১:৩৬ অপরাহ্ণ - রবিবার, ১৮ নভেম্বর , ২০১৮
Breaking News
Download http://bigtheme.net/joomla Free Templates Joomla! 3
Home / আন্তর্জাতিক / তেহরানের পারমাণবিক সমঝোতার সুফল বাংলাদেশও পাবে

তেহরানের পারমাণবিক সমঝোতার সুফল বাংলাদেশও পাবে

iran1   06.10.15স্পোর্টস ডেস্ক, ০৬ অক্টোবর ২০১৫ (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): ৬ বিশ্বশক্তির সঙ্গে তেহরানের পারমাণবিক সমঝোতার বৈশ্বিক প্রভাব কী হবে, তা নিয়ে সংবাদ জগতে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের অন্ত নেই। আলোচনার বাইরে নেই বাংলাদেশও। ঐতিহাসিক এ সমঝোতা বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক হবে এবং ইরানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরো জোরালো হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।সম্প্রতি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফের বাংলাদেশ সফরের মধ্য দিয়ে সে ইঙ্গিত আরো স্পষ্ট হয়েছে বলেও মনে করেন তারা।

এক যুগ ধরে দফায় দফায় আলোচনার পর গেল জুলাইয়ে চূড়ান্ত পারমাণবিক সমঝোতায় পৌঁছায় ইরান ও ছয় বিশ্বশক্তি। ‍চুক্তির আওতায়, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করে আনা এবং বিনিময়ে ইরানের ওপর আরোপিত পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ধীরে ধীরে শিথিল করার সিদ্ধান্ত হয়। এই সিদ্ধান্তে তেহরান-ঢাকা সম্পর্ক আরও জোরালো হবে বলে মনে করেন দুই বিশ্লেষক আতিফ জালাল আহমদ এবং মাইকেল কুজেলম্যান। কোন কোন খাতে ইরানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক জোরালো হবে তা নিয়ে আন্তর্জাতিক ঘটনাবরী বিষয়ক মার্কিন ম্যাগাজিন ন্যাশনাল ইন্টারেস্টে যৌথভাবে একটি প্রতিবেদন লিখেছেন তারা।

আতিফ জালাল আহমদ একজন বাংলাদেশি। বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ায় বিশেষ করে বাংলাদেশে দুর্নীতির উৎপত্তি নিয়ে একটি  গবেষণার কাজ করছেন তিনি। আর মাইকেল কুজেলম্যান উড্রো উইলসন ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর স্কলারস-এ দক্ষিণ এশিয়ার সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট হিসেবে কাজ করছেন।  দুই বিশ্লেষকের সেই প্রতিবেদনের আলোকে বাংলাদেশের ওপর চুক্তিটির প্রভাব বুঝতে চেয়েছেন।

কীভাবে চুক্তিটি বালাদেশ-ইরান সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে? বাংলাদেশের উপর পারমাণবিক চুক্তির প্রভাব কী হবে তা নিয়ে খুব সামান্যই আলোচনা চলছে বলে মনে করেন ওই দুই বিশ্লেষক। প্রতিবেদনে বলা হয়, বেশিরভাগসময় দুর্নীতি, বন্যা কিংবা রানা প্লাজার ভবন ধসের মত ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মত ঘটনাগুলোই বাংলাদেশের মিডিয়াগুলোর সংবাদে ঠাঁই পায়। আর এসব ঘটনা বাংলাদেশের বিবর্ণ এক ভাবমূর্তি তৈরি করে। তবে বাংলাদেশের ওপর ইরানের পারমাণবিক চুক্তির প্রভাব কী তা নিয়ে বিশ্লেষণের মাধ্যমে এসব হতাশাজনক খবরকে ভোলার সুযোগ মিলেছে বলে মনে করেন আতিফ এবং কুজেলম্যান। তারা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এরইমধ্যে ইরানের সঙ্গে ছয় শক্তিধর রাষ্ট্রের সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ‘পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ, বিস্তার রোধকরণ এবং পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারেই বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী।’

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০০৫ সালের তুলনায় ২০১৩ বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যে বাণিজ্য ৩৬ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। একইসময়ের মধ্যে ইরানে রপ্তানি ৩৮.০৯ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৭৫.৪১ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ ওই ৮ বছরের মধ্যে রপ্তানি ৯৮ শতাংশ বেড়েছে।

