৯:০৯ পূর্বাহ্ণ - শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর , ২০১৮
Breaking News
Download http://bigtheme.net/joomla Free Templates Joomla! 3
Home / জরুরী সংবাদ / পদ্মা সেতুর রেলে টাকা হাতিয়ে নিতে শুরু হয়েছে মহোৎসব

পদ্মা সেতুর রেলে টাকা হাতিয়ে নিতে শুরু হয়েছে মহোৎসব

padma  rall taka2    22.6.16মাদারীপুর, ২২ জুন, ২০১৬ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): জেলার শিবচরে পদ্মা সেতুর রেল প্রকল্প থেকে কোটি কোটি হাতিয়ে নিতে শুরু হয়েছে মহোৎসব। প্রকল্পের জামিতে রাতারাতি নির্মাণ করা হচ্ছে স্থাপনা। সেই সঙ্গে তৈরি করা হচ্ছে ঘরবাড়ি। জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াকে সামনে রেখেই অসাধু ব্যক্তিরা তৎপর হয়ে উঠেছে এসব কর্মকাণ্ডে।

অভিযোগ উঠেছে, পদ্মা সেতু ও রেল প্রকল্প সংশ্লিষ্ট অসাধু কর্মকর্তাদের পরামর্শে স্থানীয় প্রভাবশালীরা সরকারের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিতে এ ধরনের চতুরতার আশ্রয় নিচ্ছে।

সূত্রমতে, পদ্মা সেতুর রেল প্রকল্পের আওতায় শিবচর উপজেলার কাদিরপুর ইউনিয়নের বড় কেশবপুর মৌজায় ইতোমধ্যে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। তবে এসব জমির মালিকরা নানা অনিয়ম ও চতুরতার আশ্রয় নিয়ে অধিগ্রহণ করা জমিতে রাতারাতি নতুন-নতুন ঘরবাড়ি তৈরি করছে। সেই সঙ্গে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারের কোটি-কোটি টাকা হাতিয়ে নিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এসব জালিয়াতি করা হচ্ছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালী মহলের ছত্র-ছায়ায়।

padma  rall taka3    22.6.16প্রকল্প এলাকায় হাজারো টাকা ব্যয় করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার এ মহোৎসব চললেও প্রশাসন ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দাবি করছেন, এসব জালিয়াতি করার কোনো সুযোগ নেই। ভিডিও চিত্র দেখেই ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। প্রাপ্য অনুযায়ী জমির মালিকরা ক্ষতিপূরণ পাবে। অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন এসব কর্মকর্তা।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রমতে, চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি রেল লাইনের ভূমি অধিগ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে শিবচর উপজেলার বিভিন্ন মৌজার ২১৩ দশমিক ২৮১৫ একর জমি অধিগ্রহণের জন্য নির্ধারণ করা হয়। অধিগ্রহণে ৩ ধারার নোটিশ ও দেয়া হয় সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে। পরবর্তীতে যৌথ তদন্ত শেষ করা হয়েছে। বর্তমানে ৬ ধারা চলমান রয়েছে।

padma  rall taka    22.6.16সরেজমিনে দেখা গেছে, শিবচর উপজেলার উপর দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের পদ্মা সেতু সংযোগ প্রকল্পে রেলপথ নির্মাণের জন্য ভুমি অধিগ্রহণ কাজ শুরু করেছে কর্র্তৃপক্ষ। প্রাথমিক কাজ শুরুর পর থেকেই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রভাবশালী নেতা ও প্রশাসনের অসাধু ছোট-বড় কর্মকর্তাদের যোগ-সাজসে অধিগ্রহণের জন্য নির্ধারিত জমির শ্রেণি পরিবর্তন ও নতুন ঘর-বাড়ি তৈরি করে সরকারের কোটি-কোটি টাকা হাতিয়ে নিতে তৎপরতা শুরু হয়েছে।

