৩:৩৫ অপরাহ্ণ - শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর , ২০১৮
Breaking News
Download http://bigtheme.net/joomla Free Templates Joomla! 3
Home / অর্থনীতি / প্রতিষ্ঠান মালিকদের কাছ থেকে শ্রম ফান্ডের অর্থ আদায়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে : শ্রম প্রতিমন্ত্রী

প্রতিষ্ঠান মালিকদের কাছ থেকে শ্রম ফান্ডের অর্থ আদায়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে : শ্রম প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা, ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): আজ সিরডাপ মিলনায়তনে ‘শেয়ারিং ইভেন্ট অন উইম্যান ইন ফ্যাক্টরীজ ইনিশিয়েটিভ মডেল’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায়  শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু এমপি বলেছেন, গার্মেন্টস শ্রমিকসহ সব বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে বর্তমান সরকার তাদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে।

তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠান মালিকরা যদি লেবার ‘ল’ অনুযায়ী সঠিকভাবে তাদের লভ্যাংশের ৫% শ্রম মন্ত্রণালয়াধীন ফান্ডে জমা দেয়, সে অর্থ এবং শ্রমিকদের বেতন থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ কেটে নিয়ে এ প্রভিডেন্ট ফান্ড চালু করা হবে।

তিনি আরো বলেন, প্রতিষ্ঠান মালিকদের কাছ থেকে শ্রম ফান্ডের অর্থ আদায়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সিএ ফার্মগুলোর সাথে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, অডিটে তারা এ বিষয়টির উপর জোড় দেবেন।

শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০১২ সালে এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেয়ার পর দেখা যায় লেবার ‘ল’ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান মালিকগণ শ্রম ফান্ডে নির্দিষ্ট পরিমান অর্থ প্রদান করছেন না। তখন এ ফান্ডে ছিল মাত্র ৪৫ লাখ টাকা।

তিনি বলেন, এরপর প্রতিষ্ঠান মালিকদের চিঠি প্রদান করে লেবার ‘ল’ অনুযায়ী শ্রম ফা-ে অর্থ পরিশোধের আহবান জানালে অনেকেই তাতে সারা দেন। এতে বর্তমানে এ ফান্ডে ১৭২ কোটি টাকা জমা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সব প্রতিষ্ঠান যদি নিয়ম মাফিক এ অর্থ পরিশোধ করে এবং অডিট ফার্মগুলো যদি এ বিষয়ে কোন ধরণের কম্প্রমাইজ না করে, তাহলে প্রতিবছর লভ্যাংশের ৫% অনুযায়ী এ ফান্ডে হাজার কোটি টাকা জমা পরবে।

তিনি বলেন, তাই বেসকারী খাতের শ্রমিক কর্মচারীদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে ও তাদের জন্য প্রভিডেন্ট ফান্ড চালুর লক্ষ্যে শেখ হাসিনার সরকার এ ক্ষেত্রে কোন আপোষ করছে না।

প্রতিমন্ত্রী চুন্নু বলেন, কোন শ্রমিক যদি কর্মরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন, তাহলে তার পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে কর্মরত ব্যক্তির প্রতিষ্ঠান থেকে ২ লাখ টাকা এবং শ্রম ফান্ড থেকে ৩ লাখ টাকা অর্থাৎ মোট ৫ লাখ টাকা প্রদানের পরিকল্পনা সরকার গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে, কোন গার্মেন্টস শ্রমিক বা কর্মচারীর সন্তান পাবলিক কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করলে, তাকে এই শ্রম ফান্ড থেকে ৫০ হাজার টাকা, পাবলিক মেডিকেল কলেজ বা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করলে তাকে এককালীন ৩ লাখ টাকা প্রদান করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, গর্ভবতী কর্মীদের মাতৃত্বকালীন ছুটির সময় এ ফান্ড থেকে মাসে ২৫ হাজার টাকা করে এবং অসুস্থাবস্থায় সর্বোচ্চ এক লাখ প্রদানের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

