৪:০৫ অপরাহ্ণ - শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর , ২০১৮
Breaking News
Download http://bigtheme.net/joomla Free Templates Joomla! 3
Home / সারা দেশের খবর / ঝালকাঠি মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভূয়া সমিতির নামে অনুদান অর্ধেক ভাগাভাগির অভিযোগ

ঝালকাঠি মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভূয়া সমিতির নামে অনুদান অর্ধেক ভাগাভাগির অভিযোগ

JHALAKATI MO. JAKIR-PICআজমীর হোসেন তালুকদার, ঝালকাঠি, ০৫ অক্টোবর ২০১৫ (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের গ্রাম পর্যায় নারীদের সাবলম্বী ও উন্নয়নের লক্ষে বিভিন্ন অনুদানের বরাদ্দ প্রদানে ঝালকাঠির জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোঃ জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে সীমাহীন দূর্নীতি, লুটপাট, স্বেচ্ছাচারীতা ও জালজালিয়াতীর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ ঝালকাঠি জেলায় গত ২০১৪-১৫ সালে বাংলাদেশ মহিলা কল্যান পরিষদের বরাদ্দকৃত ৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা অনুদান বিতরনে ব্যাপক দূর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে সরেজমিন তদন্ত করে ভয়ংকর সব দূর্নীতির চিত্র বেড়িয়ে এসেছে।

       নীতিমালা অনুযায়ী বরাদ্দকৃত অনুদানের মাধ্যমে দরিদ্র, স্বামী পরিত্যক্তা, বিধবা, অবিবাহিতা ও প্রতিবন্ধি নারীদের উন্নয়ন ঘটিয়ে পরিবার ও সামাজের উন্নয়ন সহ তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও আত্মনির্ভশীল করাই মূলউদ্দেশ্য। অথচ ঝালকাঠিতে সরকারী নীতিমালা ও বিধিবিধান লংঘন করে সম্পূর্ন উল্টো পথে জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তার পছন্দের কিছু মহিলা ও শিশু কল্যান সমিতিকে নামে বরাদ্দকৃত অর্থ আধা-আধি ভাগে ও কিছু কাগজ-কলমে নামসর্বেস্ব সমিতিকে বরাদ্দ দেখিয়ে সম্পূর্ন অর্থ লোপাট করায় প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের প্রকৃত দরিদ্র-অসহায় নারী ও শিশু কল্যান সমিতি গুলো এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

   মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ে একটি সূত্র জানায়, অর্থবছরে বাংলাদেশ মহিলা কল্যান পরিষদের বরাদ্দকৃত ৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা দিয়ে জেলার ৪ উপজেলার ৩৪ টি সমিতির নামে অনুদান হিসাবে বিতরনকৃত ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা, সদর উপজেলার ২টি সমিতির নামে বিশেষ বরাদ্দ বাবদ ৭০ হাজার টাকা ও নলছিটি উপজেলার ২টি স্বেচ্ছাধীন সমিতির নামে ২০ হাজার টাকা অনুদান হিসাবে বিতরন করা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। উক্ত তালিকা সম্পর্কে সরেজমিনে অনুসন্ধান চালিয়ে নিবন্ধনকৃত এসব সমিতির অধিকাংশ ভূয়া, অস্থিত্বহীন ও সাইনবোর্ড সর্বেস্ব বলে কাগজকলমে কার্যক্রম থাকলেও বাস্তবে নেই বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