প্রায় প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন ঘর-বাড়ি, লাগানো হচ্ছে গাছের চারা। ৫ লাখ টাকা ব্যয় করে ৫০ লাখ টাকা পাওয়ার আশায় চক্রটি অত্যন্ত তৎপর রয়েছে। গেল তিন মাসে সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রায় ২ শতাধিক নতুন ঘর-বাড়ি তৈরি করা হয়েছে। যার সম্ভাব্য মূল্য ১০ কোটি টাকা। অথচ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ২০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবির প্রস্তাবনা দাখিল করার পায়তারা চলছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রকল্প এলাকায় গত দুইমাস আগেও যেখানে ছিল ফসলি জমি, সেখানে এখন নির্মাণ করা হয়েছে ইট-পাথরের বাড়ি। কোথাও টিনশেড ঘরও। ফসলি জমি খনন করে কোনো রকম পুকুরের মতো করে দেখানো মাছ চাষ। টাঙিয়ে দেয়া হয়েছে রংচঙে ‘মৎস খামার’ লেখা সাইনবোর্ড। অথচ মাছের খামারে নেই কোনো প্রজাতির মাছ। এমনি কি কোথাও পুকুরে পানিও নেই। আবার কোথাও নতুন ঘর তৈরি করে মুরগির খামারের সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে দিলেও খামারে নেই কোনো প্রজাতির মুরগি।

শিবচর উপজেলার কাদিরপুর ইউনিয়নের ৯৫ নং বড়কেশবপুর মৌজার মৃত রশিদ মাতুব্বরের ছেলে সেলিম মাতুব্বর একটি টিনশেড ঘর তুলেছে। মাস কয়েক আগেও এখানে ছিল ফসলি জমি। একই মৌজার মৃত করিম বেপারীর ছেলে নুর ইসলাম বেপারী ২টি টিনশেড ঘর তুলেছেন। পাশে একটি মাছের খামারও তৈরি করেছেন। অথচ পুকুরে নেই পানি। খামারে নেই মাছ। পাশে ঝুলে আছে মাছের খামারের সাইনবোর্ড।

এছাড়াও একই মৌজার আব্দুল হক বেপারী ৩টি ঘর তুলেছেন। নান্নু মোল্যা ৩টি, ইব্রাহিম মোল্যা ৫টি, আলি মোড়ল ৫টি, আক্তার শিকদার ৪টি টিনশেড ঘর তুলেছেন। সাথে আমের বাগান করেছেন। পাশেই মাছের খামার করেছেন। শিকদারকান্দি চররঘুনাথপুর এলাকার শাহজাহান মিয়া ৪টি টিনসেড ঘর তৈরি করেছেন।

এভাবেই বিভিন্ন এলাকায় মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কিছু অসাধু সার্ভেয়ার ও কর্মকর্তাদের যোগসাজসে প্রায় প্রতিদিনই নতুন নতুন ঘর-বাড়ি তৈরির কাজ চলছে রেল প্রকল্প এলাকায়।

অভিযোগে জানা গেছে, পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ প্রকল্পে অধিগ্রহণ করার নির্ধারিত ফসলি ও জলাবদ্ধ পতিত জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে ভিটা, আবার কাঁচা বাড়ি-ঘরকে পাকা বাড়ি-ঘরে কিংবা টিনশেড বিল্ডিংকে পাঁচতলা ফাউন্ডেশন তৈরি করে দেখানো হয়েছে। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকা লোপাট যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আর এতে লাভবান হবে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রভাবশালীমহল, জমি এবং ঘর-বাড়ির সুবিধাবাদী মালিক।

মাদারীপুর জেলা প্রশাসক মো. কামাল উদ্দিন বিশ্বাস বলেন, ‘৩ ধারা নোটিশের পর ৪০ তলা বিল্ডিংও যদি কেউ করে তাহলে তার ক্ষতিপূরণ পাবে না। ৩ ধারা নোটিশের আগে আমরা ভিডিও করে রেখেছি। ওই ভিডিও অনুযায়ীই ক্ষতি পূরণ দেয়া হবে। এখানে অসৎ পন্থা অবলম্বনের কোনো সুযোগ নেই।’ সৌজন্যে বাংলামেইল

অন্যরা য়া পড়ছে...

Loading...



চেক

বিকল্পের সন্ধানে কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপনে দেরি হচ্ছে : ওবায়দুল কাদের

ঢাকা, ১৩ মে ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে কোটা …

স্যাটেলাইট মহাকাশে ঘোরায় বিএনপির মাথাও ঘুরছে : মোহাম্মদ নাসিম

ফেনী, ১৩ মে ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণ হওয়ায় বিএনপির মাথাও ঘুরছে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

My title page contents