৭:১৯ পূর্বাহ্ণ - বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর , ২০১৮
Breaking News
Download http://bigtheme.net/joomla Free Templates Joomla! 3
Home / জরুরী সংবাদ / সিটিসেলের ৭ লাখ গ্রাহকের কী হবে?

সিটিসেলের ৭ লাখ গ্রাহকের কী হবে?

citycell    31.7.16
টেকনোলজী ডেস্ক, ০১ আগষ্ট, ২০১৬ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা আহমেদুল হক ২০০৭ সাল থেকে টেলিকম অপারেটর সিটিসেলের প্রি-পেইড সংযোগ ব্যবহার করছেন। তাঁর এই মোবাইল নম্বরে সহকর্মী, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবরা যোগাযোগ করছেন। কিন্তু সিটিসেল বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবরে তাঁর ভেতরে নানা শঙ্কা বাসা বেধেছে। এই প্রতিবেদকের কাছ ক্ষোভ প্রকাশ করে আহমেদুল বলেন, এতো মানুষের কাছে আমার এই নম্বর এবং তারা এতদিন এই নম্বরে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে আসছিলেন।নম্বরটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর শুনেই মনটা খারাপ হয়ে গেল ভাই। এতে আমার সঙ্গে যারা এই নম্বরে যোগাযোগ রাখছিল তারা মহাবিড়ম্বনায় পড়বেন।

অন্যদিকে সিটিসেলের মডেম ব্যবহার করে ইন্টারনেটে সংযুক্ত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মনির। তিনি জানান, সিটিসেল যদি বন্ধ হয়ে যায় তবে তাকে নতুন করে অন্য মডেম কিনতে হবে। এতে করে তাঁকে বাড়তি খরচ করতে হবে।

আহমেদুল হক ও মনিরের মত সিটিসেলের সিম ও মডেম ব্যবহারকারী ৭ লাখ গ্রাহক শঙ্কায় রয়েছেন। সিটিসেল বন্ধ করতে গ্রাহকদের সতকর্তামূলক বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (বিটিআরসি)। এতে কোম্পানিটির সাত লাখ গ্রহক আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রহস্ত হবে।

গ্রাহকদের প্রশ্ন, সরকারি হস্তক্ষেপে সিটিসেল যদি বন্ধ করাই হয় তবে গ্রাহকদের কী হবে? গ্রাহকদের দিকে তাকানোর মতো কি কেউ নেই?

প্রথম থেকেই সিটিসেল দেশে কোড ডিভিশন মাল্টিপল অ্যাকসেস(সিডিএমএ) পদ্ধতিতে সেবা দিয়ে আসছে। দেশের আর কোনো অপারেটর এই পদ্ধতিতে নেটওয়ার্ক পরিষেবা দিচ্ছে না। অন্য অপারেটরগুলো গ্লোবাল সিস্টেম ফর মোবাইল কমিউনিকেশন (জিএসএম) পদ্ধতিতে নেটওয়ার্ক পরিষেবা দিয়ে আসছে। এই পদ্ধতিতে বড় সুবিধা হলো মোবাইল অপারেটর বদল করলেও হ্যান্ডসেট বদলাতে হয় না। কিন্তু সিটিসেলের হ্যান্ডসেটে এই ‍সুবিধা নেই।

ফলে সিটিসেল বন্ধ হলে অপারেটরটির সংযোগ ব্যবহারকারীদের হ্যান্ডসেটটি জিএসএম অপারেটরদের সংযোগ ব্যবহারের সুযোগ না থাকায় হ্যান্ডসেটটি অকার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। এতে করে গ্রাহকরা লোকসানের মুখে পড়বেন।

ইসিটিসেল গ্রাহকদের বড় একটি অংশ ইন্টারনেট ব্যবহারে কোম্পানিটির মডেম ব্যবহার করে। সিডিএমএ মডেমেও অন্য কোনো অপরেটরের সিম ব্যবহার করা যায় না।

সিটিসেল ওয়েবসাইটে দেখা যায়, সিটিসেলে ইন্টারনেট প্যাকেজ জুম আল্ট্রা। টিআনজিয়ানই ৬১৮ মডেমসহ প্রিপেইড লাইন চার্জ এক হাজার ৬৯০ টাকা। পোস্ট পেইড লাইন চার্জ দুই হাজার ১৯০ টাকা। পকেট রাউটার হুয়াওয়ে ইসি ৫৩২১ প্রিপেইড লাইন চার্জ পাঁচ হাজার ৪৯৯ টাকা। পোস্ট পেইড লাইন চার্জ পাঁচ হাজার ৯৯৯ টাকা। সিটিসেলের মোবাইল জেডটিই এস-১৮৩ মডেলের একটি হ্যান্ডসেটের দাম ২০০০ টাকা। যারা এসব সংযোগসহ এসব প্যাকেজ ব্যবহার করছেন তাদের অন্য অপারেটরের সিমসহ হ্যান্ডসেট নতুন করে কিনতে হবে। এতে করে গ্রাহকরা বাড়তি খরচের মুখে পড়বে।