তিনি কেয়ারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, গার্মেন্টস সেক্টরের উচ্চ পদগুলোতে দক্ষ শ্রমিকের বড় অভাব। এ কারণে বাংলাদেশে কর্মরত ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলংকার কর্মীরা ওইসব পদে চাকরী করে প্রতিবছর পৌনে ৫ বিলিয়ন ডলার বেতন বাবদ নিয়ে যাচ্ছে।

শ্রম প্রতিমন্ত্রী এ অর্থ দেশে রাখার লক্ষ্যে দেশীয় শ্রমিকদের ওইসব উচ্চ পদের জন্য দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য কেয়ারের প্রতি আহবান জানান। এ ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারও কাজ করছে বলে তিনি জানান।

দেশের সব গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীতে ট্রেড ইউনিয়ন চালুর জন্য আমেরিকান দূতাবাস চাপ দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত বার্ণিকাটকে জিজ্ঞেস করেছিলাম- আপনার দেশে মাত্র ৭ দশমিক ৩ ভাগ প্রতিষ্ঠানে ট্রেড ইউনিয়ন আছে, আর আমার দেশের সব প্রতিষ্ঠানে ট্রেড ইউনিয়ন চালুর জন্য চাপ দিচ্ছেন, এটা কি ঠিক হচ্ছে? তখন তিনি এর উত্তর দিতে পারেন নি বলেও প্রতিমন্ত্রী জানান।

চুন্নু বলেন, শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় বর্তমান সরকার লেবার ‘ল’ যুগোপযোগী করেছে। এ বছরই পূর্ণাঙ্গ শ্রমবিধি প্রণয়ন করেছে। তাই কোন ফ্যাক্টরীতে ৫০ জন শ্রমিক থাকলে ১ জন ডাক্তার বা ১০০ জন শ্রমিক থাকলে ২ জন ডাক্তার রাখা বাধ্যতামূলক করেছে। যদি কোন ফ্যাক্টরীতে ৩/৪শ’ জন শ্রমিক থাকে, তাহলে ওই ফ্যাক্টরী মালিকের ক্লিনিক থাকতে হবে। এমন নীতিও শ্রমবিধিতে আছে। যা মালিকদের মানতে হবে।

তিনি বলেন, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর বিদেশীরা শুধু আমাদের ফ্যাক্টরীর দোষত্রুটিই খুঁজে বেড়িয়েছে, তাই তাদের নিয়ে প্রায় ৩৯০০ ফ্যাক্টরী পরিদর্শন করেছি। এতে মাত্র ৪২টি ত্রুটিপূর্ণ পাওয়া গেছে, সেগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

চুন্নু বলেন, কানাডার রাষ্ট্রদূত আমাদের বেশ কয়েকটি ফ্যাক্টরী পরিদর্শন করেন, তিনি ওইসব ফ্রাক্টরীর কর্ম পরিবেশ দেখে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় সেসনে গার্মেন্টস সেক্টরের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে মুক্ত আলোচনা হয়।

কেয়ার, বাংলাদেশ এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছে। এতে আরো বক্তৃতা করেন ওয়ালমার্ট গ্লোবাল সোর্সিংয়ের পরিচালক মনিশ আসরানি ও কেয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জেমী টারজি।

অনুষ্ঠানে গার্মেন্টস শ্রমিকদের উপর কেয়ারের প্রশিক্ষণ কর্মশালার একটি ভিডিও চিত্র উপস্থাপন করা হয়। তাতে গার্মেন্টস শ্রমিকদের জীবন, কর্ম ও তাদের পরিবারের স্বপ্ন এবং শ্রমজীবী স্বামী-স্ত্রীর পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধবোধ, ভালবাসা ও কেয়ারিংয়ের নানা বিষয় উঠে এসেছে।

অন্যরা য়া পড়ছে...

Loading...



চেক

বিকল্পের সন্ধানে কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপনে দেরি হচ্ছে : ওবায়দুল কাদের

ঢাকা, ১৩ মে ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে কোটা …

স্যাটেলাইট মহাকাশে ঘোরায় বিএনপির মাথাও ঘুরছে : মোহাম্মদ নাসিম

ফেনী, ১৩ মে ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণ হওয়ায় বিএনপির মাথাও ঘুরছে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

My title page contents