকজনের চলাচল সুগম করতে এমন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নবিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং এর বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, নৌপথসহ বিভিন্ন মাধ্যমে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সংযোগ বাড়ানোকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করছে ভারত। এরইমধ্যে অঞ্চলটির জন্য ১৬টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে বেশিরভাগই বাংলাদেশের সঙ্গে সংযোগ বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জিতেন্দ্র জানান, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় ভারতের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় প্রকল্পগুলোর দেখভাল করছে। এ ধরনের উচ্চাভিলাষী প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে আসাম, ত্রিপুরাসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো ব্যাপক সুবিধা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।’

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২,৯৭৯ কিলোমিটার দীর্ঘ স্থলসীমা এবং ১,১১৬ কিলোমিটার নৌসীমা রয়েছে। দু’দেশের মধ্যে ব্রহ্মপুত্রসহ ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। ভারতের অান্তঃদেশীয় জলপথ কর্তৃপক্ষ আইডব্লিউএআই-এর কর্মকর্তার বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ১৬টি জলপথ প্রকল্পের মধ্যে আসাম, মিজোরাম এবং মনিপুরে তিনটি প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশের কাজ শেষ হয়েছে। আর এতে ব্যয় হয়েছে ১৫ কোটি রুপি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রহ্মপুত্র নদের ২০টি জায়গায় ১৭ মিটার দীর্ঘ ভাসমান টার্মিনাল তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। আর ১৫টি জায়গায় ভাসমান টার্মিনাল তৈরির কাজ শুরু করেছে আসাম সরকার। ২০১৬ সালের ডিসেম্বর নাগাদ এ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ত্রিপুরার পরিবহন সচিব সমরজিৎ ভৌমিক জানান, ত্রিপুরার গোমতী ও হাওড়া এবং বাংলাদেশি নদীগুলোর সঙ্গে জলপথে যোগাযোগের উন্নয়ন ঘটাতে রাজ্য সরকারের তরফে একটি প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, ত্রিপুরার গোমতী এবং বাংলাদেশের মেঘনা নদীর মধ্যে জলপথের উন্নয়নে বিস্তারিত প্রকল্প প্রতিবেদন জমা দিয়েছে ভারতের নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে ১২ কোটি রুপি বরাদ্দ ঘোষণা করা হয়েছে।

পার্বত্য উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কানেকটিভিটি সঙ্কট সমাধানে বর্তমানে মিয়ানমারের সিত্তে বন্দরে কালাদান মাল্টি মডেল ট্রানজিট ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করছে ভারত। প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় প্রকল্পের নির্ধারিত ব্যয় ৫৩৫ কোটি রুপি থেকে বাড়িয়ে ২,৯০৪ কোটি রুপি করা হয়েছে।

বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার বর্তমান জলপথ ও বন্দর

বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চারটি জলপথ কার্যকর রয়েছে। সেগুলো হলো- বাংলাদেশ হয়ে দক্ষিণাঞ্চলীয আসামের কলকাতা-পান্ডু, কলকাতা-করিমগঞ্জ, বাংলাদেশের রাজশাহী থেকে দক্ষিণাঞ্চলীয় আসামের ধুলিয়ান এবং বাংলাদেশ হয়ে করিমগঞ্জ-পান্ডু-করিমগঞ্জ। এ জলপথগুলো ১৯৭২ সাল থেকে কার্যকর রয়েছে এবং দু‘দেশের মধ্যকার ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রানজিট এন্ড ট্রেড-এর প্রটোকলের আওতায় সেগুলো নবায়ন করা হয়ে থাকে।

আন্তঃদেশীয় জলপথ ব্যবহারের মাধ্যমে দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়াতে প্রত্যেকটি দেশে চারটি করে বন্দর রয়েছে। বাংলাদেশের বন্দরগুলো হল-নারায়ণগঞ্জ, খুলনা, মংলা এবং সিরাজগঞ্জ। আর ভারতের বন্দরগুলো হল-কলকাতা, হালদিয়া, করিমগঞ্জ এবং পান্ডু।

ত্রিপুরা আর অন্য উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো তিন দিক থেকে বাংলাদেশ, মিয়ানমার, ভুটান এবং চীন দিয়ে বেষ্টিত।

কলকাতা আর আগরতলার মধ্যে ১,৬৫০ কিলোমিটার দূরত্ব রয়েছে। কিন্তু যদি বাংলাদেশ হয়ে আসা যায় তবে এ দূরত্ব কমে ৫১৫ কিলোমিটারে দাঁড়ায়। আর তাই কলকাতাসহ অন্যান্য শহর থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে পণ্য আনা নেওয়ার সময় কমাতে বাংলাদেশের জলপথ এবং বন্দর ব্যবহারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসছে ভারত।

সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে একটি লিখিত স্মারক জমা দেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। সেখানে তিনি বলেন, ‘১৯৪৭ সালের দেশবিভাগের আগে স্থলপথ, রেল ও জলপথে বাংলাদেশের মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে যুক্ত ছিল ত্রিপুরা। আর সেটিই এখন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। বাংলাদেশ হয়ে ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট ফ্যাসিলিটি প্রতিষ্ঠা জরুরি হয়ে পড়েছে।’

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১২ সালের শুরুর দিকে ত্রিপুরার দক্ষিণাঞ্চলে মেগা পাওয়ার প্রজেক্টের জন্য ভারতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস কর্পোরেশনকে আশুগঞ্জ বন্দর হয়ে ভারি যন্ত্রপাতি টারবাইন এবং কার্গো আনা নেয়ার অনুমতি দেয়া হয়। আশুগঞ্জ বন্দর এবং সংশ্লিষ্ট কাঠামোর উন্নয়ন ঘটাতে বেশ কয়েক লাখ রুপি খরচ করেছিল ভারত সরকার। সৌজন্যে প্রিয়.কম

অন্যরা য়া পড়ছে...

Loading...



চেক

বিকল্পের সন্ধানে কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপনে দেরি হচ্ছে : ওবায়দুল কাদের

ঢাকা, ১৩ মে ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে কোটা …

স্যাটেলাইট মহাকাশে ঘোরায় বিএনপির মাথাও ঘুরছে : মোহাম্মদ নাসিম

ফেনী, ১৩ মে ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণ হওয়ায় বিএনপির মাথাও ঘুরছে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

My title page contents