বিটিআরসির জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন খান বলেন, সিটিসেলকে বারবার নোটিশ করার পরও তারা বকেয়া পরিশোধ না করায় কোম্পানিটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হচ্ছে বিটিআরসি। গ্রাহকদেরকে এজন্য সতর্ক করার জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। যাতে তারা কোম্পানিটির টাকা ও ইন্টারনেট ব্যবহার সম্পূর্ণ করে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,সিটিসেলের ৭ লাখ গ্রাহকের ক্ষতিপূরণের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

গ্রাহকদের উদ্দেশে বিটিআরসির দেয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাজস্ব বকেয়া পরিশোধে গড়িমসি করায় যেকোনো সময় সিটিসেলের লাইসেন্স ও তরঙ্গ বাতিল এবং অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ করে অপারেটরটির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে সরকার। একাধিকবার নোটিশ ও তাগাদা দেয়ার পরও প্রতিষ্ঠানটি ওই বকেয়া অর্থ পরিশোধ করেনি।

বিটিআরসি সূত্র বলছে, সিটিসেলের কাছে বিটিআরসির পাওনা ৪৭৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা।  সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, সিটিসেলের গ্রাহক সংখ্যা গত জুনে ছিল প্রায় সাত লাখ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১২ সালে ৮ দশমিক ৮২ মেগাহার্টজ তরঙ্গ নবায়ন করলেও লাইসেন্স শর্ত অনুযায়ী তরঙ্গ নবায়ন ফির দ্বিতীয় এবং তৃতীয় কিস্তি এখনো পরিশোধ করেনি সিটিসেল। এ খাতে ২২৯ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে বিটিআরসির, বার্ষিক লাইসেন্স ফি বাবদ পাওনা ১০ কোটি টাকা। এছাড়া  বার্ষিক তরঙ্গ ফি ( ২০১৩ থেকে ২০১৬) ২৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা, রেভিনিউ শেয়ারিং ( ২০১৪ থেকে ২০১৬) ২৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকা, সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল ( ২০১১ থেকে ২০১৬) ৮ কোটি ৯২ কোটি টাকা এবং প্রযোজ্য ভ্যাট বাবদ ৩৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা ও বিলম্ব ফি ১৩৫ কোটি টাকা মিলে সর্বমোট ৪৭৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা পাওনা বিটিআরসির।

১৯৮৯ সালে বাংলাদেশের প্রথম মুঠোফোন অপারেটর হিসেবে টেলিযোগাযোগ সেবার লাইসেন্স পায় সিটিসেল। তবে প্রতিষ্ঠানটি সেবা দিতে শুরু করে ১৯৯৩ সাল থেকে। যাত্রার সময় এটি ছিল দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম মুঠোফোন অপারেটর। প্রথম থেকেই সিটিসেল বাংলাদেশের একমাত্র সিডিএমএ (কোড ডিভিশন মাল্টিপল অ্যাকসেস) মোবাইল অপারেটর হিসেবে সেবা দিয়ে যাচ্ছে।গত কয়েক বছর ধরেই ক্রমাগত লোকসান গুনছে সিটিসেল। বর্তমানে এই কোম্পানির ৩৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক বিএনপি নেতা ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খান মালিকানাধীন প্যাসিফিক মোটরস। সিটিসেলের সবেচেয়ে বেশি ৪৫ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা রয়েছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক সিংটেল এশিয়া প্যাসেফিক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের হাতে। এছাড়া ফার ইস্ট টেলিকম লিমিটেড ১৭ দশমিক ৫১ শতাংশ শেয়ারের মালিক। সৌজন্যে ঢাকাটাইমস

অন্যরা য়া পড়ছে...

Loading...



চেক

বিকল্পের সন্ধানে কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপনে দেরি হচ্ছে : ওবায়দুল কাদের

ঢাকা, ১৩ মে ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে কোটা …

স্যাটেলাইট মহাকাশে ঘোরায় বিএনপির মাথাও ঘুরছে : মোহাম্মদ নাসিম

ফেনী, ১৩ মে ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণ হওয়ায় বিএনপির মাথাও ঘুরছে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

My title page contents