১২:০৯ পূর্বাহ্ণ - সোমবার, ১৯ নভেম্বর , ২০১৮
Breaking News
Download http://bigtheme.net/joomla Free Templates Joomla! 3
Home / জরুরী সংবাদ / দেশে কর্মসংস্থান নেই এজন্য সাংবাদিকরা সাংবাদিকতা পেশায় আসছে : রওশন এরশাদ

দেশে কর্মসংস্থান নেই এজন্য সাংবাদিকরা সাংবাদিকতা পেশায় আসছে : রওশন এরশাদ

rowshon ersad    29.12.15ঢাকা, ২৯ ডিসেম্বর ২০১৫ (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): আজ মঙ্গলবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে দেশের চলমান রাজনৈতিক বিষয়ের ওপর সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ বলেছেন, দেশে কর্মসংস্থান নেই এজন্য সাংবাদিকরা সাংবাদিকতা পেশায় আসছে। এরপর সাংবাদিকদের প্রতিবাদ ও তোপের মুখে পড়েন তিনি।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা নিয়ে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রওশন বলেন, ‘দলের চেয়ারম্যান হিসেবে নেতা-কর্মীদের চাঙ্গা করতে বলেছেন।’

এরপর নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের ওপর হামলা হচ্ছে জাতীয় পার্টির প্রেসিডেন্টের মন্তব্য প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি  বলেন, ‘জাতীয় পার্টির সাথে সংঘর্য কোথাও হচ্ছে না। এতোগুলো ইলেক্ট্রনিক  মিডিয়া, এতগুলো সাংবাদিক একটা যদি খড়খুটা পড়ে আপনারা লিখে ফেলেন। আগে কিন্তু এতোগুলা মিডিয়া ছিল না ও সাংবাদিকও ছিল না। এতো খবর মানুষ জানতেও পারতো না। অনেক জায়গায় আগে হতো এখনও হয় কিন্তু খড়খুটা পড়ে আপনারা লিখে ফেলেন।’

rowshon ersad2    29.12.15সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য রওশনে এরশাদ বলেন, ‘এতোগুলো মিডিয়া এতগুলো খড়খুটা। কিছু পেলেই আপনারা লিখে দেন। আমাদের দেশ একটি ছোট দেশ। আমি হিসাব করে দেখেছি এখানে ৪০টা ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া। যেখানে ১০-১৫টা হলেই যথেষ্ট ছিল আর সেখানে ৪০টা। আপনাদের এখন সংবাদ চোখে পড়তে হয় না আপনারা খুঁজে খুঁজে নিউজ বের করেন। প্রত্যেক এলাকাতে যান আপনাদের করেসপন্ডেন্ট আছে। এখন তথ্যপ্রযুক্তির আধুনিক যুগ। তবে কিছু কিছু খারাপ দিকও আছে আবার ভালো দিকও আছে। আপনারা কিছু মনে কইরেন না। আমদের দেশে কর্মসংস্থান নাই বলে এই দশা হচ্ছে। আমাদের দেশে কর্মসংস্থান যদি থাকতো আপনারা এই পেশায় আসতেন না। আমি এটা বুঝি।’

এ সময় সাংবাদিকরা প্রতিবাদ জানালে রওশন এরশাদ বলেন, ‘না, না আমি বলতেছি কি শোনেন, সাংবাদিকতা ভালো, নোবেল জব। আমি আপনাদের ডিসকারেজ করছি না। কারণ, আমাদের ছেলে-পেলেরা ভালো চাকরি না পেয়ে বিপথে যাচ্ছে, ড্রাগ খাচ্ছে। আপনারা যে কজন সাংবাদিক আছেন অনেক ভালো করছেন। অনেক আননোটিস বিষয় উঠে আসছে। আপনারা যেকজন সাংবাদিক আছেন। ভালো বিষয়গুলো তুলে ধরছেন।’

এছাড়া জ্যেষ্ঠ একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করলে সেই প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে রওশন এরশাদ বলেন, ‘তুমি বেশি প্যাঁচাও। অনেক সিনিয়র হয়ে গেছ তো তাই তুমি বেশি প্যাঁচাও।’

নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী কম থাকা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা টিকতে পারেনি। কারণ, প্রার্থীর আর্থিক সচ্ছলতা নেই। অনেক সময় নমিনেশন নিয়েছে তবে পরে চিন্তা-ভাবনা করে প্রত্যাহার করে নেয়। তাই আমাদের প্রার্থীরা সংখ্যা কম।

নির্বাচনকে ঘিরে হামলা সংঘাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক জায়গায় অনেক ঘটনা ঘটে। শুধুমাত্র আমাদের দেশেই নয়, ভারতেও এমন ঘটনা ঘটছে। এছাড়া উনি (নির্বাচন কমিশনার) সেভাবেই প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছেন ও উনি আশা করি পারবেন।

তিনি বলেন, আমাদের দল তো ছোট দল। ক্ষমতা থাকার পরও অনেক বড় ছিল। অনেক কারণে ছোট হয়ে গেছে। নির্বাচনে মানুষ দাঁড়ায় তো জিতার জন্যে। কিন্তু সবাই তো জিততে পারে না। খেলতে গেলে তো হারা-জিতা থাকবেই। প্রতিযোগিতা তো সেরকমই।