পরবর্তী তিন বছরে বাণিজ্য বাড়াতে ২০১৩ সালে সম্মত হয় ইরান-বাংলাদেশ জয়েন্ট ইকোনমিক কমিশন। সম্প্রতি ইরানের চেম্বার অব কমার্স, মাইনস, ইন্ডাস্ট্রিজ এবং এগ্রিকালচারের প্রধান দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য আরও বাড়াতে একটি ইরান-বাংলাদেশ ট্রেড কমিটি গঠনের আহ্বান জানান। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) প্রতিনিধিরা অর্থনৈতিক বন্ধন জোরালো করতে তেহরান যাওয়ার কথা রয়েছে। এফবিসিসিআই-এর সদস্যরা আশা করছেন পারমাণবিক সমঝোতার পর ইরানের ওপর পশ্চিমা বিশ্বের অবরোধ শিথিল করায় ইরানীয় অর্থনীতি থেকে ১শ বিলিয়ন ডলার আয় করা যাবে।

অন্যদিকে ইরানের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশকে ঘিরে তাদের আকাঙ্ক্ষা পরিষ্কার বলে মনে করেন আতিফ এবং কুজেলম্যান।। তারা বলেন, ইরান বাংলাদেশের একটি বড় অর্থনৈতিক অংশীদার হতে চায় এবং তাদের গুরুত্ব বাড়াতে চায়। আর বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বেড়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে সেই ইঙ্গিতই মিলছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে দ্য ন্যাশনাল ইন্টারেস্টের প্রতিবেদনে।

পূর্বের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ঝালাই : আতিফ ও কুজেলম্যানের মতে, বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ সুন্নিপন্থী এবং ইরানের বেশিরভাগ মানুষ শিয়াপন্থী হওয়ার পরও দু পক্ষের আলোচনায় কোন সমস্যা হয়নি। বাংলাদেশে ইরানি সংস্কৃতির উপস্থিতিও বেশ প্রবল। বাংলাদেশের সরকারি টেলিভিশনে ইরানি ছবি প্রদর্শিত হয়। পার্সি ভাষা থেকে অনুবাদকৃত বই দোকানগুলোতে পাওয়া যায়। ইরান পারমাণবিক সমঝোতাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে ইরানি সমন্বয় ভবিষ্যতে আরও বাড়বে বলে মনে করেন লেখকদ্বয়।

বিশ্লেষকদ্বয়ের মতে, বাংলাদেশে জারিফের সফর পুরনো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন অধ্যায় মাত্র। ঢাকার সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার মধ্য দিয়ে অন্যান্য দক্ষিণ এশীয় দেশের রাজধানী যেমন দিল্লি ও ইসলামাবাদ থেকে শুরু করে মালে, কলম্বো, থিম্পু এবং কাঠমুন্ডুতে ইরান প্রভাব তৈরির চেষ্টা করবে বলেই মনে করেন তারা।

তেল-গ্যাস খাতে সহযোগিতা : পারমাণবিক সমঝোতায় স্বাক্ষর করার পর গ্যাস পাইপলাইন বিস্তৃত করার ব্যাপারে আশাবাদ জানায় ইরান। শুধুমাত্র পাকিস্তান নয়, এ পাইপলাইন বাংলাদেশ পর্যন্ত নির্মাণ করার ব্যাপারে নিজেদের আগ্রহের কথা জানায় দেশটি। পাশাপাশি পাইপলাইন ঢাকা পর্যন্ত বিস্তৃত করার ব্যাপারে আলোচনা করতে সম্প্রতি বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানী এবং খনিজ সম্পদ মন্ত্রীকে তেহরান সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। এরইমধ্যে ইরান থেকে পরিশোধিত তেল আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য ‘বিশেষ মূল্য’ নির্ধারণ করারও ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। একইসঙ্গে বাংলাদেশের একমাত্র তেল শোধনাগার কেন্দ্র ইস্টার্ন রিফাইনারির পুনর্গঠন ও সক্ষমতা বাড়ানোর ব্যাপারে আলোচনা করারও অঙ্গীকার করেছে তেহরান। প্রকৃতপক্ষে ইস্টার্ন রিফাইনারি নির্মিত হওয়ার সময়ও সহায়তা করেছিল ইরান।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান বাংলাদেশের জ্বালানী শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বাড়াতে পারে কেবল তাই নয়, সিলেটের উত্তর পূর্বাঞ্চলে সন্ধান পাওয়া তেল ক্ষেত্র নিয়েও কাজ করতে পারবে দেশটি। বাংলাদেশের জ্বালানী খাতে ইরানের আগ্রহ বেড়েছে। ইরানের সমর্থন বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাস সংরক্ষণের ব্যাপারে সহায়তা করতে পারে। এ গ্যাসের মাধ্যমেই দেশের ৫৬ ভাগ জ্বালানী চাহিদা ‍পূরণ করা হয়।

