৫:০৪ পূর্বাহ্ণ - বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর , ২০১৮
Breaking News
Download http://bigtheme.net/joomla Free Templates Joomla! 3
Home / রাজনীতি / আওয়ামী লীগ / আওয়ামী লীগের উপকমিটির সহসম্পাদক নিয়োগ দেখবেন শেখ হাসিনা নিজে

আওয়ামী লীগের উপকমিটির সহসম্পাদক নিয়োগ দেখবেন শেখ হাসিনা নিজে

ঢাকা, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): আলোচনা-সমালোচনার মুখে আওয়ামী লীগের উপকমিটির সহসম্পাদক নিয়োগে এবার লাগাম টানা হচ্ছে। আসছে সম্মেলনে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাদের নিয়োগ ও কর্মকাণ্ড নির্ধারণ করার বিষয়টি দেখবেন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা নিজে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢালাওভাবে সহসম্পাদক নিয়োগের বিষয়ে দলীয় নেতাদের সামনে ও বিভিন্ন ফোরামে একাধিকার উষ্মা প্রকাশ করেন দলের সভাপতি। এত সহসম্পাদক নিয়োগ করার ব্যাপারে তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা সভাপতির সামনে বিএনপির জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলনের অজুহাত দেখিয়েছিলেন। কিন্তু তাতে বিষয়টি নিয়ে দলের মধ্যে সমালোচনা কমেনি। তাই আসন্ন জাতীয় সম্মেলনে সহসম্পাদক নিয়োগের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী নিজে দেখবেন বলে ঘনিষ্ঠদের জানিয়েছেন।

দলের একটি সূত্র জানায়, দলের সভাপতি শেখ হাসিনার চিন্তার ফসল কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহসম্পাদক পদটি। আগে আওয়ামী লীগের উপকমিটির সদস্যদের কেবল ‘উপকমিটির সদস্য’ হিসেবে মূল্যায়ন করা হতো। পরে ২০০২ সালের ২৬ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে প্রথমবারের মতো দলের গঠনতন্ত্রে সংযোজন করা হয় সহসম্পাদক পদ। পরবর্তীকালে ৯৫ জন সহসম্পাদক নিয়োগ করা হয়েছিল। তাদের অনেকেই এখন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রভাবশালী নেতা।

এরপর ২০০৯ সালের ২৪ জুলাইয়ের সম্মেলনে কোনো সহসম্পাদক নিয়োগ করা হয়নি। সর্বশেষ ২০১২ সালের ২৯ ডিসেম্বর কাউন্সিলের পর কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে ৬৬ জন সহসম্পাদকের নামও ঘোষণা করা হয়। এসব সহসম্পাদককে নিয়োগ দেন শেখ হাসিনা নিজে।

আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রের ২৫ অনুচ্ছেদের ‘চ’ ধারায় (বিভাগীয় উপকমিটি গঠন) বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রত্যেক সম্পাদকীয় বিভাগের কার্যক্রম অধিকতর গতিশীল ও সমন্বিত করার লক্ষ্যে প্রতিটি সম্পাদকীয় বিভাগে একটি করিয়া উপ-কমিটি গঠন করিবে। উক্ত উপ-কমিটি ১ জন চেয়ারম্যান, ১ জন সম্পাদক, অনূর্ধ্ব ৫ জন সহ-সম্পাদক, প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিশেষজ্ঞ সদস্য, সংশ্লিষ্ট সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং নির্দিষ্ট সংখ্যক সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে।’

আওয়ামী লীগের ১৯টি সম্পাদকীয় পদে পাঁচজন করে সহসম্পাদক নিয়োগ দিলে তার সংখ্যা দাঁড়ায় ৯৫ জন। কিন্তু প্রথম ঘোষিত ৬৬ জনের পরে দফায় দফায়, প্রকাশ্যে-গোপনে সহসম্পাদকের চিঠি দিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। বর্তমানে উপকমিটির সহসম্পাদক কতজন তার সদুত্তর পাওয়া দুরূহ। তবে দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ সংখ্যা ৪৬৭ জন।

সহসম্পাদকের সংখ্যা নিয়ে ধানমন্ডিতে এক দলীয় সভায় আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ওবায়দুল কাদেরও এসব সহসম্পাদক নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, “উপকমিটির সহসম্পাদক ব্যাঙের ছাতার মতো বেড়েছে। পার্টি অফিসের সামনে যার সঙ্গে ধাক্কা লাগে সেই বলে আমি আওয়ামী লীগের সহসম্পাদক। কিন্তু তারা যে উপকমিটির সহসম্পাদক এটা তারা বলে না।’ উপকমিটির এই নেতাদের অনেকে আওয়ামী লীগের সহসম্পাদক পরিচয়ে এলাকায় প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করে বলেও ওই সময় তিনি উল্লেখ করেছিলেন।