   সরেজমিনে অনুসন্ধান কালে বিশেষ অনুদান হিসাবে ৩৫ হাজার টাকা প্রাপ্ত বৈদারাপুর দুস্থঃ যুব ও মহিলা কল্যান সংস্থার ঠিকানা অনুযায়ী উক্ত এলাকায় কার্যালয়টি খুজতে গিয়ে এক ঘন্টা ঘুরেও কোন অস্থিত্ব পাওয়া যায়নি। এক পর্যায়ে বৈদারাপুর এলাকার মুদি দোকানদার ফজলুল হক জানান, এই এলাকায় উক্ত নামে কোন সমিতি বা সাইন বোর্ড আছে বলে আমি দেখিনি। এলাকার ইউপি সদস্য যুবলীগ নেতা মোঃ আল মামুনের কাছে এই সংস্থার অফিসটি কোথায় জানতে চাইলে বলেন, এ ধরনের ভূয়া সংস্থা সমিতির নামে সরকারী অনুদানের টাকা নিয়ে আসলে দূর্ণীতি-লুটপাট করা হচ্ছে। আমার এলাকায় এহেন কোন সংস্থার কার্যক্রম চলে এটা আপনাদের কাছেই প্রথম শুনলাম।

   বৈদারাপুরের বেশকয়েক বাড়ি খোঁজাখুজির পর কথিত এ সংস্থার সভানেত্রী পরিচয়ে স্থানীয় মজিবর মোল্লার স্ত্রী নাসিমা বেগম আবির্ভূত হন। তিনি সংস্থার সাইন বোর্ড থাকলেও একদিন আগে ছিড়ে পরে গেছে দাবী করলে সেই পরে যাওয়া সাইনবোর্ডটি দেখতে চাইলেও তা দেখাতে পারেননি। এর কার্যক্রম কি ও কোথায় চলে জানতে চাইলে সে পাশের বাড়ি দেখিয়ে বলেন, ওই বাড়িতে চলে কিন্তু সেখানে যেতে চাইলে বলেন এখন সেখানে কার্যক্রম চলেনা। এব্যাপারে তার স্বামী শহরের বাসষ্ট্যান্ডের দোকানদার মজিবর মোল্লার সাথে কথা বলতে বলেন। আর নাসিমার পাশের ঘরের এক মহিলা (নাম প্রকাশ না করার শর্তে) বলেন, ‘আমনে গো ধারে এই প্রেথম হোনলাম মহিলা সংস্থার কথা, এই বাড়ির আরো মাতারিরা আছে হেগো ধারে জিগান এরহমের কোন কামকাইজ এহানে চলে কিনা’।

   অন্যদিকে ৩৫ হাজার টাকা বিশেষ অনুদান প্রাপ্ত গুয়াটন নারী ও শিশু কল্যান সমিতির বিষয়ে সেখানে গেলে ব্যাবসায়ী আবুল কালাম জানান, এই সমিতির সভানেত্রী মৃত নুরুল হক মাষ্টারের স্ত্রী জেসমিন কলি আমার জায়গায় জোরপূর্বক একটা ঘরটি তোলে। এরপর ঘরটি তালাবদ্ধ রেখে ঘরের সাথে জেসমিন কলি সেলাই প্রশিক্ষন কেন্দ্র এবং গুয়াটন নারী ও শিশু কল্যান সমিতি নামে দুটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে সরাকারী অনুদান এনে আত্মসাত করছে। এর মাধ্যমে এলাকার অসহায়, বিধাব, প্রতিবন্ধি বা স্বামী পরিত্যাক্তা একজন নারীর কোন উপকার হয়েছে তেমন প্রমান নেই। আমার জায়গা থেকে অবৈধ এ ঘর অপসারন ও এ ঘর দেখিয়ে সরকারী অনুদানের আত্মসাতের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক বিচারের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দিবো। স্থানীয় কৃষক বাচ্চু ফকির জানান, তার স্বামী বিএনপি করায় জেসমিন কলি বিএনপির সমর্থন নিয়ে এলাকার মেম্বার হয়েছিল। এখন জেলা মহিলা কর্মকর্তার সাথে আতাঁত করে সে সরাকরী অনুদান হাতিয়ে লোপট করছে।

