৪:২৫ পূর্বাহ্ণ - মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর , ২০১৮
Breaking News
Download http://bigtheme.net/joomla Free Templates Joomla! 3
Home / জরুরী সংবাদ / উপমহাদেশের বৃহত্তম ঈদ জামাতের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান

উপমহাদেশের বৃহত্তম ঈদ জামাতের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান

solakia1   01.07.16কিশোরগঞ্জ, ১ জুলাই, ২০১৬ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): উপমহাদেশের বৃহত্তম ঈদ জামাতের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান। সুষ্ঠুভাবে ঈদ জামাত আয়োজনের জন্য ঈদগাহ মাঠ পরিচালনা কমিটির গ্রহণ করা মাঠ প্রস্তুতকরণের কাজ এগিয়ে চলেছে পুরোদমে। জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে পৌরসভা, জনস্বাস্থ্য, গণপূর্ত, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডসহ (পিডিবি) অন্যান্য বিভাগের প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ পর্যায়ে। ইতোমধ্যে মাঠ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নকরণ, পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও রঙের প্রলেপ দেওয়ার কাজও অনেকটা শেষের দিকে।

solakia2    01.07.16সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ঈদগাহ ময়দানজুড়ে মাঠ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নকরণ ও ধোয়া-মোছার কাজ পুরোদমে চলছে। মাঠে পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়নসহ মুসল্লিদের নামাজ পড়ার উপযোগী করে তোলার জন্য সব প্রস্তুতি চলছে। অনেক মানুষ একসঙ্গে কাজ করছেন।

জেলা প্রশাসক জানান, এবারের ১৮৯তম ঈদুল ফিতরের জামাতের ইমামতি করবেন মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ। দূর-দূরান্ত থেকে আসা মুসল্লিদের সুবিধার্থে বাংলাদেশ রেলওয়ে বরাবরের মতো এবারও ঈদ-উল-ফিতরের দিন ‘শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল’ নামে দুটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করেছে। অন্যান্যবারের তুলনায় এবারও ঢাকা, নরসিংদী, গাজীপুর, সিলেট, হবিগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, নেত্রকোনা, জামালপুর, শেরপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলমান বৃহত্তম এই ঈদ জামাতে শামিল হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, লাখ লাখ মানুষের নিরাপত্তা দিতে জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে শোলাকিয়া ঈদগাহ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ঈদ জামাতের চূড়ান্তু প্রস্তুতির ব্যাপারে আলোচনা করা হয়। সভায় ঐতিহাসিক শোলাকিয়া মাঠের সার্বিক নিরাপত্তা, উন্নয়ন, মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধা, ওজুর সুব্যবস্থা, খাবার পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, মেডিকেল টিম স্থাপন ও মাঠে নামাজের জন্য মাইকের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেয়া হয় জেলার বিভিন্ন সরকারি বিভাগগুলোকে।

এর মধ্যে জেলা পুলিশ প্রশাসন, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ, কিশোরগঞ্জ পৌরসভা, স্থানীয় সরকার বিভাগ, জনস্বাস্থ্য, ফায়ার সার্ভিস, জেলা স্কাউট ও জেলা তথ্য বিভাগকে বিশেষ দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের ইতিহাস

কিশোরগঞ্জ শহরের পূর্ব প্রান্তেুর বিস্তীর্ণ এলাকার নাম শোলাকিয়া। শোলাকিয়া মাঠ এলাকার পূর্ব নাম ছিল ইচ্ছাগঞ্জ। শোলাকিয়া সাহেব বাড়ির পূর্ব পুরুষ শাহ সুফি মরহুম সৈয়দ আহম্মেদ ১৮২৭ খ্রিস্টাব্দের শুরুতে এই স্থানে সর্বপ্রথম একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। পরে ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দের শেষ দিকে শোলাকিয়া মাঠের গোড়াপত্তন করেন।

