৭:২২ পূর্বাহ্ণ - সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর , ২০১৮
Breaking News
Download http://bigtheme.net/joomla Free Templates Joomla! 3
Home / প্রধানমন্ত্রীর ঈদ কার্ডে প্রতিবন্ধী শিশুর আঁকা ছবি : একমাত্র শেখ হাসিনার পক্ষেই এটি সম্ভব

প্রধানমন্ত্রীর ঈদ কার্ডে প্রতিবন্ধী শিশুর আঁকা ছবি : একমাত্র শেখ হাসিনার পক্ষেই এটি সম্ভব

ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): প্রতি ঈদের ন্যায় এবারও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ঈদ শুভেচ্ছা কার্ড পাঠিয়ে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর ঈদ কার্ডে সাধারণত নামী-দামী আর্টিস্টের আঁকা ছবি বা দৃশ্য শোভা পাওয়ার কথা। কিন্তু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতটাই অন্য উচ্চতার ও কোমল হৃদয়ের অধিকারী যে, তিনি এবারের ঈদ কার্ডে একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশু শিল্পীর আঁকা ছবি যুক্ত করে সবাইকে ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

প্রতিবন্ধীরা সমাজের বোঝা নয়, সম্পদ। কিন্তু প্রতিবন্ধীরা সবসময়ই নানা বঞ্চনার মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করতো। তাদের পরিচর্যা, বিনোদন ও  শিক্ষা গ্রহণের বিষয়ে দীর্ঘদিন ছিল চরম অনাগ্রহ। ’৭৫ পরবর্তী সময়ের দীর্ঘ পথ-পরিক্রমায় প্রতিবন্ধীরা বহু বঞ্চনার শিকার হয়েছে। ছিল প্রশাসন যন্ত্রের চরম অবহেলা ও উদাসীনতাও। নানা বঞ্চনা, উদাসীনতা ও অনাগ্রহের জাল ছিন্ন করে প্রতিবন্ধীরা আজ সমাজের বোঝা নয়, সুদক্ষ সম্পদ। প্রতিবন্ধীদের এ অভূতপূর্ব সাফল্যের পেছনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর কন্যা সায়মা হোসেন ওয়াজেদ পুতুলের অক্লান্ত পরিশ্রম রয়েছে। অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার প্রতিবন্ধীদেরকে দক্ষ জনগোষ্ঠী হিসেবে গড়ে তুলতে তাঁরা নিরলস প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় অটিস্টিকদের সেবা ও পুনর্বাসনের জন্য আন্তরিক প্রয়াস চালাচ্ছে বাংলাদেশ। তিনি অটিজম বিষয়ক জাতীয় পরামর্শক কমিটির চেয়ারম্যান। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯৭ সালে মনোবিজ্ঞান বিষয়ে ¯œাতক ডিগ্রি, ২০০২ সালে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজির ওপর মাস্টার্স ডিগ্রি এবং ২০০৪ সালে স্কুল সাইকোলজির বিষয়ে তিনি বিশেষজ্ঞ ডিগ্রি লাভ করেন। ২০০৮ সাল থেকে শিশুদের অটিজম ও ¯œায়বিক জটিলতা সংক্রান্ত বিষয়ের ওপর কাজ শুরু করেন। মনোবিজ্ঞানী সায়মা ওয়াজেদ পুতুল শিশুদের অটিজম বিষয়ে কাজ করার মহতী উদ্যোগ নেয়ায় তাঁর খ্যাতি বিশ্বজুরে প্রসারিত হয়েছে। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাঁকে হু অ্যাক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত করে। ২০০৮ সালের পর থেকে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল অটিজম সমস্যার উন্নয়নে কাজ করার জন্য অনেকগুলো অ্যাওয়ার্ড পান। তাছাড়া অটিজম আন্দোলন ও বিশ্বস্বাস্থ্যে অবদান রাখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ব্যারি ইউনিভার্সিটি সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুলকে  ডিসটিংগুইসড অ্যালামনাই অ্যাওয়ার্ডস প্রদান করেন।