উপকমিটির এসব সহসম্পাদকের কাজ দলের গঠনতন্ত্রে উল্লেখ থাকলেও তার ধারে-কাছে নেই তারা। সব সম্পাদকীয় বিভাগে উপকমিটিও গঠিত হয়নি। তবে সম্মেলন উপলক্ষে গঠিত বিভিন্ন উপপরিষদে কিছু সহসম্পাদককে রাখা হয়েছে। অথচ গঠণতন্ত্রের একই ধারায় সহসম্পাদকদের কাজের বর্ণনায় বলা আছে- ‘উপ-কমিটিসমূহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কার্যক্রম জোরদার করার কাজে সহায়তা করিবে। প্রত্যেক বিভাগ উহার কর্মকা- সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য, উপাত্ত ও পরিসংখ্যান সংগ্রহ, সরবরাহ ও সংরক্ষণ করিবে এবং সময়ে সময়ে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উপর প্রতিবেদন তৈরি করিবে। প্রতি তিন মাসে অন্তত একবার উপ-কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হইবে। সভায় স্ব-স্ব উপ-কমিটি তাহাদের কর্মকা- মূল্যায়ন ও করণীয় নির্ধারণ করিবে।’

২০১২ সালে আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলনের পর ঘোষিত কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে উপকমিটির নেতাদের নাম প্রকাশ হয়। সে সময় যোগ্য ও ত্যাগী ৬৬ জনের নাম এসেছিল, যাদের অধিকাংশই সাবেক ছাত্রনেতা। কিন্তু এরপর চক্রবৃদ্ধি হারে এই সংখ্যা বাড়ানোয় মহিমা কমে যায় এ পদটির। এখন এমন অবস্থা দাঁড়িয়েছে, নেতাও সহসম্পাদক, আবার তাদের কর্মীরাও সহসম্পাদক, বিভিন্ন জেলা-উপজেলার নেতারাও একই পদধারী।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ছাত্রনেতা আলাপচারিতায় বলেন, গণহারে সহসম্পাদক নিয়োগ দেয়ায় নিজের সাংগঠনিক পরিচয় দিতে লজ্জা লাগে। তারা দলের শীর্ষ নেতাদের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ তুলেছেন।

অনেক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, সহ-সম্পাদকের সংখ্যা বাড়ানোর ফলে একের পর এক ঝামেলা লেগেই আছে। দলীয় সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিভিন্ন সময়ে সহ-সম্পাদকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। তারা সচিবালয়সহ বিভিন্ন জায়গায় প্রভাব খাটিয়ে ও দলের নাম ভাঙিয়ে নিজের স্বার্থ উদ্ধার করার চেষ্টা করেন।

দলীয় সূত্রমতে,  থানা ও জেলা কমিটিতে ঠাঁই না পাওয়া নেতারাও বিভিন্নভাবে দলের সহসম্পাদকের পদে নিয়োগ পেয়েছেন।

আওয়ামী লীগের সম্পাদকম-লীর কয়েকজন সদস্য জানান, সংবাদ সম্মেলন কিংবা কোনো অনুষ্ঠানে দলীয় কার্যালয়ে বিপুলসংখ্যক সহসম্পাদকের জন্য বসার জায়গা পাওয়া যায় না। সামনের আসন দখল করে থাকা এসব সহসম্পাদকরা সিনিয়রদের কীভাবে সম্মান করতে হয় তাও জানে না।

এদিকে দলের সহযোগী সংগঠনে ঠাঁই না পাওয়া বঞ্চিতদেরও শেষ ভরসা যেন কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহসম্পাদকের পদটি। তাই এই কমিটি নেতা-কর্মীদের কাছে ক্রমাগত গুরুত্বহীন হয়ে পড়ছে।

দলের আগামী সম্মেলন সামনে রেখে এসব সহসম্পাদক এখন নতুন ব্যস্ততায় মেতেছে। তাদের অধিকাংশই এখন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে আসার প্রত্যাশা ও উচ্চাশা ব্যক্ত করছেন।

নেতারা বলছেন, শত শত সহসম্পাদকের উৎপাতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি এখন তার মহিমা হারাতে বসছে। তাই সহসম্পাদক নিয়োগের বিষয়টি দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনাই এবার দেখভাল করবেন।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ বলেন, সহসম্পাদক পদটি গুরুত্বপূর্ণ। আগামীতে এ পদে নিয়োগ দেয়ার বিষয়টি দলে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। সৌজন্যে ঢাকাটাইমস

অন্যরা য়া পড়ছে...

Loading...



চেক

বিকল্পের সন্ধানে কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপনে দেরি হচ্ছে : ওবায়দুল কাদের

ঢাকা, ১৩ মে ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে কোটা …

স্যাটেলাইট মহাকাশে ঘোরায় বিএনপির মাথাও ঘুরছে : মোহাম্মদ নাসিম

ফেনী, ১৩ মে ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণ হওয়ায় বিএনপির মাথাও ঘুরছে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

My title page contents