৪:৫৫ পূর্বাহ্ণ - বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর , ২০১৮
Breaking News
Download http://bigtheme.net/joomla Free Templates Joomla! 3
Home / জরুরী সংবাদ / ক্রসফায়ারে ফাহিমের মৃত্যু, অনেক প্রশ্ন

ক্রসফায়ারে ফাহিমের মৃত্যু, অনেক প্রশ্ন

fahim2      18.6.16ঢাকা, ১৮ জুন, ২০১৬ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): গুপ্তহত্যায় জড়িতরা যখন ধরাছোঁয়ার বাইরে, তাদের আটক তো দূরের কথা শনাক্ত করতেই পুলিশ হিমশিম খাচ্ছে, তখন মাদারীপুরে শিক্ষক রিপন চক্রবর্তীর ওপর হামলার ঘটনায় হাতেনাতে আটক হন ফয়জুল্লাহ ফাহিম। আশা করা হচ্ছিল, এবার ‘টার্গেট কিলিং’য়ের হোতাদের একটা সূত্র পাওয়া যেতে পারে ফাহিমের মাধ্যমে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফাহিমকে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতে (রিমান্ড) নিয়েছিল পুলিশ। কিন্তু পুলিশি হেফাজতের প্রথম দিনেই ‘ক্রসফায়ারে’ মারা গেলেন ফাহিম।

এ ঘটনায় মূলত গুপ্তহত্যার সূত্র উদ্ধারের আশার মৃত্যু হলো। একই সঙ্গে জন্ম দিয়েছে নানা প্রশ্নের।

রিমান্ডের আসামিকে নিয়ে কেন পুলিশ রাতে বের হয়েছে, সে প্রশ্ন তুলছেন মানবাধিকারকর্মী, রাজনীতিবিদ, নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, ফাহিমের কাছ থেকে জঙ্গিদের সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু তার ‘ক্রসফায়ার’-এ কী লাভ হলো?

এরই মধ্যে বিএনপি প্রশ্ন তুলেছে, ফাহিমকে হত্যা করে বড় কোনো ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে।

গত দুই বছরে পরিকল্পিত হামলায় হত্যা করা হয়েছে ৫০ জনের বেশি মানুষকে। শুরুর দিকে ব্লগার, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট বা গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরা আক্রান্ত হলেও পরে রাজনৈতিক কর্মী, লেখক, প্রকাশক, মানবাধিকার কর্মী, শিক্ষক এমনকি ভিন্ন মতাবলম্বী ধর্মীয় নেতা এবং সর্বশেষ সংখ্যালঘু ধর্মীয় গুরু বা সেবায়েতরা খুনিদের লক্ষ্যবস্তু হন।

এগুলোর বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই খুনিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে। কিছু ঘটনায় পুলিশ তদন্তে অগ্রগতির দাবি করলেও মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারছে না। এই অবস্থায় গত বুধবার মাদারীপুরের নাজিমউদ্দিন সরকারি কলেজের প্রভাষক রিপন চক্রবর্তীকে হত্যা চেষ্টার পরপর এলাকাবাসী ধাওয়া করে ধরে ফেলে ফাহিমকে।

শুক্রবার রিমান্ডে নেয়ার আগেও ফাহিমকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। তাকে নিয়ে ঢাকায় অভিযানও চালানো হয়েছে। পরে আবার মাদারীপুর ফিরিয়ে নিয়ে আদালতে তোলা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে- এমন বক্তব্য দিয়ে পুলিশ আদালতের মাধ্যমে ১০ দিনের রিমান্ডে নেয় ফাহিমকে।

কিন্তু প্রথম রাতেই বহুল চর্বিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা যায় ফাহিম। পুলিশের দাবি, ‘সহযোগী’দের ধরতে ফাহিমকে নিয়ে তারা অভিযানে বের হয়েছিল। পথে ফাহিমের সঙ্গীরা তাদের গাড়িতে আক্রমণ করে এবং একপর্যায়ে গোলাগুলিতে মারা যান সন্দেহভাজন এই জঙ্গি।

পুলিশের এই বক্তব্যে প্রশ্ন প্রশ্ন তুলছেন মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিচালক নূর খান। ঢাকাটাইমসকে তিনি বলেন, “পুলিশের হেফাজতে যদি কেউ নিরাপদ না থাকে তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে?’ তিনি বলেন, “আমি ভেবেছিলাম পুলিশ ফাহিমের কাছ থেকে অনেক তথ্য পাবে। জঙ্গিদের সম্পর্কে আমরা পরিষ্কার ধারণা পাব। সে কারণে ফাহিম আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তার মাধ্যমে আমরা জঙ্গি সম্পর্কে অনেক দূর এগুতে পারতাম। কিন্তু সেটা হলো না। ২৪ ঘণ্টা পেরোতে না পেরোতেই তার ‘বন্ধুকযুদ্ধ’-এ মরতে হলো।