       গুয়াটন ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সভাপতি ও ইউপি সদস্য শেখ শাহজাহান জানায়, গুয়াটন নারী ও শিশু কল্যান সমিতিটি জেসমিন কিলির স্বামী করেছিল কিন্তু এ পর্যন্ত কোন কার্যক্রম দেখানি। কোন কার্যক্রম না থাকলেও স্বামী মৃত্যুর পর কলি এ ভূয়া সংগঠনের নামভাংগিয়ে সেলাই মেশিন, টিআর সহ বিভিন্ন সরকারী সাহায্য এনে আত্মসাত করছে। গুয়াটন নারী ও শিশু কল্যান সমিতির সভানেত্রী দাবী করে জেসমিন কলি বরিশালের এক সাংবাদিকের শাশুরি দাবী করে বলেন, সংগঠনের ঘরটি আমার বোনের ছেলের জায়গায়। নীতিমালা অনুযায়ী নিজস্ব জমিতে সংগঠনের ঘর না থাকলে বিশেষ অনুদানের বরাদ্দ দেয়ার বিধান নেই কিন্তু আপনি কিভাবে পেলেন জানতে চাইলে তিনি নিরব থাকেন।

   অনুদানপ্রাপ্ত ঝালকাঠি পৌরসভার পারকিফইত নগর মহিলা কল্যান সমিতি খোজ করতে গিয়ে জানা যায় আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই সমিতির পরিচয় দেয়া সভানেত্রী সেতারা বেগম তার বসত ঘরের সামনে একটি ভাড়া ঘর দেখিয়ে বলেন, এখানেই আমার কার্যক্রম চলে। কিন্তু প্রতিবছর এই অনুদান পেতে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার অফিসে অডিট খরচ বাবদ ২ হাজার টাকা এবং অফিস খরচ ৩ হাজার মোট পাঁচ হাজার টাকা কেটে রাখেন। তাছাড়া সাধারন অনুদানপ্রাপ্ত সমিতিগুলোর বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায় মহিলা কর্মকর্তার দেয়া এসব অনুদানের বেশিরভাগ সমিতিই ভূয়া-নামসর্বস্ব। এরকম তারুলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন পূর্বতারুলী মহিলা কল্যান সমিতির খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, এই নামে কোন সংগঠনের কার্যক্রম সম্পর্কে এলাকাবাসী কিছুই জানেনা।

     তবে বিদ্যালয় সংলগ্ন একিট বাড়ির তাল গাছের সাথে সমিতির একটি সাইনবোর্ড ঝুলে থাকতে দেখা যায়। এবিষয়ে এলাকার একাধিক মহিলা জানায়, আমাদের অনেকের নাম নিয়ে খাতায় উঠালেও এইসব অনুদানের বিষয়ে কখনো কিছুই জানানো হয়নি। আমরা কিছু চাইলে বলা হয় তোমরা খেয়ে পড়ে ভালই আছ তোমাদের কিছু দরকার নাই। অকিবহল একটি সূত্রমতে, ঝালকাঠি জেলা শহর ও তার পার্শবর্তী ইউনিয়নের বিশেষ অনুদান ও অনুদানপ্রাপ্ত নারী সংগঠনগুলোর চিত্র যেখানে এই, সেখানে অন্যান্য ইউনিয়নপর্যায়ের সংগঠনগুলোর তো কোন অস্থিত্ব যে নেই তাতো বলার অপেক্ষা রাখেনা।

       সরকারী নীতিমালা ও বিধিঅনুযায়ী অনুদান প্রাপ্তির যোগ্যতা বা শর্তা হিসাবে অদক্ষতা, দূর্নীতি, অব্যাবস্থাপনা সহ মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর প্রদত্ত ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচীর আওতায় ঋণ খেলাপী হিসেবে অভিযুক্ত সমিতিগুলো অনুদান প্রাপ্তির ক্ষেত্রে যোগ্য হবেনা। বিদেশী প্রতিষ্ঠান বা দাতা সংস্থার নিকট হতে অনুদান প্রাপ্ত সমিতি এই অনুদানের আওতায় পরবে না। সর্বপরি অনুদানের অর্থে পরিচালিত কার্যক্রমের কমপক্ষে ১০ ভাগ অর্থ সমিতির নিজস্ব তহবিল হতে মিটাতে সক্ষম সমিতিকে অনুদান প্রাপ্তিতে অগ্রাধিকার দেয়ার নির্দেশনা রয়েছে। সমিতির কার্যক্রমের মানের ভিত্বিতে এক বছরের ব্যাবধানে বিশেষ অনুদান প্রদান করা যাবে তবে বিশেষ অনুদান প্রাপ্তির জন্য সমিতির নিজস্ব জমিতে কার্যালয় পরিচালিত হতে হবে।