পরবর্তীতে হয়বতনগরের শেষ জমিদার দেওয়ান মো. মান্নান দাদ খান ১৯৫০ সালে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহের নামে ২ একর ৩৫ শতক জমি দান করেন। দলিল অনুযায়ী ওই সময়ের ২শ বছর আগে থেকেই এ ঈদগাহে দুটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল। সৈয়দ আহাম্মদ সাহেবের পর উত্তরাধিকারসূত্রে হয়বতনগর জমিদার বাড়ির তৎকালীন জমিদার সৈয়দ মো. আবদুল্লাহ ১৮২৯ সাল থেকে ১৯২১ সাল পর্যন্তু শোলাকিয়া মাঠের ইমাম ছাড়াও ঈদগাহের সর্বপ্রথম মোতাওয়াল্লি ছিলেন। এরপর থেকে পর্যায়ক্রমে হয়বতনগর জমিদার পরিবার থেকে মোতাওয়াল্লি ও তাদের সিদ্ধান্ত মতে ইমাম নিযুক্ত করা হয়। বর্তমান মোতাওয়াল্লি এই জমিদার পরিবারের সদস্য দেওয়ান ফাত্তাহ দাদ খান মঈন।

শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের আয়তন

বর্তমানে খাস জমি নিয়ে প্রায় ৭ একর জমি রয়েছে শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে। ঈদগাহের চারপাশে প্রাচীর ঘেরা মাঠে মোট ২৬৫টি কাতার রয়েছে। প্রতিটি কাতারে প্রায় ৪শ মানুষ নামাজ আদায় করতে পারবেন। সে হিসাবে মাঠের ভেতরে প্রায় সোয়া লাখ মানুষ নামাজ আদায় করতে পারে। তবে মাঠের আশপাশের রাস্তা ও বাড়িঘরসহ প্রায় দুই লক্ষাধিক মুসল্লির বেশি নামাজ আদায় করে থাকেন।

শোলাকিয়া নামকরণের ইতিহাস

কিশোরগজ্ঞের ঐতিহাসিক ঈদগাহের সৃষ্টির ইতিহাস সম্পর্কে অনেক জনশ্রুতি প্রচলিত রয়েছে।

একটি জনশ্রুতিতে জানা গেছে, বহুকাল আগে একবার এ মাঠে ঈদের জামাতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় সোয়া লাখ। এই সোয়া লাখ থেকেই উচ্চারণ বিবর্তনে বর্তমান শোলাকিয়ার নামকরণ হয়েছে।

অন্য জনশ্রুতিতে জানা গেছে, আজকের মৃতপ্রায় নরসুন্দা নদীটি এককালে ছিল সুগভীর আর বেগবতী। নদীটিতে নিয়মিত বড় বড় নৌযান চলাচল করতো এবং মোঘল শাসনামলে বন্দরটি এই অঞ্চলের বিখ্যাত নৌবন্দর হিসেবে খ্যাত ছিল। একবার বন্দরটিতে সন্নাসীদের ১৬টি লবণ বোঝাই নৌযান এসে নোঙ্গর করেছিল। এর ফলে উক্ত লবণ বোঝাই নৌযান থেকে বন্দর কর্তৃপক্ষ যে শুল্ক আদায় করেছিল, সে থেকে উক্ত এলাকাটি উচ্চারণ বিবর্তনে ক্রমান্বয়ে শুল্ক থেকে শোলাকিয়া নাম প্রচলিত হয়েছিল।

তৃতীয় জনশ্রুতিতে রয়েছে, ইস্ট ইন্ডিয়ান কোম্পানির আমলে সেখানে নরসুন্দর নদীবন্দর ছিল, তার পাশেই ছিল ফরাসি বনিকের লবণ ও শুকনা মাছের আড়ত। সে আড়তের জন্য বাইরে থেকে যে লবণ আমদানি ও শুকনা মাছ রপ্তানি করা হতো, তার জন্য কোম্পানিকে বিশেষ শুল্ক দিতে হতো। এর ফলে এ শুল্ক আদায়ে ঘাট থেকে এলাকাটি উচ্চারণ বিকৃতি করে ক্রমান্বয়ে শোলাকিয়া নামে পরিচিত হয়ে উঠে।

চতুর্থ জনশ্রুতি রয়েছে, মোঘল আমলে স্থানীয় এলাকাটিতে পরগনার রাজস্ব আদায়ের একটি অফিস ছিল। সে অফিসের অধীনে পরগনার রাজস্ব ছিল সোয়া লাখ টাকা। সোয়া লাখ টাকার রাজস্ব আদায়ের অফিসের উচচারণ বিবর্তনে এলাকাটির নাম রয়েছে শোলাকিয়া।

