৮:২৪ অপরাহ্ণ - বুধবার, ২১ নভেম্বর , ২০১৮
Breaking News
Download http://bigtheme.net/joomla Free Templates Joomla! 3
Home / জরুরী সংবাদ / নিজামীর আপিলের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করলো আপিল বিভাগ : মৃত্যুদণ্ড বহাল

নিজামীর আপিলের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করলো আপিল বিভাগ : মৃত্যুদণ্ড বহাল

Nizami 04   29.10.14ঢাকা, ০৫ মে ২০১৬ (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): মুক্তিযুদ্ধকালে আলবদর বাহিনীর প্রধান ও বর্তমানে জামায়াতের আমীর মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে প্রদত্ত আপিলের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ আজ বেলা সাড়ে ১১টায় রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করে জনাকীর্ণ আদালতে আদেশ দেয়। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন- বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

রায় পুনর্বিবেচনার আবেদনের ওপর গত মঙ্গলবার উভয়পক্ষের শুনানি শেষ হয়। আজ ৫ মে বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করা হবে বলে দিন ধার্য করে দিয়েছিল আপিল বিভাগ। গত মঙ্গলবার নিজামীর পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন তার প্রধান আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। এরপর রায় বহাল রাখার পক্ষে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন।

গত ৩০ মার্চ রাষ্ট্রপক্ষ নিজামীর রিভিউ আবেদন দ্রুত শুনানির জন্য দিন ধার্যে আবেদন দাখিল করে। গত ১০ এপ্রিল বিষয়টি ৩ মে শুনানির জন্য দিন ধার্য করে দেয় আপিল বিভাগ। নিজামী মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আপিলেও মৃত্যুদন্ড বহালের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে গত ২৯ মার্চ আবেদন দায়ের করে। নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন বলেন, ৭০ পৃষ্ঠার মূল রিভিউর আবেদনের সঙ্গে মোট ২২৯ পৃষ্ঠার নথিপত্রে তার দন্ড থেকে খালাস চেয়ে ৪৬ টি যুক্তি তুলে ধরা হয়। নিজামীর মৃত্যুদন্ড বহালের পূর্ণাঙ্গ রায় গত ১৫ মার্চ প্রকাশ করে আপিল বিভাগ। রায় প্রকাশের পর নিয়ম অনুযায়ী ১৫ দিনের মধ্যে রিভিউ আবেদন দায়ের করার সুযোগ আসামীপক্ষ গ্রহণ করে।

নিজামীর মৃত্যুদন্ড বহাল রেখে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আনা আপিলের রায় গত ৬ জানুয়ারি ঘোষণা করে আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ জনাকীর্ণ আদালতে জামায়াতের এ শীর্ষ নেতার বিষয়ে রায়ের সংক্ষিপ্ত অংশ প্রকাশ করেন। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন- বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। রায় প্রদানকারী বিচারপতিদের স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে ১৫ মার্চ পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আসা এটি ষষ্ঠ মামলা, যার রায় হল। আজ এ রায় রিভিউ’র আবেদনও নিষ্পত্তি হলো। এখন রায় কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানায় সংশ্লিষ্টরা।

ট্রাইব্যুনালের অন্যতম প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ বাসস’কে জানান, নিজামীকে বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ড এবং হত্যা-গণহত্যা ও ধর্ষণসহ সুপিরিয়র রেসপন্সিবিলিটির (ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়) ৮টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ৪টিতে মৃত্যুদন্ড ও ৪টিতে যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলে আজ ৩টিতে মৃত্যুদন্ড ও ২টিতে যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ বহাল রেখে সংক্ষিপ্ত রায় প্রকাশ করেছে আপিল বিভাগ। তিনটি অভিযোগে দন্ড থেকে থেকে তাকে খালাস দিয়েছে আপিল বিভাগ। এর মধ্যে একটিতে মৃত্যুদন্ড ও দু’টিতে যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। আপিলের রায় রিভিউর আবেদনও আজ খারিজ করে দিয়েছে আদালত।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধকালে যার পরিকল্পনা, নির্দেশনা ও নেতৃত্বে আলবদর বাহিনী বুদ্ধিজীবী হত্যার নীলনকশা বাস্তবায়ন করেছিল, সেই মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির রায় সর্বোচ্চ আদালতের চূড়ান্ত রায়েও বহাল রইল। তিনি বলেন, এ রায়ের মধ্য দিয়ে শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারিক অধ্যায় শেষ হলো। দেরীতে হলেও ন্যায়বিচার পেয়েছেন স্বজন হারানো মানুষ। দন্ড কার্যকর এখন সময়ের ব্যাপার।

এ রায়ের মাধ্যমে দেশের মন্ত্রিপরিষদে দায়িত্ব পালনকারী তৃতীয় কোন মন্ত্রী ’৭১-এ সংগঠিত মানবতাবতাবিরোধী অপরাধে সর্বোচ্চ দন্ড পেল। এর আগে সাবেক মন্ত্রী জামায়ায়াতের আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপি’র সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়েছে।