আবারও শুরু হবে পাট বাণিজ্য : প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফের সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরে অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে প্রাধান্য পেয়েছে ইরানের সঙ্গে বাংলাদেশের পাটের বাণিজ্য আবারও শুরু করার বিষয়টি। পারমাণবিক কর্মসূটি বন্ধ করার শর্তে ইরানের ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর অবরোধ আরোপের পর এ বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছিল।

ঢাকা সফরে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, তার দেশ একটি নির্ভরযোগ্য জ্বালানী উৎস এবং বাংলাদেশের সে সুযোগ গ্রহণ করা উচিত। ইরানের ওপর আরোপ করা ‘অন্যায্য অবরোধ’ এখন তুলে নেয়ার পর দুদেশের সম্পর্ক জোরালো হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী ইরান সফরে যাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন জাভেদ। একইসঙ্গে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে বাংলাদেশকে সহায়তারও আশ্বাস দেন তিনি।

তেহরান চায় কাপড়-কৃষিজ পণ্য, বাংলাদেশ পাঠাতে চায় জনশক্তি : বিশ্লেষকদ্বয়ের মতে, এরইমধ্যে বাংলাদেশ থেকে কাপড় ও কৃষিজ পণ্য আমদানি করতে তেহরান আগ্রহী বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত। এদিকে ইরানে জনশক্তি রপ্তানি করতে আগ্রহী বাংলাদেশ। আর এতেও দুদেশের মধ্যে বাণিজ্যে গতি আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পারমাণবিক খাতে সহযোগিতা : তেল আর গ্যাস ছাড়াও ইরানের পারমাণবিক শক্তি খাতে আগ্রহ দেখিয়েছে বাংলাদেশ। এটি অবশ্য ইরানের জন্য একটি স্পর্শকাতর বিষয়। ২০০৭ সালে দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটানোর উদ্দেশ্যে পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনে ইরান সরকারের সহায়তা চেয়েছিল বাংলাদেশ সরকার। একইসময়ে দেশের দুটি ১২শ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের জন্য মস্কোর কাছ থেকেও প্রযুক্তি সহায়তাও চেয়েছিল বাংলাদেশ।

দ্রুত প্রসারমান অর্থনীতির প্রতি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ ইরান হয়তো বাংলাদেশে আরও পারমানবিক অবকাঠামো নির্মাণে এবং বাংলাদেশের জ্বালানী চাহিদা পূরণে সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করতে পারে। হয়তো ইরানের সঙ্গে বাংলাদেশের বিস্তৃত সমন্বয় পারমাণবিক জ্বালানি খাত পর্যন্ত গড়াবে। ঢাকা-তেহরানের যৌথতা হয়তো আরও জোরালো হয়ে উঠবে।

তেহরান এবং ঢাকার মধ্যে এ ধরনের পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়টি খুব একটা আশ্চর্যের নয় বলে মনে করেন আতিফ এবং কুজেলম্যান। তারা বলেন, ১৯৯৫ সালে ইরানের প্রেসিডেন্ট রাফসানজানির ঢাকা সফরে দুদেশের সম্পর্কে ঊর্ধ্বগতি নিয়ে এসেছিল। বাংলাদেশের একটি চিকিৎসক গোষ্ঠীকে ইরানে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছিল। ঢাকার ধানমন্ডিতে ইরানের একটি কালচারাল সেন্টারও রয়েছে। সূত্র: দ্য ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট

অন্যরা য়া পড়ছে...

Loading...



চেক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওমরাহ পালন

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার রাতে এখানে পবিত্র …

শুভ বিজয়া দশমীতে ভক্তদের ঢল

ঢাকা, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): আজ শুভ বিজয়া দশমী। একদিকে বিদায়ের সুর, অন্যদিকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

My title page contents