বাংলাদেশে প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে ব্যাপক কর্মকৌশল হাতে নেয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডেকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সেন্টার ফর নিউরোডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড অটিজম ইন চিলড্রেন সেন্টার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এডুকেশন অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগ এবং অটিস্টিকদের জন্য শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট চালু করা হয়েছে। কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী, শিক্ষক, প্রশিক্ষক, চিকিৎসক, সেবাদানকারীগণের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, মা-বাবার জন্য সেমিনারসহ বিভিন্ন ধরণের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি জেলায় প্রতিবন্ধীদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসহ ফিজিওথেরাপীও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

অটিজম শিশুর বেদনা ওই শিশু ও তার অভিভাবক ছাড়া অন্য কারো পক্ষে অনুভব করা সম্ভব নয়। সন্তানের এধরণের সমস্যা নিয়ে পিতা-মাতা দিনরাত চিন্তিত থাকেন। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সমাজের সর্বস্তরে অটিজম শিশুদের সুন্দর জীবন-যাপনের লক্ষ্যে জাতির জনকের চিন্তা ও আদর্শ বুকে ধারণ করে মানবতার কল্যাণে একজন সুযোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। জনদরদী মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তিনি প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে কাজ করার জন্য উৎসাহীত করেছেন এবং আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। শারীরিক ও মানসিক দিক দিয়ে সমস্যাগ্রস্ত শিশুদের কল্যাণে তাঁরা যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, বিশ্বদরবারে প্রশংসিত।

সরকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সুরক্ষা নিশ্চিতকল্পে ইতোমধ্যেই ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অধিকার ও সুরক্ষা আইন – ২০১৩’ প্রণয়ন করেছেন। যার যথাযথ বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিবন্ধীদের চিকিৎসা, শিক্ষা, কর্মসংস্থানসহ সমাজের মূলধারায় তাদের ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।

অটিস্টিক জনগোষ্ঠীকে বিশ্বের মূলধারার অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকা-ের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যে তাদেরকে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। এমন চিন্তা থেকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, সামাজিক সেবাসহ প্রতিটি খাতে অটিস্টিকদের অধিকতর অংশগ্রহণ নিশ্চিতের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। অটিজম আক্রান্ত শিশুরাও এই সমাজের অংশ এবং তাদেরও সমঅধিকার আছে – এ বিষয়টি আজ মানুষ গভীরভাবে উপলব্ধি করছে। আগে একটি পরিবারের কোন সদস্য প্রতিবন্ধী হলে ওই পরিবারের সদস্যদেরকে অপয়া ভাবা হতো এবং তাদেরকে সমাজের বোঝা হিসেবে চিহ্নিত করা হতো। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর কন্যা ও তাঁর নাতনীর মহতী উদ্যোগের ফলে প্রতিবন্ধীরা আজ অপয়া নয়। কারো বোঝাও নয়। প্রতিবন্ধীরা আজ দক্ষজনশক্তি। সমাজের উজ্জ্বল নক্ষত্র।

প্রতিবন্ধীদের জন্য এধরণের মহতী উদ্যোগ নেয়ায় আশা করি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুল একদিন নোবেল জয় করবেন – এটাই প্রত্যাশা।

লেখক: সভাপতি, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, কেন্দ্রীয় কমিটি এবং সহ-মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ।

অন্যরা য়া পড়ছে...

Loading...



চেক

বিকল্পের সন্ধানে কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপনে দেরি হচ্ছে : ওবায়দুল কাদের

ঢাকা, ১৩ মে ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে কোটা …

স্যাটেলাইট মহাকাশে ঘোরায় বিএনপির মাথাও ঘুরছে : মোহাম্মদ নাসিম

ফেনী, ১৩ মে ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণ হওয়ায় বিএনপির মাথাও ঘুরছে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

My title page contents