৭:২৪ পূর্বাহ্ণ - শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর , ২০১৮
Breaking News
Download http://bigtheme.net/joomla Free Templates Joomla! 3
Home / রাজনীতি / আওয়ামী লীগ / বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর আবদুর রহিম আর নেই : রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিরোধী দলীয় নেতাসহ সকল মহলের শোক : দাফন আগামীকাল

বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর আবদুর রহিম আর নেই : রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিরোধী দলীয় নেতাসহ সকল মহলের শোক : দাফন আগামীকাল

ঢাকা, ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): আজ রোববার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে রাজধানীর ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর, স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও মুক্তিযুদ্ধকালিন মুজিব নগর সরকারের পশ্চিমাঞ্চলীয় জোনের চেয়ারম্যান, সাবেক সংসদ সদস্য এম আব্দুর রহিম বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি…রাজিউন)।

মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। তিনি স্ত্রী, ২ পুত্র, ৪ কন্যাসহ অনেক আত্মীয়-স্বজন গুনগ্রাহী ও শুভাকাঙ্খী রেখে গেছেন। তার বড় ছেলে এম এনায়েতুর রহিম বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের মাননীয় বিচারপতি এবং ছোট ছেলে বর্তমান জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ, ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া ও চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু তার মৃত্যুতে পৃথক বিবৃতিতে শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

মরহুমের প্রথম নামাজে জানাজা আজ রোববার বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়। মরুহুমের প্রতি রাষ্ট্রপতির পক্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন তার সামরিক সচিব। এপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পীকার ড. শিরীণ শারমিন চৌধুরী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষে সলের সভাপতি শেখ হাসিনা ও দলীয় নেতৃবৃন্দ, সংসদের চীফ হুইপ আসম ফিরোজ ও হুইপবৃন্দ ও বিরোধী দলীয় নেতার পক্ষে সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম মিলন মরহুমের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন।

আবদুর রহিম ছিলেন দেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির অন্যতম প্রধান সদস্য। স্বাধীনতার পর তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, সে সময় বঙ্গবন্ধু সভাপতি হিসেবে এই দলের দায়িত্ব পালন করেন।

দিনাজপুর থেকে সংবাদদাতা জানান, তিনি গত ৩ আগস্ট রাতে বার্ধক্যজনিক কারণে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন এন্ড রিসার্চ সেন্টার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার চিকিৎসা কালীন সময়ে কিছুটা উন্নতি হলে গত ৯ আগষ্ট বিকেল ৪টায় এয়ার এ্যাম্বুলেন্স যোগে দিনাজপুর থেকে ঢাকায় চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি গত ৯ আগস্ট থেকে আজ রোববার মৃত্যুর সময় পর্যন্ত ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

তাঁর ছোট পুত্র জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি জানান, ঢাকায় আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাঁর মরদেহ দিনাজপুর শহরের নিজ বাসভবন মুন্সিপাড়ায় নিয়ে আসা হবে। আগামীকাল সোমবার দিনাজপুর গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে তাঁর দ্বিতীয় নামাজে জানাজা সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাকে আগামীকাল সোমবার বাদ আছর দিনাজপুর সদর উপজেলার জালালপুর গ্রামের নিজ বাড়ীর পারিবারিক কবরস্থানে দাফনকার্য সম্পন্ন করা হবে। সোমবার সকাল ১০টায় দিনাজপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার বেদীতে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তাঁর মরদেহ রাখা হবে।

মরহুম এম. আব্দুর রহিম তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে একজন সৎ, নির্ভিক, সমাজসেবক ও প্রভাবশালী রাজনীতিবীদ হিসেবে ব্যাপক সুনাম ও খ্যাতি রয়েছে। তিনি পেশাগত জীবনে একজন আইনজীবী ছিলেন। আইন পেশাতেও তিনি ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছেন। তিনি দিনাজপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ছিলেন। তিনি দেশ, জাতি ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক হিসেবে পরিচিত। মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি স্বাধীনতার জন্য নিবেদিত প্রাণ হিসেবে কাজ করেছেন।

আব্দুর রহিম ১৯২৭ সালের ২১ নভেম্বর দিনাজপুর সদর উপজেলার ৮নং শংকরপুর ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামের এক বুনিয়াদি মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্রাবস্থায় রাজশাহী কলেজে ভাষা আন্দোলনের কর্মসূচীতে সংযুক্ত ছিলেন। মুসলিমলীগ সরকারের হক-ভাসানী-সোহরাওয়ার্দীর যুক্তফ্রন্টের একজন কর্মি হিসেবে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনি প্রচারাভিযানে অংশ নেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ঐতিহাসিক আগরতলা মামলার তিনি লিগ্যাল এইড কমিটির একজন সদস্য ছিলেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ১৯৭০ সালে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে ১৯৭১ এর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বৃহত্তর দিনাজপুর আঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠন হলে সারা দেশকে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য যে ১১টি বেসামরিক জোনে ভাগ করা হয়। আব্দুর রহিম ছিলেন পশ্চিম জোনের জোনাল চেয়ারম্যান। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি ১৯৭১ সালের ১৮ ডিসেম্বর দিনাজপুর গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন।

১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান প্রনয়নের জন্য গঠিত কমিটির ৩৪ জন সদস্যের মধ্যে তিনি একজন সদস্য ছিলেন। তিনি ১৯৯১ সালে দিনাজপুর সদর আসন থেকে পুনরায় জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি দীর্ঘদিন দিনাজপুর জেলা আওয়ামীলীগ ও দিনাজপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

তাঁর মৃত্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও দিনাজপুর ২ আসনের সাংসদ খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান এমপি, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক আজিজুল ইমাম চৌধুরী, দিনাজপুর ১ আসনের সাংসদ মনোরঞ্জনশীল গোপাল, দিনাজপুর ৬ আসনের সাংসদ শিবলী সাদিক এবং দিনাজপুর শহর আওয়ামী লীগ, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ, অঙ্গসংগঠন, দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি, দিনাজপুর প্রেসক্লাব, দিনাজপুর মোটরপরিবহন মালিক সমিতি, দিনাজপুর মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন, দিনাজপুর জেলা আইনজীবী সমিতিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করা হয়েছে।

অন্যরা য়া পড়ছে...

Loading...



চেক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওমরাহ পালন

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার রাতে এখানে পবিত্র …

জনগণ ছেড়ে বিদেশিদের কাছে কেন : ঐক্যফ্রন্টকে ওবায়দুল কাদের

গাজীপুর, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): শুক্রবার বিকেলে গাজীপুরের চন্দ্রায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক চার লেনে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

My title page contents