মুসাফির খানা

জানা গেছে, বৃটিশ, পাকিস্তুান ও বর্তমান বাংলাদেশ আমলের গোড়ার দিকেও এ দেশের প্রত্যন্ত জেলাসমূহ ছাড়াও সুদুর ভারতের বিভিন্ন রাজ্য আসাম, পাকিস্তান, ভূটান, ইরান, নেপাল, সৌদিআরবসহ বিভিন্ন দেশ থেকে মুসলমানগণ শোলাকিয়া ঈদগাহে ঈদের জামাতে শরিক হতো। সে সময়ে এ ঈদগাহে মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের সুবিধার্থে ভৈরব-টু-কিশোরগঞ্জ এবং ময়মনসিংহ-টু-কিশোরগঞ্জ রেলপথে দুটি বিশেষ ট্রেন চালু ছিল। হয়বতনগর হাবিলীতে ঈদের জামাত হিসেবে অতিথিদের জন্য মুসাফির খানা নামে একটি বড় আকারের ঘরও ছিল। ঈদের নামাজের ২/৩ আগে থেকেই দলে দলে মুসল্লিরা এসে হয়বতনগর হাবিলিসহ ঈদগাহ ও এর আশপাশ এলাকায় অবস্থান নিত। এখন অবশ্য তেমন দেখা যায় না। তবে শহরের বর্তমান হারূয়া এলাকায় ছোট আকারের বেশ কয়েকটি মুসাফির খানা এখনও বিদ্যমান রয়েছে।

শোলাকিয়ায় আসবেন যেভাবে

ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহে আসতে হলে সরাসরি এগারসিন্দুর আন্তঃনগর (প্রভাতী) ট্রেনে ঢাকার কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে সকাল ৮.২০ মিনিটে আসতে হবে। সন্ধ্যা ৬.১০ মিনিটে এগারসিন্দুর আন্তঃনগর (গোধূলী) ট্রেন ছেড়ে যায় কিশোরগঞ্জের দিকে।

ট্রেনটিতে প্রথম শ্রেণীর ১৫০ টাকা, শোভন ১২০ এবং সুলভ ৮০ টাকা ভাড়া। তাছাড়া সায়েদাবাদ, গোলাপবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে কিশোরগঞ্জের দিকে বিভিন্ন গেটলক, মেইল ও সিটিং সার্ভিস বাস চলাচল করে। ভাড়া ২০০ টাকা। ময়মনসিংহ থেকে ট্রেন ও বাসযোগে কিশোরগঞ্জ আসা যাবে। কিশোরগঞ্জ শহরে এসে রিকশায় শোলাকিয়া মাঠে যেতে হবে।

শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল ট্রেন

ঈদুল ফিতরের দিন শোলাকিয়ায় ঈদের জামাতে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে দুটি স্পেশাল ট্রেন চলাচল করবে। ভৈরব-কিশোরগঞ্জ (স্পেশাল) ভৈরব থেকে ছেড়ে আসবে সকাল ৬টায়, কিশোরগঞ্জ পৌঁছবে সকাল ৮টায়। কিশোরগঞ্জ-ভৈরব (স্পেশাল) কিশোরগঞ্জ থেকে ছেড়ে যাবে দুপুর ১২টায়, ভৈরব পৌঁছবে বেলা ২টায়। এছাড়া ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ (স্পেশাল) ময়মনসিংহ থেকে ছেড়ে আসবে সকাল ৫.৪৫ মিনিটে, কিশোরগঞ্জ পৌছবে সকাল ৮.৩০ মিনিট। কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ (স্পেশাল) কিশোরগঞ্জ থেকে ছেড়ে যাবে দুপুর ১২টায় ময়মনসিংহে পৌঁছবে বিকাল ৩টায়।

অন্যরা য়া পড়ছে...

Loading...



চেক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওমরাহ পালন

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার রাতে এখানে পবিত্র …

জনগণ ছেড়ে বিদেশিদের কাছে কেন : ঐক্যফ্রন্টকে ওবায়দুল কাদের

গাজীপুর, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): শুক্রবার বিকেলে গাজীপুরের চন্দ্রায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক চার লেনে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

My title page contents