     তবে বাস্তবে এসব বিধিমালা বা নির্দেশনার ধার ধারেন না জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জাকির। বরাদ্দকৃত অনুদান থেকে অর্ধেক অর্থ প্রতিদান পেলে অদৃশ্য সংগঠনও সাদৃশ্য হয়ে যায়, অস্থিত্বহীন-নিস্কিৃয় সংগঠনও অনুদানপ্রাপ্তিতে সুযোগ্য-সক্রিয় বলে কাগজপত্রে দেখানো হয়। তাই জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোঃ জাকির হোসেনের এ ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জেলার অবহেলিত অসহায় নারী, জনপ্রতিনিধিসহ সাধারন মানুষ। তারা অভিযোগ করেছেন, সমিতির নামে অনুদান এনে কোন কাজ না হওয়ায় একদিকে সরকারের লাখ লাখ টাকার অনুদান লোপাট হচ্ছে, অন্যদিকে দেশের নারী সমাজের কল্যাণে দেয়া এই অর্থ কোনই কাজে আসছেনা।

     এ বিষয়ে ঝালকাঠি ডেভলপমেন্ট সোসাইটির পরিচালক শাহ্আলম খলিফা সহ কয়েকটি বেসরকারী উন্নয়ন সংগঠন প্রধান জানান, জেলার মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তর থেকে প্রতি বছর বিভিন্ন সংগঠনের নামে বরাদ্দকৃত অনুদান প্রকৃত সংগঠনকে না দিয়ে জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জাকির হোসেনের প্রস্তুতকৃত ভূয়া তলিকার মাধ্যমে বিতরন দেখিয়ে অর্ধেকের বেশী লুটপাট করে খাচ্ছে। এছাড়া দির্গ দিন ধরে ঝালকাঠি জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা থাকার সুবাদে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দূর্নীতি, অনুদান প্রদান ও কিশোর-কিশোরী ক্লাবের কার্যক্রমে বিতর্কিত দেশবাংলা ক্লিনিক মালিককে নিয়ে নারী কেলেংকারী সহ বহু অভিযোগ থাকলেও অজ্ঞাত কারনে তা তদন্ত করা হচ্ছেনা। তাই তাকে ঝালকাঠি থেকে সরিয়ে এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহনের জন্য উর্ধতন কর্তপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।

     এ ব্যাপারে জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জাকির হোসেনের কাছে এসব অনুদান কাদের, কিভাবে দেয়া হচ্ছে বা কাঙ্খিত নারীরা এ থেকে কি ভাবে উপকৃত হচ্ছে ? এসব অনুদান প্রদানের ক্ষেত্রে যাচাই বাছাই বা মাঠ পর্যায় সত্যতা নিশ্চিত করেন কিনা ? এবং সমিতি নির্বাচনে মন্ত্রনালয়ের নীতিমালা অনুসরন করে অনুদান বরাদ্দ দেয়া হয় কিনা ? জানতে চাইলে তিনি আকস্মিক ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি কোন কিছু জানার থাকলে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করতে নসিহাত করেন। এক পর্যায়ে তিনি এই সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ করা হলে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিককে দেখিয়ে দেয়ার হুমকি প্রদান করেন।

অন্যরা য়া পড়ছে...

Loading...



চেক

মন্ত্রী-প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে : মাহবুব-উল আলম হানিফ

কুষ্টিয়া, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): আজ শুক্রবার বেলা ১২টায় কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই রোডে …

রাজবাড়ী বালিয়াকান্দীর নলিয়া জামালপুর স্টেশনের অদুরে ট্রেনের ধাক্কায় নছিমনের তিন যাত্রী নিহত

রাজবাড়ী, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): আজ শুক্রবার দুপরে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর স্টেশনের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

My title page contents