এরপর নির্বাচন নিয়ে জাতীয় পার্টির আশংকা ও দশম সংসদের জাতীয় পার্টির প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তির বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনারা ৫ই জানুয়ারি নির্বাচনের আগে কি দেখেছিলেন? ৯ম সংসদের ছবিটা আপনাদের সামনে তুলে ধরেন। বিরোধী দল সংসদে আসতো না। এখন আমরা তো সংসদের আসছি। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী দলের ভূমিকা যা হওয়া দরকার আমরা তা করছি না? জনগণের কথা আগে কেউ বলেছে? আমি যা বলছি? জনগণ যা বলতে চায় সরকারকে তা কি আমি বলছি না। ভেজাল বিরোধী আইন, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন পদ্মা সেতুর ভিত্তি প্রস্তুর হয়েছে। আমি সেখানে নিজে গিয়েছি দেখতে।

এছাড়া জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আসন্ন পৌরভোটে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) উপর ‘আস্থা’ রাখতে না পারলেও বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ বলছেন, ইসি সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবে।

গত ২২ ডিসেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে জাতীয় পার্টি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সম্মেলনে সিইসির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের মেরুদণ্ড নাই। এ ব্যাপারে যেটুকু সন্দেহ ছিল আজ তা দৃঢ় হয়েছে। আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপিরা যেন পৌর নির্বাচনী প্রচারে অংশ না নেন সেজন্য একজন নির্বাচন কমিশনার প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চেয়েছেন। তার স্থান প্রধানমন্ত্রীর উপরে, এটা তিনি ভুলে গেছেন। তিনি তার সাংবিধানিক দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত হয়েছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে রওশন এরশাদ বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন প্রস্তুতি নিয়ে এগিয়েছে। আশা করি তারা সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবেন।’

দলের চেয়ারম্যানের সঙ্গে তার বক্তব্যের অমিল প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রওশন বলেন, ‘আসলে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে নেতা-কর্মীদের উৎসাহিত করতে অনেক কিছু বলতে হয়। পার্টি চাঙ্গা করতে সেগুলো বলেছেন। ইসিকে উনি প্রশ্নবিদ্ধ করেননি।’

এরশাদ আর রওশনের মধ্যে কোনটা দলের বক্তব্য, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘স্বাধীন নির্বাচন কমিশন প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চেয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটে উনি কথা বলেছেন। ইসিতো স্বাধীন তাহলে আবার সরকারের সহযোগিতা চাইবেন কেন।’

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য রওশন আরো বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে সুষ্ঠু-অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচন আশা করছি। জনগণ যাতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পাবে এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থীরা যাতে নির্বাচিত হতে পারে সেটাই আমাদের দাবি।’

২৩৪টি পৌরসভার মধ্যে জাতীয় পার্টি জাতীয় পার্টির ৭৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রয়েছেন।

দলীয় প্রার্থীদের সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের কোনো সংঘর্ষ হয়নি উল্লেখ করে রওশন বলেন, ‘যা হচ্ছে সেটা আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থীর, বিএনপির সঙ্গে তাদের বিদ্রোহী প্রার্থীর।’

জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের ভয়-ভীতি দেখানোর অভিযোগ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভয়-ভীতি যারা দিচ্ছে তারা সরকারের। যেহেতু তারা সরকারে আছে সেজন্য ভয় দেখাচ্ছে। প্রত্যেকটি নির্বাচনেই কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে।’

সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে মাঝপথে সরে দাঁড়াবেন কি-না জানতে চাইলে রওশন বলেন, ‘নির্বাচনে দাঁড়ায় কেন? জেতার জন্য। নির্বাচন থেকে সরবো না। নির্বাচনকে প্রহসন বলা যাবে না। এটা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া।’

এছাড়া মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা এবং শহীদ বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বক্তব্যর সমালোচনা করেন রওশন এরশাদ।

তিনি বলেন, ‘এতোদিন পর শহীদদের সংখ্যা নিয়ে কথা বলেন। তাহলে তো নিজের অস্তিত্বই নেই। সেটেলড ইস্যু নিয়ে বিতর্ক করা উচিত হয়নি। এটা দুঃখজনক। আমরা সবাইতো বাংলাদেশ চেয়েছি। ৩০ লাখ শহীদ নিয়ে কথা বলাটা সামান্য ব্যাপার না। এ ধরণের বক্তব্য আসা উচিত হয়নি।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলীয় প্রধান হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, কাজী ফিরোজ রশীদ, শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা, ফখরুল ইমাম, ইয়াহিয়া চৌধুরী।

অন্যরা য়া পড়ছে...

Loading...



চেক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওমরাহ পালন

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার রাতে এখানে পবিত্র …

জনগণ ছেড়ে বিদেশিদের কাছে কেন : ঐক্যফ্রন্টকে ওবায়দুল কাদের

গাজীপুর, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ইং (বাংলা-নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম): শুক্রবার বিকেলে গাজীপুরের চন্দ্রায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক চার লেনে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

My title page contents