ফাহিমের মাধ্যমে বিভিন্ন কাজ করা যেত উল্লেখ করে নূর খান বলেন, ‘এ রকম একজন গুরুত্বপূর্ণ আসামির কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পর তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা যেত। পুলিশের বক্তব্যকে সত্য ধরলেও প্রশ্ন ওঠে, যথাযথ নিরাপত্তা ছাড়াই রিমান্ডের আসামিকে অভিযানে নেয়াটা কতটা যুক্তিযুক্ত।”

কোনো ঘটনা কিংবা কাউকে আড়াল করতে ফাহিমকে বন্দুকযুদ্ধের নামে হত্যা করা হয়েছে কি না- জনগণের কাছে এখন এটা এক বড় প্রশ্ন- এমন মন্তব্য করেন নূর খান। তিনি বলেন, ‘এ ঘটনার ফলে জনগণের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। একদিকে জঙ্গিরা নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে। অপর দিকে পুলিশও একই কাজ করছে। এতে জনগণ আর ভালো কাজে এগিয়ে আসবে না। তারা আস্থা-বিশ্বাস হারিয়ে ফেলবে। এসব চলতে থাকলে জঙ্গিবাদ প্রতিহত করার চেষ্টা মূলত বুমেরাং হতে পারে।”

ফাহিমের ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছে বিএনপি। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহল কবির রিজভীর অভিযোগ, পুলিশ কাউকে আড়াল করতে বা কাউকে বাঁচাতে ফাহিমকে সরিয়ে দিয়েছে।

একের পর এক গুপ্তহত্যার ঘটনায় যখন জনমনে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে, তখন দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী ও বিএনপি এর জন্য একে-অন্যকে দায়ী করছে। সরকারি দলের অভিযোগ, বিএনপি জঙ্গিদের মদদ দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে। আর বিএনপির নেতাদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ বিদেশিদের আনুকূল্য পেতে জঙ্গি তৎপরতা উস্কে দিচ্ছে।

ফাহিমের মৃত্যুর পর বিএনপির নেতা রিজভী আবারও পুরনো অভিযোগ তুলে ধরলেন। তিনি বলেন, ‘ফাহিম জঙ্গি কি না বা তার সঙ্গে আরও কেউ আছে কি না, জিজ্ঞাসাবাদে তা বের হয়ে আসত। তার আগেই তাকে হত্যা করা হলো। আসল ঘটনা আড়াল করতেই রিমান্ডে থাকা ফাইজুল্লাহ ফাহিমকে ক্রসফায়ারে দেয়া হয়েছে। হয়তো ফাহিম এমন কোনো তথ্য দিয়েছে যাতে সরকার বিব্রত হয়। সে কারণেই তাকে ক্রসফায়ারে দেয়া হলো।”

তবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি ঢাকাটাইমসকে বলেন, “বিএনপি নিজেদের বাঁচাতে নানা কথা বলছে। তাদের সঙ্গে যে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা আছে, এটা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।”

আওয়ামী লীগের একজন কেন্দ্রীয় নেতা অবশ্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকাটাইমসকে বলেন, বন্দুকযুদ্ধে ফাহিমের মৃত্যুর বিষয়টি সরকারের জন্য বিব্রতকর হয়েছে। তিনি বলেন, “রিমান্ডে নেয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাকে ক্রসফায়ারে দেয়া হলো। এটা প্রশ্নের উদ্রেক করাই স্বাভাবিক।”

মাদারীপুরের পুলিশ সুপার সারোয়ার হোসেন অবশ্য বলেছেন, ফাহিমের মৃত্যুর পেছনে তাদের কোনো হাত ছিল না। তিনি বলেন, “কীভাবে এটি হয়েছে তা সবাই দেখেছে। আমাদের ওপর আক্রমণ হয়েছে, আমাদের লোকজন আহতও হয়েছে।”

জঙ্গি তৎপরতার বিষয়ে ফাহিম পুলিশকে বেশ কিছু তথ্য দিয়েছেন জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তবে ফাহিম কী তথ্য দিয়েছেন সে বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি তিনি। সৌজন্যে ঢাকাটাইমস

অন্যরা য়া পড়ছে...

Loading...



চেক

বিকল্পের সন্ধানে কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপনে দেরি হচ্ছে : ওবায়দুল কাদের

ঢাকা, ১৩ মে ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে কোটা …

স্যাটেলাইট মহাকাশে ঘোরায় বিএনপির মাথাও ঘুরছে : মোহাম্মদ নাসিম

ফেনী, ১৩ মে ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণ হওয়ায় বিএনপির মাথাও ঘুরছে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

My title page contents