আজ রায় ঘোষণার সময় নিজামীর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, এডভোকেট এসএম শাহজাহান, অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল মামতাজ উদ্দিন ফকির ও মুরাদ রেজা। এছাড়াও আদালত কক্ষে বিপুল সংখ্যক আইনজীবী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটরগন ও ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সদস্যরা, দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমকর্মী, মামলার সাক্ষী, মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।

এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বাসস’কে বলেন, রায়ে প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। নিজামীর সর্বোচ্চ সাজার যে রায় আপিল বিভাগ দিয়েছে, তাতে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট। মুক্তিযুদ্ধকালে বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ড সীমাহীন অপরাধ বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসিই এ অপরাধের একমাত্র সাজা। ফাঁসি ছাড়া এর অন্য কোনো বিকল্প সাজা নেই। আলবদর বাহিনীর প্রধান নেতা নিজামীর বিরুদ্ধে আপিলের এ রায় দেশে আইনের শাসনের জন্য আরো একটি মাইলফলক। জেল কৃর্তপক্ষ সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রায় কার্যকরে পদক্ষেপ নিবে।

মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের প্রাক্কালে জাতির মেধাবী সন্তান বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ড এবং হত্যা-গণহত্যাসহ সুপিরিয়র রেসপন্সিবিলিটির (ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়) মোট চারটি অপরাধের দায়ে নিজামীর ফাঁসির আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। নিজামীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন আনীত মোট ১৬টি মানবতাবিরোধী অপরাধের মধ্যে ৮টি অর্থাৎ ১, ২, ৩, ৪, ৬, ৭, ৮ ও ১৬ নম্বর অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। এর মধ্যে চারটি অর্থাৎ সাঁথিয়া উপজেলার বাউশগাড়িসহ দু’টি গ্রামে প্রায় সাড়ে ৪শ’ মানুষকে গণহত্যা ও প্রায় ৩০-৪০ জন নারীকে ধর্ষণ (২ নম্বর অভিযোগ), করমজা গ্রামে ১০ জনকে গণহত্যা, একজনকে ধর্ষণসহ বাড়ি-ঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ (৪ নম্বর অভিযোগ), ধুলাউড়ি গ্রামে ৫২ জনকে গণহত্যা (৬ নম্বর অভিযোগ) এবং বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ড ও সুপিরিয়র রেসপন্সিবিলিটির (১৬ নম্বর অভিযোগ) দায়ে নিজামীকে ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়। অন্য চার অভিযোগ-পাবনা জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মাওলানা কছিমুদ্দিন হত্যা (১ নম্বর অভিযোগ), মোহাম্মদপুরের ফিজিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে পাকিস্তানি সেনা, রাজাকার ও আলবদর বাহিনীর ক্যাম্পে নিয়মিত যাতায়াত ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র (৩ নম্বর অভিযোগ), বৃশালিখা গ্রামের সোহরাব আলী হত্যা (৭ নম্বর অভিযোগ) এবং রুমী, বদি, জালালসহ সাত গেরিলা যোদ্ধা হত্যার প্ররোচনার (৮ নম্বর অভিযোগ) দায়ে তাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়া হয়। ৫ ও ৯ থেকে ১৫ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এসব অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেয় ট্রাইব্যুনাল। আপিলের রায়ে ১, ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগ থেকে খালাস পায় নিজামী।

রায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল যা বলেছিল : ১৯৭১-এ নিজামী ছিল জামায়াতের তৎকালীন ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের সভাপতি। ছাত্রসংঘই পরে আলবদর বাহিনীতে পরিণত হয়, আর গুপ্তঘাতক আলবদর বাহিনীই মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে মিলে জাতির মেধাবী সন্তান বুদ্ধিজীবী নিধন চালায়। আলবদর বাহিনীর অপরাধ ও কৃতকর্মের দায়-দায়িত্ব নেতা হিসেবে নিজামীর ওপর বর্তায়। রায়ে বলা হয়, এটা বিশ্বাস করতেই কষ্ট হয় যে, স্বাধীনতার সক্রিয় বিরোধিতাকারী এমন এক ব্যক্তিকে এই রাষ্ট্রের মন্ত্রী করা হয়েছিল। তাকে মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করা ছিল মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদ ও সভ্রমহারা দুই লাখ নারীর গালে সরাসরি চপেটাঘাত। এ ধরনের লজ্জাজনক কাজ গোটা জাতির জন্য অবমাননাকর।

নিজামীকে মৃত্যুদন্ড দিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর রায় ঘোষণা করে ট্রাইব্যুনাল। এ রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ২৩ নভেম্বর আপিল দায়ের করে নিজামী।

ট্রাইব্যুনালে এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) আব্দুর রাজ্জাক খানসহ প্রসিকিউশনের পক্ষে মোট ২৬ জন এ মামলায় সাক্ষ্য দেয়। নিজামীর পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেয় তার ছেলে মো. নাজিবুর রহমানসহ মোট চারজন।

অন্যরা য়া পড়ছে...

Loading...



চেক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওমরাহ পালন

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার রাতে এখানে পবিত্র …

জনগণ ছেড়ে বিদেশিদের কাছে কেন : ঐক্যফ্রন্টকে ওবায়দুল কাদের

গাজীপুর, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): শুক্রবার বিকেলে গাজীপুরের চন্দ্রায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক চার লেনে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

My title page contents